advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

গার্ডিয়ানের সম্পাদকীয়
যেভাবে সাধারণ আফগানদের হেয় করছে তালেবান

অনলাইন ডেস্ক
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৮:৫৩ | আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২০:৩৩
ছবি : সংগৃহীত
advertisement

২০০১ সালের নভেম্বরে কাবুল পতনের ঘটনা ডানপন্থী ব্রিটিশ সংবাদপত্র ও ভাষ্যকাররা এমনভাবে উদযাপন করেছিলেন যাতে মনে হয়েছিল, ব্রিটিশ সাম্রাজ্য ফেরত পাওয়ার মতো কিছু ঘটেছে। ১১ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলার দুই মাস পর যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বিমান হামলার সহায়তায় নর্দান অ্যালিয়েন্স বাহিনী তালেবানদের ক্ষমতাচ্যুত করে। তখন থেকে ২০ বছর কেটে গেছে। কাবুলের আবারো পতন হয়েছে। কিন্তু এবারের বিজয়কে মূর্খতা ও স্বৈরাচারিতা হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে।

পশ্চিমের বিজয় ছিল সেরা, অস্থায়ী এবং আর এবারেরটা সবচেয়ে মন্দ ও অলীক। আফগানিস্তানকে নিজেদের ভাবমূর্তি অনুযায়ী পরিবর্তন করার সুপরিকল্পিত, অযৌক্তিক, উদ্ধত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তালেবানরা পুনরায় ক্ষমতায় ফিরে গিয়েছে। কিছু কিছু পদক্ষেপের দিকে লক্ষ্য করে বলা যায় পরিস্থিতি ২০০১ সালের চেয়েও ভয়াবহ। এখন সবার মুখে প্রশ্ন হচ্ছে-তালেবানরা কি বদলে গিয়েছে? আংশিকভাবে এটি নিজস্ব ভাবনার প্রকাশ। যদি এই ইসলামপন্থীরা তাদের পথ সংশোধন করে এবং নিজেদের মধ্যে প্রজ্ঞার দেখা পায় সেক্ষেত্রে অপমানিত মিত্রদের জন্য পরাজয়ের গ্লানি কিছুটা হলেও কমতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত যেসমস্ত নজির দেখা যাচ্ছে তাতে বলা যায় এর বিপরীতটিই সত্যি হতে যাচ্ছে। তালেবান নেতারা এখনো সেকেলে, নিপীড়নমূলক ধ্যান-ধারণা ধরে রেখেছে। তাদের শুধুমাত্র এখন ভালো জনসংযোগ রয়েছে।

কান্দাহারে নিযুক্ত আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো প্রতিবেদনসহ অন্যান্য প্রতিবেদনে যেসব তথ্য পাওয়া গিয়েছে তা গভীর উদ্বেগজনক। সাধারণ মানুষের বাড়ি-ঘর তল্লাশি, নির্বিচারে গ্রেপ্তার, হত্যা, মারধর, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা, ভয় দেখানো, যৌন হয়রানি এবং চুরি করা তালেবান সেনাদের নতুন কাজে পরিণত হয়েছে। তালেবান কমান্ডাররা তাদের সেনাদের এসব কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে না অথবা করতে পারছে না। গত সপ্তাহে তালেবানদের এই তত্ত্বাবধায়ক ‘সরকার’ পুরুষ সর্বস্ব মন্ত্রীপরিষদের ঘোষণা দেয়। যেখানে ১৯৯৬-২০০১ তালেবান প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত পশতুন কট্টরপন্থীরাও রয়েছেন। এদের মধ্যে অনেকের বিরুদ্ধেই জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। নতুন মন্ত্রীপরিষদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজুদ্দিন হাক্কানি একজন কুখ্যাত সন্ত্রাসী; যার মাথার জন্য এফবিআই ৫ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে। তালেবান দলের প্রতিষ্ঠাতার ছেলে মোল্লা মোহাম্মদ ওমরকে প্রতিরক্ষামন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। নারীদের পাশাপাশি হাজারা,তাজিক এবং অন্যান্য অ-পাশতুন জাতিগোষ্ঠির কাউকে এই মন্ত্রণালয়ে রাখা হয়নি। এছাড়া নারী বিষয়ক মন্ত্রনালয়কে পুরোপুরি বিলুপ্ত করা হয়েছে। তবে সাবেক ‘পূণ্যের প্রচার এবং অপকারিতা প্রতিরোধের মন্ত্রনালয়টি’ পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে।

সরকারি খাতে কর্মরত নারীরা চাকরি হারিয়েছেন, একক মায়েরা তাদের সন্তান। নারীরা সম্ভবত আর আগের মতো রাস্তায় একা হাটতে অথবা খেলাধুলা করতে পারবেন না। গত দুই দশকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন বাক স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে এখন গলা টিপে ধরা হচ্ছে। কাজ করার জন্য সাংবাদিকদের বেধড়ক পেটানো হচ্ছে। সঙ্গীত শিল্পীদের আর আগের মতো কাজ করতে দেয়া হবে না। তালেবানরা কি বদলে গিয়েছে? এ প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে স্পষ্ট মনে হচ্ছে। তবে সম্ভবত প্রশ্নটি ভুল।

ইসলামপন্থীরা দেশটিকে যেহেতু রসাতলে নিয়ে যাচ্ছে তাই প্রশ্নটি হতে পারে আফগানিস্তান কি বদলে গিয়েছে? সাধারন মানুষের মধ্যে সাহসিকতার সঙ্গে জনসম্মুখে অমানবিক কার্যক্রমের বিরোধিতা করার যে মনোভাব দেখা যাচ্ছে তা ২০০১ সালের আগে খুব কমই দেখা যেতো। তারা প্রতিরোধ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। আফগানরা বিশেষ করে তরুনদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠরা নিজেদের অধিকার সম্পর্কে জানে। তারা জানে স্বাধীনতা কেমন। শিক্ষা, পেশাজীবন, স্বাস্থ্যসেবা,ভ্রমন নিয়ে তাদের প্রত্যাশা রয়েছে এবং একটি আধুনিক,সংযুক্ত অর্থনীতিতে দক্ষতার সঙ্গে ব্যাংকের কার্যক্রম পরিচালিত হতো, মুদ্রার মূল্যমান ছিলো এবং দোকানগুলোয় খাবার ছিল। কোভিড এবং জাতীয় খরায় তারা রাষ্ট্রের সহায়তা প্রত্যাশা করে। এই সমস্ত অধিকার, প্রত্যাশা ধর্মান্ধ, অযোগ্য,দূর্ণীতিগ্রস্ত তালেবানদের শাসনের আমলে নির্মমভাবে শেষ হয়ে যাবে, যেখানে ইন্ধন যোগাবে চীন। তবে তালেবানরা কতোদিন ধরে চাবুক ও বন্দুকের সাহায্যে সবাইকে নিয়ন্ত্রন করতে পারবে? উত্তরাঞ্চলীয় পাঞ্জশীর উপত্যকা থেকে তালেবান বিরোধি বাহিনীর দেশব্যাপি আন্দোলনের ডাক দেয়ার পর গত সপ্তাহে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী কাবুল এবং অন্যান্য শহরের রাস্তায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এটি প্রাথমিক দিন। নর্দান অ্যালিয়েন্সের উত্তরাধিকারী জোট দ্য ন্যাশনাল রেসিসটেন্স ফ্রন্ট এবং এর নেতা আহমাদ মাসুদ মারাত্বক চাপের মধ্যে রয়েছেন। কিন্তু শাসকদের দাবি সত্ত্বেও এই জোট পরাজয় মেনে নিচ্ছে না এবং ক্রমবর্ধমান জনসমর্থন প্রত্যাশা করতেই পারে। ইতিহাস যদি পথ নির্দেশনা দেয় তাহলে বলা যায় আফগানিস্তান আরেকটি বিরামহীন বিদ্রোহের দেখা পেতে যাচ্ছে।

advertisement