advertisement
DARAZ
advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

স্বামীর মারধর-হুমকিতে দুই সন্তানসহ ঘরছাড়া গৃহবধূ

ইউসুফ সোহেল
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৬:২৩ পিএম | আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৭:৩২ পিএম
প্রতীকী ছবি
advertisement

১০ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতনের পর বাসা থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) লাইব্রেরিয়ান মো. আরিফুর রহমানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ঢাকার মূখ্য মহানগর হাকিম আদালতে (কোর্ট নম্বর-২) মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ শামিমা আক্তার আখি। তবে ওই মামলা তুলে নির্যাতিত ও তার স্বজনদের প্রতিনিয়ত হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আরিফুরের বিরুদ্ধে। নিরাপত্তাহীনতায় এখন দুই কন্যা সন্তানকে নিয়ে ঘরছাড়া ওই গৃহবধূ। চরম কষ্টে রাজধানীতে এক আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নিয়েছেন তিনি।

গত বুধবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের হাকিম আতিকুল ইসলাম ফৌজদারী কার্যবিধি ২০০ ধারায় বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন। আদালত মামলাটি তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি)। আগামী ৩১ অক্টোবর এই প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য রয়েছে।

কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান জানান, মাভাবিপ্রবির লাইব্রেরিয়ান মো. আরিফুর রহমানের বিরুদ্ধে স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুকের মামলার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

ভুক্তভোগী গৃহবধূ আখি জানান, ২০০৫ সালে আরিফুর রহমানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। সপরিবারে তারা টাঙ্গাইলের নিরালার মোড় এলাকায় থাকতেন। বিয়ের কয়েক বছর পর চাকরির পাশাপাশি ব্যবসার কথা বলে আখিকে তার বিধবা মায়ের কাছ থেকে যৌতুক হিসেবে ১০ লাখ টাকা এনে দিতে বলেন আরিফুর। টাকা না দিলে এক কাপড়ে বাসা থেকে তাড়িয়ে দেওয়ারও হুমকি দেন। এ ছাড়া আখিকে মারধর করতেন তিনি। দুই কন্যা সন্তানের ভবিৎষতের কথা চিন্তা করে সব নির্যাতন সহ্য করে আসছিলেন গৃহবধূ আখি।

এদিকে যৌতুকের নির্যাতনের মধ্যেই আখির ওপর নেমে আসে আরেক নির্যাতনের খড়গ। প্রবাসী এক নারীর সঙ্গে পরকীয়া সর্ম্পকে জড়ান স্বামী আরিফুর। এতে তাদের দাম্পত্য জীবনে আরও অশান্তি নেমে আসে। প্রায় রাতেই মাদক সেবন করে ঘরে ফিরতেন আরিফুর। এ নিয়ে কথা বললে আখিকে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ ও মারধর করতেন। পরকীয়া আর মাদকের জের ধরে দুই সন্তানের সঙ্গেও খারাপ আচরণ করতেন আরিফুর রহমান।

নির্যাতিতা আরও জানান, পরকীয়ায় বাধা দিলে একপর্যায়ে আরিফুর বলেন, ২০ লাখ টাকা দিলে প্রেমিকাকে ছেড়ে দিয়ে আখির সঙ্গে স্বাভাবিক জীবন-যাপন করবেন। যৌতুকের এত টাকা দেওয়ার সামর্থ্য আখির বিধবা মায়ের নেই জানালে ২০ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন আরিফুর। এই টাকা না দিলে আখিকে তালাক দেয়ারও হুমকি দেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রতিনিয়ত মনমালিন্য হত। কারণ ছাড়াই মারধর করা হতো আখিকে। গত ১১ ও ১৩ মে যৌতুকের টাকার জন্য আখিকে বেধড়ক মারধর করে বাসা থেকে বের করে দেন আরিফুর। দুই সন্তানকে নিয়ে রাজধানীর মিরপুরে এক আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নিলে সেখানেও এসে গত ৩০ জুলাই যৌতুকের ১০ লাখ টাকা চেয়ে মারধর করেন আখিকে। মামলা তুলে নিতে আরিফুরের হুমকি-ধমকিতে এখন দুই মেয়েকে নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন পার করছেন বলে গৃহবধু আখি জানিয়েছেন।

তবে এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করেছেন মাভাবিপ্রবির লাইব্রেরিয়ান আরিফুর রহমান। আজ শনিবার তিনি দৈনিক আমাদের সময়কে বলেন, ‘মামলার বিষয়ে আমি অবগত। তবে এই বিষয়ে আমার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কারও সঙ্গে কথা হয়নি। ১০ লাখ যৌতুক দাবিতে মারধর করে ঘর থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার যে অভিযোগ আমার স্ত্রী তুলেছেন, তা অসত্য। আমাদের মধ্যে এ ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি।’

advertisement