advertisement
DARAZ
advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

গিলকিট বালতিস্তানের ইউরেনিয়ামে সমৃদ্ধ হতে চাইছে পাকিস্তান

অনলাইন ডেস্ক
২০ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৯:৫৭ পিএম | আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৯:৫৭ পিএম
পাকিস্তানের গিলকিট অঞ্চল। ছবি : সংগৃহীত
advertisement

আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে পাকিস্তান গিলকিট বালতিস্তানের ইউরেনিয়াম উত্তোলন করে সমৃদ্ধ হওয়ার সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে। পাকিস্তান অধিকৃত এই অঞ্চলের স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক কর্মীরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গিলগিট বালতিস্তানের সূত্র জানায়, অ্যাটোমিক এনার্জি ম্যাটেরিয়াল সেন্টারের (এইএমসি) পাকিস্তানি বিশেষজ্ঞদের একটি দল হিলা হানজা নগর, স্কার্দু ও গিলকিট বালতিস্তানের ঘাইজার এলাকা পরিদর্শন করেছে। এ ছাড়া ইউরেনিয়াম অনুসন্ধানের জন্য খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের মালাকান্দ জেলার দারগাই গ্রামের কাছে অবস্থিত একটি সমৃদ্ধ সাইটও তারা পরিদর্শন করেছে।

এর আগে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়- গিলগিট বালতিস্তানের প্রাকৃতিক সম্পদ লুট করতে পাকিস্তান চীনের খনি কোম্পানিকে অবাধ সুযোগ দিয়েছিল। জানা যায়, স্বর্ণ, ইউরেনিয়াম এবং মলিবডেনাম উত্তোলন করতে পাকিস্তান সরকার গিলগিট বালতিস্তান ও খাইবার পাখতুনখাওয়ায় ২ হাজারেরও বেশি ইজারা চীনা কোম্পানিগুলোকে অবৈধভাবে দিয়েছে।

পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের (পিওকে) রাজনৈতিক কর্মী ও সাংবাদিক ডা. আমজাদ আইয়ুব মির্জা বলেন, ‘চীনা ভূতাত্ত্বিকরা খনি কর্পোরেশনের সদস্যদের সঙ্গে হুঞ্জা-নগর জেলায় ছিলেন। তাদের সঙ্গে ছিল পাকিস্তানের সামরিক ভূতত্ত্ববিদদের একটি দল। তারা একসঙ্গে হুঞ্জা উপত্যকা এবং পর্বতমালা পরিদর্শন করেছে। এসব এলাকা ইউরেনিয়াম ও অন্যান্য খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পারমাণবিক এবং মহাকাশ প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত হয়।’

আইয়ুব মির্জা আরও বলেন, ‘হুঞ্জার কিছু এলাকা যেমন চাঁপুরসান উপত্যকা আসিফ আলী জারদারি সরকার চীনের কাছে ইজারা দিয়েছিল। ইজারার তথ্য কখনো প্রকাশ্যে আনা হয়নি। যাহোক, চীনের টানেল নির্মাণ ও খনিজ অন্বেষণের কাজ চালিয়ে যাওয়ায় এসব এলাকাগুলো পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জন্যও অচল হয়ে পড়েছে। চীনের খনি শ্রমিকরাও উচ্চমানের তামা উত্তোলনের জন্য আস্তোর জেলায় ইজারা নিয়েছে।’

গিলগিট বালতিস্তানে ইউরেনিয়াম খননকারী প্রতিষ্ঠান হলো শাহজাদ ইন্টারন্যাশনাল। এটি এই অঞ্চলে ইজারা নেওয়া সবচেয়ে বড় বিদেশি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের একটি। প্রতিষ্ঠানগুলো খননের জন্য অশোধিত বা ত্রুটিপূর্ণ পদ্ধতি ও নির্বিচারে বিস্ফোরণ কৌশল প্রয়োগ করছে। চীনের তৈরি পেট্রলচালিত শিলা ড্রিলগুলো ভূপৃষ্ঠ ও ভূগর্ভস্থ উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হওয়ায় পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

এটি কেবল খনির অবকাঠামোর জন্যই ক্ষতিকর নয়, এটি অপরিবর্তনীয় পরিবেশগত ক্ষতি করে। খনি এলাকায় ব্যাপক বন উজাড়ও হচ্ছে। তা ছাড়া, পাকিস্তানও খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে ইউরেনিয়াম খনির অনুসন্ধান করছে। ‘নিউ গুডিখেল ইউরেনিয়াম মাইনিং প্রজেক্ট’র আওতায় দারগাই গ্রামটি ইউরেনিয়াম খননের জন্য পাকিস্তান পরমাণু শক্তি কমিশনের (পিএইসি) আগ্রহের বিষয় ছিল।

প্রকল্পটির আনুমানিক খরচ ২ হাজার ৪১৬ মিলিয়ন রুপি। প্রকল্পটি ২০২০ সাল থেকে ২০২৫ এর মধ্যে বাস্তবায়িত হওয়ার কথা ছিল। যাহোক, এটি বিভিন্ন কারণে বিলম্বিত হয়েছে। পরিকল্পনা অনুসারে, পাঁচ বছরের মধ্যে ১২৫টন ইউরেনিয়াম উৎপাদন করবে। এজন্য ইন সিটু লিচ (আইএসএল) প্রক্রিয়ায় ইউরেনিয়ামে সমৃদ্ধ হতে ৩৬টি কূপ খনন করা হবে। ইউরেনিয়াম অনুসন্ধান একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য উদ্বেগেরও বিষয়। সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাকে না জানিয়েই পাকিস্তান এসব অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।

সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া

advertisement