advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

সহিংসতা এড়ানো যায়নি স্থানীয় ভোটে, নিহত ২

অধিকাংশে নৌকা জয়ী # অনিয়মের কারণে পাঁচটি ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ বন্ধ # জাল ভোটের সময় আটক ৪ সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ ৬ জন # প্রাণহানির ঘটনা ছাড়া ভোট সুষ্ঠু হয়েছে : ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০২:৫৫ এএম
advertisement

প্রাণহানি, সহিংসতা, কেন্দ্র দখল, জাল ভোট ও বর্জনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হলো করোনার কারণে স্থগিত ১৬০টি ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) ভোটগ্রহণ। গতকাল সোমবার একই দিনে ৯টি পৌরসভাতেও ভোট হয়। বিএনপির বর্জন করা এই নির্বাচনে মূলত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় আওয়ামী লীগ মনোনীত এবং দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে। নিজেদের এ প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেই মহেশখালী ও কুতুবদিয়ায় সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন দুজন। আরও কয়েক জায়গায় ধাওয়া পাল্টা ও সংঘর্ষে আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। গতকাল রাত পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুসারে ১৬০টি ইউপির মধ্যে অধিকাংশেই নৌকার প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। ভোটের আগেই বাগেরহাট, চট্টগ্রাম ও খুলনায় ৪৩টি ইউপিতে আওয়ামী লীগ মনোনীতরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

এদিকে দুজনের প্রাণহানি ও কিছু পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে দাবি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটগ্রহণ শেষে বিকালে রাজধানীতে নির্বাচন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে ইসি সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকার বলেন, তারা যেসব তথ্য পেয়েছেন, তাতে তারা মনে করেন নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। তিনি বলেন, কিছু প্রার্থী ও সমর্থক খুবই ইমোশনাল হয়ে যান, তাদের কারণে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মহেশখালীতে দুই পক্ষের মধ্যে সহিংসতা ঘটেছে ও কুতুবদিয়ায় দুষ্কৃতকারীরা

ব্যালট ছিনতাই করতে গেছে; আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা ব্যবস্থা নিয়েছেন।

দুজন নিহত হওয়ার বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, এটা খুবই বেদনাদায়ক। এ ছাড়া আর সব জায়গায় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হয়েছে। অনিয়মের কারণে পাঁচটি ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ বন্ধ করা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইউপিতে ঘরে ঘরে নির্বাচনী আমেজ থাকে। প্রার্থীরা নিজেরাই দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। এতে অকস্মাৎ নিজেদের মধ্যে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে ও ঘটে যেতে পারে। সচিব বলেন, ইভিএমে ইউপিতে অন্তত ৫০ শতাংশ এবং পৌরসভায় ৫৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। ব্যালটের মাধ্যমে যেসব জায়গায় ভোট পড়েছে, তাতে ভোট পড়ার হার ৬৫ শতাংশের বেশি হবে।

মহেশখালী ও কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, সকাল সাড়ে ৯টায় মহেশখালীর কুতুবজুমের ৪ নম্বর ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটকেন্দ্রে গোলাগুলি ও ছুরিকাঘাতের ঘটনায় আবুল কালাম নামের একজন নিহত হয়েছেন। আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী শেখ কামালের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন খোকনের সমর্থকদের সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে প্রাণহানির এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ হন আরও ৪ জন।

দুপুর সাড়ে ১২টায় কুতুবদিয়ার বড়ঘোপ ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের পিলটকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে আবদুল হালিম নামে একজন নিহত হন। এতে ওই কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত রাখা হয়।

অন্যদিকে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উনছিপ্রাং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও লম্বারবিল এমদাদিয়া মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে ব্যালট ছিনতাইয়ের ঘটনায় সেখানে আর ভোটগ্রহণ করা হয়নি। কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম বলেন, বিচ্ছিন্ন দুটি ঘটনায় মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার দুই ইউনিয়নের দুটি কেন্দ্রে দুই যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, তালা উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর মক্তব কেন্দ্রের পাশে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা। এমন অভিযোগ করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মফিদুল হক লিটু। পরে র‌্যাব সদস্যরা ফাঁকা গুলি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এর আগে রবিবার রাতে কলারোয়া উপজেলার সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নে নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে একজন স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ও একজন ইউপি সদস্য প্রার্থীসহ কমপক্ষে ১৫ জন আহত হন। কলারোয়া উপজেলার কয়লা ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী রফিক মোল্লা অনিয়মের অভিযোগ এনে ভোট বর্জন করেন। এছাড়া কেড়াগাছি ইউনিয়নে ১নং কেন্দ্রে ভোট কাটার অভিযোগে ভোট গ্রহণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে কবিরহাট পৌরসভা, সুবর্ণচর ও হাতিয়া উপজেলার ১৩টি ইউপিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিনব্যাপী কয়েকটি কেন্দ্রে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় আহত হয়েছেন এক সংরক্ষিত ইউপি সদস্য প্রার্থীর স্বামী। এদিকে জাল ভোটে সহায়তার অভিযোগে হাতিয়ার দুটি কেন্দ্র থেকে ৪ জন প্রিজাইডিং ও দুজন পোলিং অফিসারকে আটক করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তারা হলেন, চরঈশ্বর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের হাতিয়া ইউনিয়ন মডেল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং মাহবুবুর রহমান ও মো. বেলায়েত হোসেন। জাহাজমারা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মোজাম্মেল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং আহাম্মদ রাফি, ছিদ্দিক উল্যা এবং ওই কেন্দ্রের পোলিং কর্মকর্তা মুন্নি বেগম ও ফারজানা আক্তার।

হাতিয়ার ইউপি নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম জানান, জাল ভোটে সহযোগিতা করার সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ৬ জনকে আটক করে। তাদের হাতিয়া থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

হাতিয়ায় কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে বুড়িরচর, চরঈশ্বর, সোনাদিয়া, জাহাজমারা ও নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ৫ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী এবং কবিরহাট পৌরসভার ৬ ও ৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীরা ভোট বর্জন করেন। এদের মধ্যে কয়েকজন ভোটের আগের দিন ও বাকিরা ভোট শুরুর কয়েক ঘন্টা পর বর্জনের ঘোষণা দেন।

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি জানান, নওয়াপাড়া পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে ভোট বর্জন করেছেন ইসলামী আন্দোলনের এইচ এম মহাসিন শেখ। গতকাল বিকাল ৩টায় ফেসবুক লাইভে নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে তিনি এ ঘোষণা দেন।

খুলনা প্রতিনিধি জানন, দিঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর ইউনিয়নে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ভাঙচুর এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। আহত হয়েছেন ৫ জন। স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ আনছার আলী এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাকির গাজীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন।

সন্দ্বীপ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি জানান, কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে। বৃষ্টির মধ্যে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ১২টি ইউনিয়নের ৪টিতে আগেই বিনা ভোটে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। বাকি ৮ ইউনিয়নের ৬টিতেও নৌকার প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।

#

advertisement
advertisement