advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

ইভ্যালির বিরুদ্ধে আরও মামলা হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৯:২২ এএম
advertisement

প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রাসেল এবং তার স্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে আরও মামলা হচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকায় দুটি এবং ঢাকার

বাইরে একটি মামলা হয়েছে। পুলিশ, ভুক্তভোগীসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তর আরও মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও ধানমন্ডি থানায় দুই ভুক্তভোগী ইভ্যালির বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এছাড়া যশোরে একটি মামলা হয়। সূত্র জানায়, সাইবার স্পেস ব্যবহার করে প্রতারণামূলক কর্মকা- চালানোর অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে পুলিশ মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এছাড়া অর্থ পাচারের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে মানি লন্ডারিং আইনেও মামলা হতে পারে। রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার ঘটনায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মামলা করা হবে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষ থেকেও এমনটাই জানা গেছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান জোনের সহকারী কমিশনার নিউটন দাস আমাদের সময়কে বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার তাদের আদালতে হাজির করা হবে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, গুলশান থানার মামলায় রাসেল ও শামীমাকে আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে দুজনের জন্য প্রশ্নগুলো ছিল একই। উত্তরে দুজনই একই রকম তথ্য দিয়েছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রাহকরা ইভ্যালির কাছে পাবেন ৭০০ কোটি টাকার বেশি। আর পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো পাবে আরও প্রায় ২৫০ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠান পরিচালনা ও অন্য বিষয় মূলত রাসেলই দেখতেন।

এদিকে গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ কোন খাতে ব্যবহার করা হয়েছে- এই প্রশ্নের সদুত্তর মেলেনি। তারা বলেছেন, গ্রাহকের অর্থ পণ্য কিনতেই ব্যবহার করা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে বিপুল অর্থের ঘাটতির কারণ তারা ব্যাখ্যা করেননি। তবে সাভারে রাসেলের কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি রয়েছে বলে জানা গেছে। আবার শুরু থেকেই লোকসানি প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির নানা খাতে ব্যয়ও ছিল অনেক বেশি। রাসেল ও শামীমা বেতন হিসেবেই নিতেন মাসে ১০ লাখ টাকা। প্রতিষ্ঠানের প্রচার চালাতেও ব্যয় করেছেন গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়া বিপুল অর্থ।

পুলিশ জানায়, গুলশান থানার মামলায় রাসেল-শামীমা দম্পতিকে আপাতত রিমান্ডে চাওয়া হবে কিনা সেই সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। তবে তাদের বিরুদ্ধে রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় মামলা রয়েছে। সেই মামলায় সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে রাখা হয়েছে। আজ সেই আবেদনের শুনানি হতে পারে।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র জানায়, রিমান্ডে রাসেল ও তার স্ত্রীকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, গ্রাহক ও সেলারদের কাছে পাওনা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। তাদের কাছ থেকে অনেক তথ্য পেয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি তথ্যগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সেগুলো নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। রিমান্ডের তৃতীয় দিন ইভ্যালির বর্তমান পরিস্থিতি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নেতিবাচক প্রতিবেদন, গ্রাহক ও সেলারদের অসন্তোষ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রাসেল বলেন, তার ব্যবসায়িক কৌশলে কিছু ভুল ছিল। পাশাপাশি করোনাকালীন লকডাউনের কারণে তিনি কিছুটা পিছিয়ে গেছেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতি ও গ্রাহকদের ক্ষোভের পেছনে চেয়ারম্যানের (তার স্ত্রী শামীমা) কোনো দায় নেই বলেও দাবি করেন রাসেল। তিনি বলেন, রিমান্ডে রাসেল দেনা-পাওনা ও ব্যবসার ধরনের বিষয়ে স্পেসিফিকভাবে (সুনির্দিষ্টভাবে) কিছু বলেননি। অনেক বিষয়ে তার উত্তর অস্পষ্ট ও বিভ্রান্তিকর ছিল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গুলশান থানার এসআই ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, রিমান্ডে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে তাদের হয়তো আবার রিমান্ডে আনা হতে পারে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত নয়। ঊর্ধ্বতন স্যাররা যে নির্দেশনা দিবেন, সে অনুযায়ী রাতের মধ্যেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে।

এর আগে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে রাজধানীর গুলশান থানায় মামলা হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই র‌্যাব তাদের মোহাম্মদপুরের বাসায় অভিযান চালায়। পরদিন বিকালে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আতিকুল ইসলামের আদালত রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমার ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

 

 

 

 

 

advertisement
advertisement