advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

কাশ্মীরে পুলিশ হত্যাকাণ্ড, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান ঘটছে

অনলাইন ডেস্ক
২২ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০১:৫৭ পিএম | আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০১:৫৭ পিএম
ছবি : এশিয়ান লাইট
advertisement

সম্প্রতি কাশ্মীরের শ্রীনগরে পুলিশের নিরস্ত্র উপপরিদর্শক (এসআই) মীর আরশাদকে সন্ত্রাসী হামলায় হত্যার ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছে। গত ৩১ বছর ধরে জঙ্গি হামলায় অসংখ্য এসব হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে নীরবতা ভাঙছে কুপওয়ারাস ভিলগাম জোনে। নিরপরাধ এসআইকে নৃশংসভাবে হত্যার পর সম্মিলিতভাবে নিন্দার ঝড় বইছে।

গত ১২ সেপ্টেম্বর একটি হাসপাতালে এক বন্দীর কোভিড পরীক্ষার জন্য তাকে সেখানে রেখে ফিরছিলেন এসআই মীর আরশাদ। পুলিশের পোশাক পরেছিলেন তিনি। তার কাছে কোনো অস্ত্রও ছিল না। হঠাৎ পেছন থেকে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জে তার ওপর আক্রমণ করে। সন্ত্রাসীরা তার মাথায় দুটি গুলি করে ঘটনাস্থলেই তাকে মেরে ফেলে।
ওই ঘটনায় আরশাদের গ্রামে তৈরি হয় শোকের মাতম। তার দাফনে অংশ নেওয়া গ্রামবাসী উচ্চস্বরে কাঁদতে থাকেন। এ রকম নিরীহ মানুষকে হত্যার ঘটনায় সবার প্রশ্ন ছিল, একজন তরুণ অবিবাহিত অফিসার, যিনি কারও ক্ষতি করেননি- তাকে কেন গুলি করে হত্যা করা হলো? এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেনি কেউ। আরশাদকে হত্যার পর তিন দিন ধরে পুরো কুপওয়ারা জেলায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

নিহত পুলিশ কর্মকর্তার বাবা আশরাফ মীর সরকারি হাইস্কুলে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। তিনি বারবার জিজ্ঞাসা করছিলেন, ‘আমার ছেলের কী দোষ ছিল? আমার ছেলেকে কেন আমার এবং আমার পরিবারের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হলো?’ কারও কোনো উত্তর নেই। যদিও স্থানীয়রা আশা করছিলেন, পুলিশের মহাপরিচালক দিলবাগ সিং এবং কাশ্মীরের আইজিপি বিজয় কুমার আশরাফের দাফন পরিদর্শন করবেন এবং এসব প্রশ্নের উত্তর দেবেন।

২০১৯ সালে এসআই হিসেবে যোগ দেন আরশাদ। অনেক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে তিনি জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশে বিভিন্ন পদে যোগদান করেছিলেন। কিন্তু সন্ত্রাসীর বন্দুক তার সব স্বপ্ন ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা ভেঙে দেয়।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতিসহ প্রায় সকল বিশিষ্ট নেতা শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ও সাবেক মন্ত্রী চৌধুরী মোহাম্মদ রমজান এবং মীর সাইফুল্লাহ, পিপলস কনফারেন্সের চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী সাজাদ লোন এবং পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির সোফি ইরফানও গত দুদিনে শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

প্রাক্তন মন্ত্রী এবং হান্দওয়ারার বিধায়ক সাজাদ লোন টুইট বার্তায় বলেছেন, ‘এসআই আরশাদ আহমেদ শহীদ হয়েছেন। আল্লাহ তাকে জান্নাত দান করুন। এটা বর্বর ঘটনা। এটা দুঃখজনক। কাশ্মীরী হিসেবে আমাদের একটি বার্তা পাঠানো দরকার। কাশ্মীরীদের জীবনটা গুরুত্বপূর্ণ।’

সাজ্জাদ লোন আরশাদের দাফনের একটি ভিডিও টুইট করে বলেন, ‘এটি একটি সন্ত্রাসী হামলাজনিত মৃত্যু। একটি হত্যা কেবলই একটি সংখ্যা নয়, প্রতিটি হত্যার পেছনে একটি ইতিহাস রয়েছে। একটি পরিবার, একটি ছেলে, একটি শোকাহত বাবা, শোকাহত মা এবং আরও অনেক কিছু। এই কফিনগুলো শুধু মৃতদেহই রাখে না, বরং নির্মমভাবে ধুলিস্যাৎ হওয়া স্বপ্নও রাখে।’

ওমর আবদুল্লাহ আরশাদের হত্যাকাণ্ডকে জঘন্য কাজ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘নির্বোধ সহিংসতার নৃশংস কাজ এটি। এসআই আরশাদ আহমদের হত্যার তীব্র নিন্দা জানাই। কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত নির্ভীক পুলিশ সদস্যের পরিবারের সদস্যদের প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা রয়েছে। তার আত্মা শান্তিতে থাকুক এবং পরিবার সামনের দিনগুলো মোকাবিলা করার শক্তি পাক।’

মেহবুবা মুফতি টুইট করেছেন, ‘আজ খানিয়ারে জঙ্গিদের হাতে নিহত জে অ্যান্ড কে পুলিশের উপপরিদর্শক আরশাদ আহমেদের মৃত্যুর খবর শুনে ব্যথিত। তার আত্মা শান্তিতে থাকুক এবং তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।’

অন্যান্য জেলাগুলোর মতো কুপওয়ারাও সশস্ত্র বিদ্রোহে গত ৩১ বছর ধরে শত শত হত্যার সাক্ষী হয়েছে। এখন পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য বেসামরিক হত্যাকাণ্ডের ফলে অধিকাংশ সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। তারা এসব ঘটনায় ব্যাপক নিন্দা জানায়। পাশাপাশি তথাকথিতভাবে উপত্যকার রাজনৈতিক ইতিহাস নির্ধারণে ব্যর্থ নেতারাও নিন্দা জানায়। সূত্র : এশিয়ান লাইট

advertisement