advertisement
DARAZ
advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

পাকিস্তানে তালেবান হামলার ঝুঁকিতে চীনা প্রকল্পগুলো

অনলাইন ডেস্ক
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০১:২৫ এএম | আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০১:২৫ এএম
প্রতীকী ছবি
advertisement

তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) বা পাকিস্তান তালেবানের বারবার হামলার কারণে পাকিস্তানে চলমান চীনা প্রকল্পগুলো নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে। সেই সঙ্গে ওই প্রকল্পগুলোতে নিযুক্ত চীনা প্রকৌশলীরাও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস।

গত জুলাইয়ে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে একটি বাসে বোমা হামলায় ৯ চীনা প্রকৌশলী নিহত হন। এ ঘটনার জেরে খাইবার-পাখতুনখাওয়া প্রদেশে দাসু নদীর উপর বাঁধ নির্মাণের কাজ বন্ধ করেছিল চীন। চীনের সিজিজিসি নামে এক প্রতিষ্ঠান ওই বাঁধ নির্মাণের দায়িত্বে ছিল। নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলে পাকিস্তানের বাঁধের কাজ অসমাপ্ত রেখে পাকিস্তান ত্যাগ করেছিল প্রতিষ্ঠানটির সব কর্মী। এই বাঁধ চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের সিপিইসি প্রকল্পের অংশ।

এ ছাড়া গত আগস্টে পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানের গওয়াদরে এক চীনা প্রকৌশলীর গাড়িকে লক্ষ্য করে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানো হয়। হামলায় ওই প্রকৌশলী নিহত হন। ওই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ‘চীনা নাগরিককে নিয়ে গাড়িবহরটি যে পথ দিয়ে যাচ্ছিল, তার কাছাকাছি একটি জেলেপাড়া থেকে এক অল্পবয়সী ছেলে দৌড়ে আসে এবং গাড়িবহরের ১৫ থেকে ২০ মিটার দূরে নিজেকে উড়িয়ে দেয়।’

এদিকে, আফগানিস্তানে তালেবানের বিজয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে পাকিস্তান তালেবান বা টিটিপি। সম্প্রতি, টিটিপি নেতা মুফতি ওয়ালী নূর মেহসুদ জাপানি সংবাদমাধ্যম মাইনিচি শিম্বুনের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমরা আমাদের মধ্যে নিবিড় সম্পর্কের ব্যাপারে আশাবাদী।’

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আফগানিস্তানের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি টিটিপি সদস্যদের উৎসাহিত করেছে। তারা আফগানিস্তানের অনুকরণে পাকিস্তানেও তথাকথিত খেলাফত কায়েক করতে চায়। ফুডান ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর আমেরিকান স্টাডিজের অধ্যাপক ঝ্যাং জিয়াডং গ্লোবাল টাইমসকে বলেন, ‘তালেবানের আফগানিস্তান দখলে লাভবান হওয়ার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে টিটিপি। কারণ, জাতিগতভাবে তারা উভয়েই পশতুন, যারা মনে করে- এই অঞ্চলে পশতুনরাই প্রকৃতপক্ষে ইসলামের প্রতিনিধিত্ব করে।’

গ্লোবাল টাইমস বলছে, গত রোববার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান বলেন, ‘পাকিস্তান সরকার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মত চীনও টিটিপিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে। যারা পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে বোমা হামলা চালিয়ে আসছে। এই মুখপাত্র অভিযোগ করেন, গত ২১ এপ্রিল কোয়েটায় বোমা হামলায় টিটিপি জড়িত। চীনা রাষ্ট্রদূত হোটেলে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ আগেই ওই হামলাটি চালানো হয়। টিটিপি পাকিস্তান সরকার একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচিত এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিশ্বাস করে যে এটি পাকিস্তানের শহরে একটি হোটেলে বোমা হামলা সহ অনেক সন্ত্রাসী হামলার পেছনে ছিল ২১ এপ্রিল কোয়েটা, যা ঘটেছিল যখন চীনা রাষ্ট্রদূত হোটেলে আসার কথা ছিল।

সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি ইনস্টিটিউটের গবেষণা বিভাগের পরিচালক কিয়ান ফেং বলেন, ‘বিশ্ব সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করার প্রচেষ্টা  চালাচ্ছে টিটিপি। কিয়ানকে উদ্ধৃত করে গ্লোবাল টাইমস জানিয়েছে, টিটিপি যে পাকিস্তানে চীনা নাগরিকদের লক্ষ্য করে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে, এই সত্যটি গোপন করার কোনো সুযোগ নেই।’ এদিকে ঝ্যাং ও ঝাও উভয়ই পরামর্শ দিয়েছেন, সিপিইসি প্রকল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দরকষাকষির মাধ্যমে ইসলামাবাদকে সঙ্গে নিয়ে আরও সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হবে বেইজিংকে।

সূত্র : এএনআই

advertisement