advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

সিলেটে এটিএমে লুট
চারজনের ৫ দিনের রিমান্ড, ঘুমে ছিল নিরাপত্তা কর্মীরা

সিলেট ব্যুরো ও ওসমানীনগর প্রতিনিধি
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৩:০১ এএম
advertisement

সিলেটের ওসমানীনগরে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) এটিএম বুথ ভেঙে গত ১২ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে ২৪ লাখের অধিক টাকা লুটের ঘটনায় চার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে চারজনকে আদালতে প্রেরণ করলে আদালত তাদের পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তে জানা গেছে, বুথে ও ব্যাংকে অস্ত্রধারী দুজন নিরাপত্তাকর্মী থাকলেও ছিল না তাদের মধ্যে সমন্বয়। তারা দুজনই রাতে ঘুমিয়ে ছিলেন।

৪ জনের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ এবং একজনকে গ্রেপ্তার করেছে সিলেট জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। গতকাল দুপুরে সিলেট জেলা পুলিশ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সিলেটের ওসমানীনগরের এটিএম বুথের উপরই ছিল ব্যাংক। লুট হওয়া এটিএম বুথের সিসি ক্যামেরাতে

ত্রুটি ছিল উল্লেখ করে পুলিশ সুপার বলেন, সিসি টিভি ফুটেজ দেখেই মনে হয়েছে তারা চারজনই পেশাদার ছিনতাইকারী। ঘটনার রাত ৮টার আগের কোনো সিসি টিভি ফুটেজ পাওয়া যায়নি। তবে তার পরের সব ফুটেজ সেখানে পাওয়া গেছে। সেখানে দুই নিরাপত্তাকর্মী থাকলেও তারা বেশিরভাগ সময়ই ঘুমে থাকতেন।

লুটকারীরা স্প্রে মেশিন নিয়ে বুথে প্রবেশ করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি বুথেই একটি হিডেন ক্যামেরা থাকে। সেটি কোথায় থাকে কেউ জানার কথা নয়। তবে ছিনতাইকারীরা সেই বিষয়টি জানত। তারা সেখানে প্রবেশ করে শুরুতেই হিডেন ক্যামেরায় স্প্রে মেরে সেটি ঝাপসা করে দেয়। পরে অন্য ক্যামেরাগুলো ঝাপসা করে দেয় কালো স্ট্রে মেরে।

আলোচিত এই ঘটনায় সিলেটের ওসমানীনগর থানায় মামলা করার পর থানা থেকে ডিএমপির সাইবার ইউনিটের কাছে সহযোগিতা চাওয়া হয়। সে মোতাবেক কাজ শুরু করে ডিএমপির সাইবার ইউনিট। এর পর ঢাকা থেকে নূর মোহাম্মদ নামে এক দর্জিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হবিগঞ্জের হাওর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় শামীম আহম্মেদ ও আব্দুল হালিমকে। পরে এই ঘটনায় জড়িত সাফিউদ্দিন জাহিরকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশ আরও জানায়, বুথ থেকে লুট হওয়া ২৪ লাখ ২৫ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া শামীমের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাওয়া গেছে চার লাখ টাকা। জড়িতদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে আরও ১০ লাখ ৮ হাজার টাকা। বাকি টাকা তারা জুয়া ও পারিবারিক কাজে খরচ করেছে। ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও শাবল জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন বলেন, গত রমজান মাসেই তারা এই লুটের পরিকল্পনা করে। তারা গাড়ি দিয়ে যাতায়াতের সময় এই স্থানটিকে পর্যবেক্ষণে রাখে। বড়ইগাছ দিয়ে বুথটি ঢাকা থাকায় তারা লুটের জন্য এই জায়গাটিকে বেঁছে নেয়। এই ঘটনায় জড়িত গ্রেপ্তার হওয়া শামীম দুবাই ও ওমান প্রবাসী ছিলেন।

advertisement
advertisement