advertisement
DARAZ
advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

মাঝখানে কেটে গেছে ৭০ বছর
শৈশবে হারানো কুদ্দুস বৃদ্ধ হয়ে ফিরছেন মায়ের কোলে

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৩:০৯ এএম
আপডেট: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৩:০৯ এএম
advertisement

 

আবদুল কুদ্দুস মুন্সি তখন ১০ বছরের শিশু। ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে চাচার সঙ্গে রাজশাহীর বাগমারায় বেড়াতে এসে হারিয়ে যান। তখন থেকেই বাগমারা উপজেলার শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের বাড়ুইপাড়া গ্রামে বসবাস শুরু করেন। হারিয়ে যাওয়ার পর থেকে মাসহ পরিবারের সদস্যদের খুঁজে পেতে ব্যাকুল ছিলেন আবদুল কুদ্দুস। তিনি এখন ৮০ বছরের বৃদ্ধ। তবে সব সময় মনের মধ্যে লালন করেছেন একটি বাসনা। মৃত্যুর আগ মুহূর্তে হলেও যেন গর্ভধারিণী মাকে একনজর দেখে পরপারে পাড়ি জমাতে পারেন সৃষ্টিকর্তার কাছে এমনটাই মিনতি ছিল তার। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে যেন পূর্ণ হলো তার অভিপ্রায়। হারিয়ে যাওয়ার ৭০ বছর পর আজ শনিবার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাড্ডা গ্রামে যাচ্ছেন আবদুল কুদ্দুস। চলতি
বছরের এপ্রিলে নিজের হারিয়ে যাওয়ার গল্প ফেসবুক পোস্টে লেখার মাধ্যমে মাসহ পরিবারকে খুঁজে পেয়েছেন আবদুল কুদ্দুস মুন্সি। ইতোমধ্যেই শত বছর বয়সী বৃদ্ধা মায়ের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেছেন তিনি। দীর্ঘ ৭০ বছর পর ভিডিও কলে মাকে দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন কুদ্দুস। আর তাই সবকিছু ঠিক থাকলে জনমদুখিনী মাকে বাস্তবে একনজর দেখতেই সপরিবারে আজ শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যাচ্ছেন তিনি।
জানা গেছে শৈশবে রাজশাহীর বাগমারা এলাকায় এসে হারিয়ে যাওয়ার পর থেকে উপজেলার বাড়ুইপাড়া গ্রামে বসবাস শুরু করেন তিনি। হারিয়ে যাওয়ার পর থেকেই প্রতিনিয়ত নিজের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করে যান কুদ্দুস। তবে পরিবারের সন্ধান মেলেনি। অবশেষে গেল এপ্রিলে আইয়ুব আলী নামে পরিচিত একজনের ফেসবুক আইডিতে হারিয়ে যাওয়ার গল্প বলেন কুদ্দুস। সেখানে তিনি শুধু বাবা-মা ও নিজ গ্রাম বাড্ডার নাম বলতে পারেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা বাড্ডা গ্রামের বাসিন্দারা সাড়া দিতে থাকেন। একপর্যায়ে কুদ্দুসকে খুঁজে পান তার পরিবারের সদস্যরা। আইয়ুব আলীর ওই ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া পোস্টে শেষ ইচ্ছা হিসেবে নিজের পরিবারের সঙ্গে একবার হলেও দেখা করার কথা লেখেন। ওই ফেসবুক পোস্ট দেশের বিভিন্ন গ্রুপ ও পেজে ভাইরাল হয়। একপর্যায়ের তার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক ভাতিজা ওই পোস্ট দেখে নিজের হারিয়ে যাওয়া চাচার কথা জানান পরিবারের কাছে। এর পর ফেসবুকে তাদের যোগাযোগ ও কথা হয়। এর পর নিজের সবকিছু খুলে বলে শেকড় খুঁজে পান তিনি।

advertisement