advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

শহীদ মিনারে নেওয়া হবে অভিনেতা ইনামুল হককে

বিনোদন প্রতিবেদক
১১ অক্টোবর ২০২১ ০৭:৪৩ পিএম | আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২১ ১২:৫৩ এএম
অভিনেতা-নাট্যকার ড. ইনামুল হক। পুরোনো ছবি
advertisement

সর্বস্তরের শ্রদ্ধাজ্ঞাপনে জন‌্য আগামীকাল মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হবে একুশে পদকপ্রাপ্ত অভিনেতা-নাট্যকার ড. ইনামুল হকের মরদেহ। সকাল সাড়ে ১০টায় সেখানে তাকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হবে। এরপর ইনামুল হককে নেওয়া হবে তার দীর্ঘ দিনের কর্মস্থল বুয়েটে। সেখানে জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে বাদ জোহর তাকে সমাহিত করা হবে।

আজ সোমবার সন্ধ্যায় প্রয়াতের জামাই অভিনেতা সাজু খাদেম বলেন, ‌‘আমরা বাবাকে শিল্পকলা নিয়ে যাচ্ছি। আজ রাতে বেইলী রোডের বাসাতেই মরদেহ রাখা হবে। আর আগামীকাল কয়েকটি আয়োজনের পর তাকে সমাহিত করা হবে।’

বর্ষীয়ান এ অভিনেতা সকালে নিজ বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলের ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।  জানা যায়, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মারা গেছেন।

ড. ইনামুল হকের জন্ম ১৯৪৩ সালের ২৯ মে ফেনী জেলার মটবী এলাকায়। তার বাবা ওবায়দুল হক ও মা রাজিয়া খাতুন। ফেনী পাইলট হাইস্কুল থেকে এসএসসি, ঢাকার নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি এবং পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ থেকে অনার্স ও এমএসসি সম্পন্ন করেন।

মানচেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি পিএইচডি লাভ করেন ইনামুল হক। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি দীর্ঘ ৪৩ বছর শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। নটরডেম কলেজে পড়াশোনাকালীন তিনি প্রথম মঞ্চে অভিনয় করেন। ফাদার গাঙ্গুলীর নির্দেশনায় তিনি ‘ভাড়াটে চাই’ নাটকে প্রথম অভিনয় করেন।

১৯৬৮ সালে বুয়েট ক্যাম্পাসেই ‘নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়’র যাত্রা শুরু হয়। এই দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন তিনি। এই দলের হয়ে প্রথম মঞ্চে অভিনয় করেন। নাটকটি ছিল আতাউর রহমানের নির্দেশনায় ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রো’। এরপর দলটির হয়ে ‘দেওয়ান গাজীর কিসসা’, ‘নূরুল দীনের সারা জীবন’সহ আরও বহু নাটকে অভিনয় করেন।

১৯৯৫ সালের তিনি এই দল থেকে বের হয়ে প্রতিষ্ঠা করেন ‘নাগরিক নাট্যাঙ্গন’। নিজ দলের জন্য প্রথম লেখা নাটকের নাম ‘গৃহবাসী’। ১৯৮৩ সালে লেখা হয় নাটকটি। ঢাকার মঞ্চে বেশ আলোচিত নাটক এটি।

এ পর্যন্ত টেলিভিশনের জন্য ৬০টি নাটক লিখেছেন তিনি। তার লেখা আলোচিত টিভি নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘সেইসব দিনগুলি’ (মুক্তিযুদ্ধের নাটক), ‘নির্জন সৈকতে’ ও ‘কে বা আপন কে বা পর’। গুণী এই অভিনেতার পুরো পরিবার নাটকে সম্পৃক্ত। তার স্ত্রী লাকী ইনামও কিংবদন্তি অভিনেত্রী। মেয়ে হৃদি হক নির্দেশক এবং অভিনেত্রী। তার জামাই অভিনেতা লিটু আনাম। ড. ইনামুলের অপর মেয়ে পৈত্রি হকের স্বামী সাজু খাদেম।

advertisement