advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

বন্ধুকে হারিয়ে অঝোরে কাঁদছেন আবুল হায়াত

বিনোদন প্রতিবেদক
১২ অক্টোবর ২০২১ ১২:৪৪ পিএম | আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২১ ০৬:৩৮ পিএম
বন্ধুকে হারিয়ে অঝোরে কাঁদছেন আবুল হায়াত
advertisement

বর্ষীয়ান অভিনেতা ড. ইনামুল হকের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন তার দীর্ঘদিনের বন্ধু কিংবদন্তি অভিনেতা আবুল হায়াত। ড. ইনামুল হকের সঙ্গে তার ৫৫ বছরের বন্ধুত্ব। হুট করে বন্ধুর চলে যাওয়া কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি। আজ মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বন্ধুর মরদেহ দেখে অঝোরে কাঁদতে শুরু করেন আবুল হায়াত।

বিদায় মঞ্চের ওপরে রাখা শ্রদ্ধাঞ্জলি খাতাটি আনমনে উল্টাচ্ছেন আবুল হায়াত। এরপর বিমর্ষ চোখে কিছুক্ষণ ঘাসের দিকে তাকিয়ে থাকেন। চোখ ঝাপসা হয়ে উঠলেও নিজেকে সামলে নেওয়া চেষ্টা করেন তিনি। তবে বেশিক্ষণ নয়। কোনো রকমে হাতের ফুলগুলো সপে অঝোরে কাঁদতে লাগলেন তিনি।

মেয়ে নাতাশা হায়াত বাবার পাশে এসে দাঁড়িয়ে কিছুটা সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেন। কিন্তু হলো না। গণমাধ্যমকর্মীরা কাছে যেতেই বললেন, ‘আর পারছি না। কিছুই বলার নেই।’ এরপর শ্রদ্ধাঞ্জলি মঞ্চের পেছনে এসে মিনিট দশেক বসলেন। যতক্ষণ ছিলেন ততক্ষণই তার চোখ দিয়ে ঝরলো বন্ধু হারানোর অশ্রু।

এদিকে, আজ বেলা ১১টায় নাট্যব্যক্তিত্ব ড. ইনামুল হকের মরদেহ শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আনা হয়। সেখানেই সর্বস্তরের জনগণ তাকে শ্রদ্ধা জানান। উপস্থিত হন- তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ, ঢাকা দক্ষিণের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডাক্তার জাফরুল্লাহ, অভিনেত্রী শাহনাজ খুশি, তানজিকা, নাতাশা হায়াত, মোমেনা চৌধুরী, বৃন্দাবন দাস মীর সাব্বির সহ অনেকে। শ্রদ্ধা নিবেদন আয়োজন করে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। উপস্থিত ছিলেন ড. ইনামুল হকের দুই জামাতা লিটু আনাম, সাজু খাদেম এবং দুই মেয়ে প্রৈতি হক ও হৃদি হক।

পারিবারিক সূত্র জানায়, শহীদ মিনারের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বাদ জোহর বনানী কবরস্থানে সমাহিত করা হবে এই নাট্যজনকে।

একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য অভিনেতা-নাট্যকার ড. ইনামুল হক গতকাল দুপুরে বেইলি রোডের নিজ বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর কাকরাইলের ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। জানা যায়, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মারা গেছেন।

উল্লেখ্য, ড. ইনামুল হকের অভিনয় জীবন শুরু হয় ১৯৬৮ সালে। তার প্রথম অভিনীত টেলিভিশন নাটক ‘মুখরা রমণী বশীকরণ’। এটি প্রযোজনা করেন মুস্তাফা মনোয়ার। নাট্যকার হিসেবে তার পথচলা শুরু ওই বছরই। তার প্রথম লেখা নাটকের নাম ‘অনেকদিনের একদিন’। আবদুল্লাহ আল মামুন নাটকটি প্রযোজনা করেছিলেন টেলিভিশনের জন্য।

এ পর্যন্ত টেলিভিশনের জন্য ৬০টি নাটক লিখেছেন তিনি। তার লেখা আলোচিত টিভি নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘সেইসব দিনগুলি’ (মুক্তিযুদ্ধের নাটক), ‘নির্জন সৈকতে’ ও ‘কে বা আপন কে বা পর’। মঞ্চের জন্য প্রথম লেখা নাটকের নাম ‘বিবাহ উৎসব’। এটি লিখেছিলেন উদীচীর জন্যে। তার নিজ দল নাগরিক নাট্যাঙ্গনের জন্য প্রথম লেখা নাটকের নাম ‘গৃহবাসী’। ১৯৮৩ সালে লেখা হয় নাটকটি। ঢাকার মঞ্চে বেশ আলোচিত নাটক এটি।

গুণী এই অভিনেতার পুরো পরিবারই নাটকের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তার স্ত্রী লাকী ইনামও কিংবদন্তি অভিনেত্রী। মেয়ে হৃদি হকও নির্দেশক এবং অভিনেত্রী। তার জামাই অভিনেতা লিটু আনাম। ড. ইনামুলের অপর মেয়ে প্রৈতি হকের স্বামী সাজু খাদেম।

নাটক-আত্মজীবনী লেখা, বই পড়া ছাড়াও বাসায় নাতি-নাতনিদের সঙ্গে গল্প করেও সময় পার করতেন ড. ইনামুল হক। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘পড়ার জন্য কতো বই রয়েছে! লেখার কতো কী বাকি! অনেক কিছুই বাকি রয়ে গেল!’

advertisement