advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

দুর্যোগ প্রশমন দিবসে প্রধানমন্ত্রী
যত দুর্যোগই আসুক কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৪ অক্টোবর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০২১ ০২:২৫ এএম
advertisement

সবাইকে দুর্যোগের ঝুঁকি বিষয়ে সতর্কতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যতই ঝুঁকি আসুক, দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে হবে। মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে হবে। দারিদ্র্যের হাত থেকে মানুষকে মুক্তি দিতে হবে। গতকাল বুধবার সকালে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) ৫০ বছর ও আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে দুর্যোগ

ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী।

জাতিসংঘের দুর্যোগ প্রশমন কার্যালয় (ইউএনডিআরআর) এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্বাচন করেছে- ‘দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে, কাজ করি একসাথে’। আর জাতীয়ভাবে প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘মুজিববর্ষের প্রতিশ্রুতি, জোরদার করি দুর্যোগ প্রস্তুতি।’ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোহসীন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

প্রধানমন্ত্রী তার পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের উদ্ধৃতি ‘আমাদের কেউ দাবায়ে রাখতে পারবা না’ তুলে ধরে বলেন, যত দুর্যোগই আসুক বাঙালিকে, বাংলাদেশকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না- এটাই হচ্ছে আমাদের কথা। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সারাবিশে^ আজকে দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবিলায় আদর্শ দেশ। এই সম্মান যেন বজায় থাকে সেজন্য সবাইকে সচেতন থাকতে হবে এবং এই ব্যবস্থা অব্যাহত রাখতে হবে।

১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর আওয়ামী লীগ সংসদে এ নিয়ে কথা তোলার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার উক্তি ‘যত মানুষ মরার কথা ছিল তত মানুষ মারা যায়নি’ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এ কথা জীবনে যেন আর শুনতে না হয় সেজন্য সবাইকে সচেতন থাকতে হবে এবং মানুষকে সচেতন করতে হবে।

সিপিপির স্বেচ্ছাসেবকদের দলে নারী স্বেচ্ছাসেবক অন্তর্ভুক্ত করায় এই কর্মসূচি অতীতের থেকে আরও বেশি কার্যকর হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জাতির পিতা ১৯৭৩ সালের ১ জুলাই দুর্যোগ ঝুঁঁঁকিহ্রাসে ‘ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি)’ গ্রহণ করেন; যা আজ বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। বঙ্গবন্ধু ঘূর্ণিঝড় থেকে জনগণের জানমাল রক্ষায় সেই সময় ১৭২টি উঁচু মাটির কিল্লা তৈরি করেন যা পরবর্তীকালে জনগণ ‘মুজিব কিল্লা’ নামকরণ করে। আমরা আগের কিল্লাগুলো সংস্কার ও নতুন করে ৩৭৮টি মুজিব কিল্লা নির্মাণ করছি।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সিপিপির আওতায় চারটি ইউনিটের উদ্বোধন করেন। এগুলো হচ্ছে- দ্রুত সাড়াদান ইউনিট, পানি থেকে উদ্ধার ইউনিট, অতি জোয়ার মনিটরিং ও সাড়াদান ইউনিট এবং খেলায় খেলায় দুর্যোগ প্রস্তুতি ইউনিট (স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে জনসচেতনতামূলক)। ‘দুর্যোগ সহনশীল বাংলাদেশ বিনির্মাণে শেখ হাসিনা’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী।

এ ছাড়া সিপিপির ৫০ বছরপূর্তি উপলক্ষে ৩ সংগঠক ও ৬ স্বেচ্ছাসেবক নারী-পুরুষকে আজীবন সম্মাননা জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

advertisement