advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের এপিএস ফোয়াদ গ্রেপ্তার

দুই হাজার কোটি টাকা পাচারসহ ৮ মামলার আসামি # ২ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ

ফরিদপুর প্রতিনিধি
১৪ অক্টোবর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০২১ ০২:২৫ এএম
advertisement

সাবেক এলজিআরডিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের এপিএস, ফরিদপুর জেলা যুবলীগের বহিষ্কৃত আহ্বায়ক এএইচএম ফোয়াদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ফোয়াদকে গতকাল আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এদিকে তার গ্রেপ্তারে খবর ছড়িয়ে পড়লে ফরিদপুর শহরের বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরণের ঘটনা ঘটেছে।

আলোচিত দুই হাজার কোটি টাকা পাচার মামলা এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল সাহার বাড়িতে হামলার দুই মামলায় ইতোমধ্যে ফোয়াদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং মামলাসহ মোট আটটি মামলা আছে।

ফোয়াদকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে ফরিদপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে গতকাল দুপুরে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল পাশা জানান, গত মঙ্গলবার গভীররাতে ঢাকা থেকে ফোয়াদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করেছিলেন। বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়েও তাকে ধরা সম্ভব হচ্ছিল না।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, গ্রেপ্তার ফোয়াদ দীর্ঘ ১০ বছর ধরে ফরিদপুর শহরে হেলমেট, হাতুড়ি বাহিনীসহ বিভিন্ন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করেন। এসব বাহিনীকে ব্যবহার করে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, বিভিন্ন হাট-বাজার ইজারা, বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ, জমি দখল, বাসস্ট্যান্ড ও সিএন্ডবি ঘাট দখল এবং পাসপোর্ট ও বিআরটিএ অফিসসহ সরকারি অফিসে ত্রাস সৃষ্টি করে অঢেল সম্পদ অর্জন করেছেন। তিনি ফরিদপুরের আলোচিত ছোটন হত্যা মামলার অন্যতম আসামি।

গতকাল বিকালে ফোয়াদকে ফরিদপুরের এক নম্বর আমলি আদালতে হাজির করে ছোটন হত্যা মামলাসহ অন্যান্য মামলায়

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। বিচারক রত্না সাহা দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার আলিমুজ্জামান আমাদের সময়কে বলেন, ফোয়াদের বিরুদ্বে আরও যেসব মামলা রয়েছে, সেগুলোতেও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে।

পুলিশ ও বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, ফরিদপুর জেলার নগরকান্দার উপজেলার বিলনালিয়া এলাকার স্বাধীনতাবিরোধী মোজদার চোকদারের ছেলে এএইচএম ফোয়াদ। কলেজে পড়াকালীন সময়ে তার ফরিদপুরে আগমন ঘটে। এসেই বিরোধীপন্থি দুই নেতার সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে রাজনীতি শুরু করেন। শুরু করেন বাড়ি বাড়ি প্রাইভেট পড়ানোর কাজ। এ সময় তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন।

২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ফোয়াদ দায়িত্ব পান তৎকালীন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের পিও পদে। এর পর তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। পরে মন্ত্রীর এপিএস সত্যজিৎ মুখার্জিকে পদ থেকে সরিয়ে সেই পদ বাগিয়ে নেন ফোয়াদ; হয়ে ওঠেন ফরিদপুরের একচ্ছত্র অধিপতি।

গত বছরের ১৭ জুন সন্ত্রাস ও দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে আটক হয় ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত, প্রেসক্লাবের সভাপতি ইমতিয়াজ হাসান রুবেলসহ আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন ক্ষমতাধর নেতা। এর পর থেকেই পলাতক ছিলেন ফোয়াদ।

রুবেল-বরকতের মামলার পরবর্তী শুনানি ৩১ অক্টোবর

ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক (বহিষ্কৃত) মো. সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি (বহিষ্কৃত) ইমতিয়াজ হোসেন রুবেল (৪৫) সহোদরসহ ১০ জনের দুই হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির মামলায় আগামী ৩১ অক্টোবর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত। গতকাল ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশ এ তারিখ ঠিক করেন।

এদিন পলাতক ৬ আসামির বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার পুলিশ প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় আদালত আগামী ৩১ অক্টোবর পুলিশ প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী দিন ঠিক করেছেন।

এ ছয় আসামিরা হলেন- সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের এপিএস এএইচএম ফুয়াদ, ফাহাদ বিন শাহীন, কামরুল হাসান ডেবিট, মোহাম্মাদ আলী মিনার, তারিকুল ইসলাম নাছির ও খন্দকার সয়েস্তা হোসেন বাবর। এদের মধ্যে ফোয়াদ মঙ্গলবার রাতে গ্রেপ্তার হয়েছে।

মামলায় রুবেল, বরকত এবং ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার নাজমুল হাসান লেভী ও শহর যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসিবুর রহমান ফারহান কারাগারে রয়েছেন।

advertisement