advertisement
DARAZ
advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

আজ স্কুল শিক্ষার্থীদের পরীক্ষামূলক টিকাদান

মাসের শেষ দিকে ক্যাম্পেইন করে রাজধানীতে ৩০-৫০ হাজার টিকা দেওয়া হবে

রাশেদ রাব্বি
১৪ অক্টোবর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০২১ ১১:৫৩ এএম
advertisement

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে নিরাপদে রাখতে স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া শুরু হবে আজ বৃহস্পতিবার। ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা পাবে এই টিকা। মানিকগঞ্জের কর্নেল মালেক মেডিক্যাল কলেজে দুপুরে এই কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এ সময় মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব লোকমান হোসেন মিয়া এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলমও উপস্থিত থাকবেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, আপাতত শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে আজ টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ বা ট্রায়াল রান হবে। এ কার্যক্রমে ৫০ থেকে ১০০ শিক্ষার্থী টিকার আওতায় আসবে। এর পর তাদের ১০ থেতে ১৪ দিন পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণ করা হবে। সব ঠিক থাকলে চলতি মাসের শেষ দিকে রাজধানীতে বিশেষ ক্যাম্পেইন করে একদিনে ৩০ থেকে ৫০ হাজার শিক্ষার্থীকে দেওয়া হবে টিকা। ওই সময় ঢাকার বাইরের আরও ১৯ জেলার শিক্ষার্থীরাও টিকা পাবে। দেশে বর্তমানে ৩ ধরনের করোনা টিকা থাকলেও শিক্ষার্থীরা পাবে মার্কিন কোম্পানি ফাইজারের টিকা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সারাদেশের শিক্ষার্থীদের পর্যায়ক্রমে টিকাদানের আওতায় আনা হবে। প্রথমে রাজধানী ঢাকা এবং আরও ১৯ জেলার শিক্ষার্থীরা টিকা পাবে। কারণ ফাইজারের টিকা

সংরক্ষণের সুবিধা রয়েছে এসব জেলায়। পরে অন্যান্য জেলায় টিকা সংরক্ষণ সুবিধা নিশ্চিত হলে এবং টিকাদানকারীদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হলে সেখানেও কার্যক্রম শুরু করা হবে। যদিও এসব সম্পন্ন করতে কতদিন লাগবে সে বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

মন্ত্রণালয় সূত্রে আরও জানা গেছে, ঢাকায় যে ক্যাম্পেইন করা হবে, তার জন্য প্রাথমিকভাবে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্র ভেন্যু হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। সেখানে বুথ করে একদিনে ৩০ থেকে ৫০ হাজার শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়ার প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত পরিকল্পনায় এসব বিষয়ে সামান্য পরিবর্তন হতে পারে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ট্রায়াল রানের পর রাজধানীতে একদিনে বিপুল সংখ্যাক শিক্ষার্থীকে টিকা দিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে; কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে এখনো কিছু জানানো হয়নি। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে বঙ্গবন্ধু সম্মেলনকেন্দ্রে বিপুল শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নির্দেশে স্কুলগুলো ১২ থেকে ১৭ বছরের শিক্ষার্থীদের তালিকা করে কেন্দ্রে পাঠালে তাদের টিকা দেওয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা ১২ থেকে ১৭ বছর বসয়ী শিক্ষার্থীদের টিকাদান কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছি। মানিকগঞ্জ কর্নেল মালেক মেডিক্যাল কলেজে বৃহস্পতিবার এই কার্যক্রম উদ্বোধন করা হবে। যে কোনো টিকা দেওয়ার আগেই একটা ট্রায়াল রান করা হয়, এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রীর এলাকা থেকেই এই কার্যক্রম শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে স্থানীয় দুটি সরকারি স্কুলের ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের টিকা দেওয়া হবে। তারা ফাইজার টিকা পাবে। এই টিকা দেওয়ার পর ১০ থেকে ১৪ দিন পর্যবেক্ষণ করে ঢাকায় বড় আকারে টিকা কার্যক্রম শুরু করা হবে। এক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সংযুক্ত করা হবে। যেখানে সুবিধা রয়েছে সেখানে আগে দেওয়া হবে, যেখানে সুবিধা নেই সেখানে পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে।

এর আগে গত ১০ অক্টোবর স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, শিগগিরিই টিকা পাবে ১২ থেকে ১৭ বছরের শিক্ষার্থীরা। এসব শিক্ষার্থীকে ফাইজার ও মডার্নার টিকা দেওয়া হবে। টিকা পাওয়ার ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন অথবা স্কুল থেকে মনোনীত হতে হবে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়ার বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধানের সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা সংক্রমণরোধে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের (১২ থেকে ১৭ বছর) ফাইজার ও মডার্নার টিকা দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে। আমাদের কাছে এই মুহূর্তে ফাইজারের ৬০ লাখ টিকা মজুদ রয়েছে। দ্বিতীয় ডোজ সংরক্ষণ করে ৬০ লাখ টিকা ৩০ লাখ শিক্ষার্থীকে দেওয়া হবে। চলতি মাসে কোভ্যাক্স সুবিধা থেকে আরও ৭০ লাখ টিকা আসার কথা। এ ছাড়া গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশনসের (গ্যাভি) সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ১৮ বছরের নিচের শিশুদের জন্য তারাও টিকা দেবে বলে জানিয়েছে। এসব মাধ্যম থেকে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী টিকা এলে শিক্ষার্থীদের কার্যক্রমে কোনো ঘাটতি পড়বে না।

জানা গেছে, আজকের ট্রায়াল রান সফল হলে আগামীতে ঢাকার বাইরের ১৯ জেলায় যেসব কেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের ফাইজারের টিকা দেওয়া হবে সেগুলো নির্ধারণ করা হয়েছে। কেন্দ্রগুলো হলো- বরিশাল শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতাল, ভোলা জেলা সদর হাসপাতাল, ঝালকাঠি জেনারেল হাসপাতাল; চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল এবং বন্দর হাসপাতাল; চাঁদপুর সদর হাসপাতাল ও সিভিল সার্জন কার্যালয়; কুমিল্লা জেলা সদর হাসপাতাল; লক্ষ্মীপুর জেলা সদর হাসপাতাল; নোওয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল ও সিভিল সার্জন কার্যালয়; গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল; নরসিংদী সদর হাসপাতাল ও ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল; টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল; যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল; সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল; ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং এসকে হাসপাতাল; রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও পুলিশ হাসপাতাল; রংপুর মডেল নিয়মিত স্থায়ী টিকাদানকেন্দ্র; সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতাল; সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতাল। এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৮টি কেন্দ্র এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৮টি কেন্দ্রে ফাইজারের টিকা দেওয়া হবে।

মানিকগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জসহ আরও ২৬ জেলায় ফাইজারের টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এক্ষেত্রে ওইসব জেলার টিকাদান সম্পৃক্তদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিতে হবে। পাশাপাশি ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ১৬ কেন্দ্রের সঙ্গে জাতীয় অর্থপেডিক হাসপাতাল ও পুর্নবাসন কেন্দ্রে (পঙ্গু হাসপাতাল) চালু করা হবে ফাইজারের টিকাকেন্দ্র।

 

 

 

 

advertisement