advertisement
DARAZ
advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

আকাশের বিমান বানানোর গল্প
৯ ধরনের বিমান বানালেন মানবিকের ছাত্র আশির

তৈয়ব সুমন,চট্টগ্রাম ব্যুরো
১৪ অক্টোবর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০২১ ০৯:২৫ এএম
advertisement

ছোটবেলায় খেলনা বিমান নিয়ে খেলতেন আশির উদ্দিন আকাশ। খেলতে খেলতে ভাবতেন নিজেই একটি বিমান বানাবেন। আশিরের কখনো বিমানে চড়া হয়নি। শুধুই আকাশে ওড়া দেখেছেন। এতেই স্বপ্ন দেখতেন বিমান বানানোর। বিজ্ঞানের ছাত্র না হয়েও মাত্র ২১ বছর বয়সে আশির একে একে যুদ্ধবিমানসহ ৯টি মডেল ক্ষুদ্র (ডামি) বিামান বানিয়েছেন। যেগুলো চার কিলোমিটার গতিবেগে আকাশে ৩৫ মিনিট উড়তে পারে। তার স্বপ্ন একদিন বাংলাদেশেই যাত্রীবাহী বিমান বানাবেন। তার তৈরি বিমান ঘুরবে দেশ-বিদেশ। স্বপ্নবাজ এ তরুণের বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপকূলীয় পূঁইছড়ি ইউনিয়নের মাঝেরপাড়া গ্রামে। বাবা শাহাব উদ্দিন। ২০১৫ সালে বাঁশখালী পূঁইছড়ি ইজ্জতিয়া উচ্চবিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে এসএসসি ও ২০১৭ সালে বাঁশখালী মাস্টার নজির আহমদ ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। বর্তমানে তিনি একটি বেসরকারি পলিটেকনিক কলেজে ইলেকট্রিক্যাল বিষয়ে ডিপ্লোমা পড়ছেন। আশির বলেন, ২০১৮ সালে শুধু মনের জোরে প্রথম তৈরি করেন বিমানের মডেল। এর পর একে একে তৈরি করে চলেছেন যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার, ড্রোন ও স্পিডবোট। তার একটি ছোট গবেষণাগার রয়েছে। সেখান থেকে তিনি বিভিন্ন ডিজাইনের বিমান, বোয়িং হেলিকপ্টার, স্পিডবোট তৈরি করেন এবং রিমোট কন্ট্রোলের সাহায্যে তা ওড়ান আকাশে। তার বড় আশা, সরকারি সহযোগিতা পেলে বড় গবেষণাগার গড়ে তুলবেন। হাত খরচের টাকা দিয়ে নানা ধরনের ইলেকট্রনিক জিনিসপত্র কিনে সেগুলো দিয়ে বিমান বানান। অনেকবার নষ্ট হয়েছে তার বানানো বিমান। পরিবারের উৎসাহে আবার শুরু করেন বিমান বানানোর কাজ। এর পর একে একে ক্ষুদ্র আকারে বানাতে সক্ষম হন নানা মডেলের বিমান। যেগুলোর মধ্যে রয়েছে ড্রিম লাইনার ৭৮৭, ইউএস বাংলা, এমকিউ

ড্রোন, এমআইডি ২৯, হেলিকপ্টার, এয়ার বোট, এলউইন ইঞ্জিন, ড্রিল মেসটন ও ওয়াথার পাম্প। সেগুলো পরীক্ষামূলকভাবে বাড়ির আশপাশে চালিয়ে সফলতা পেয়েছেন। তার এখন একটাই স্বপ্ন, যাত্রীবাহী বিমান বানানো। সে বিমানে নিজেও যাত্রী হয়ে ঘোরার স্বপ্ন আশিরের।

৭০ কেজি ওজন বহন করতে পারে এমন বিমান বানানোর ইচ্ছার কথা জানিয়ে আশির বলেন, আগামীতে ৬ কেজি ওজনের মোটর দিয়ে বিমান তৈরি করবেন। বিমানটি ৬০-৭০ কেজি ওজন নিয়ে আকাশে উড়তে পারবে। এটি তৈরি করতে অনেক অর্থের প্রয়োজন। কেউ সহযোগিতা করলে ভবিষ্যতে তিনি আরও বড় বিমান আকাশে ওড়াতে সক্ষম হবেন। এ পর্যন্ত তিনি ৮০০ গ্রাম ওজনের বিমান বানিয়েছেন। এতে তার খরচ হয়েছে ১৪ হাজার টাকা। সময় লেগেছে সাত দিন। আশির বিমান ছাড়াও তৈরি করেছেন ড্রোন। যা দিয়ে অনায়াসে দেওয়া যাবে জরুরি সেবা। যেমন ক্ষেতে কীটনাশক ছিটানো, জরুরি ওষুধ ও রক্ত পৌঁছানোর মতো কাজ করা যাবে বলে দাবি আশিরের।

আশিরের বাবা শাহাব উদ্দিন বলেন, ‘তিন সন্তানের মধ্যে বড় আশির। প্রথম দিকে তার কর্মকা- দেখে আমি বিরক্ত হতাম। এখন আনন্দ পাই। তবে এ কাজে আরও সফল্য পেতে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। আশির এখন অনেকের কাছে ঈর্ষার পাত্র। তার তৈরি বিমান, যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার ও ড্রোন আকাশে উড়ছে আর পানিতে ভাসছে স্পিডবোট। তার এ সফলতার গল্প ইতোমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ও ইউটিউবে ছড়িয়ে পড়েছে।’

 

 

 

 

advertisement