advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

অপশক্তির অপকর্ম
বাহিনীর পাশাপাশি সচেতন মানুষের প্রতিরোধ প্রয়োজন

১৬ অক্টোবর ২০২১ ১২:০০ এএম
আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০২১ ১০:০৩ পিএম
advertisement

একসঙ্গে দশটি জেলার পূজাম-পে হামলা ও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় বোঝা যাচ্ছে একটি মহল দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টায় রয়েছে। আর মাত্র দেড় বছরের মাথায় পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন। এ নিয়ে অনেক মহলই এখন থেকে সরকারকে বিপর্যস্ত করতে চায়। চায় ব্যর্থতার দায়ভার দিতে। এতদিন সরকার কঠোর হাতে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রেখেছে। বর্তমান সরকার আসার পর থেকেই দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং জনমনে ভয়ভীতি ও অনাস্থা সৃষ্টির অনেক চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু শেখ হাসিনা তার রাষ্ট্রনায়কোচিত ভূমিকায় সব বাধাই ভালোভাবে মোকাবিলা করেছেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সার্বিকভাবে এগিয়ে চলেছে। গত কয়েক দিনে হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজাম-পে হামলার পেছনে এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভীতি সঞ্চারের চেষ্টা রয়েছে বলে মনে হয়। প্রধান বিরোধী দলসহ তাদের সহযোগী অনেক দলেরই সাম্প্রদায়িক ভূমিকার কারণে সংখ্যালঘু ভোটাররা অনেকটা বাধ্য হয়েই আওয়ামী লীগ ও তার জোট প্রার্থীদের ভোট দিয়ে থাকে। অনেক কেন্দ্রে সংখ্যালঘুদের ভোট জয়-পরাজয় নির্ধারণে বড় ভূমিকা পালন করে থাকে। এই বাস্তবতা বর্তমান হামলার পেছনে একটি কারণ হতে পারে।

দেশে জিহাদপন্থি উগ্র ইসলামি শক্তিও কার্যকর রয়েছে। জঙ্গিবিরোধী অভিযানের ফলে তাদের তৎপরতা স্তিমিত হলেও তারা যে এখনো নিষ্ক্রিয় হয়েছে এ কথা বলা যাবে না। মাঝে মাঝে এখনো অস্ত্রসহ জঙ্গিরা ধরাও পড়ছে। কারও কারও বড় আকারের নাশকতা পরিকল্পনারও কথাও জানা গেছে। এ ছাড়া গত কয়েক দশকে সমাজে সাম্প্রদায়িকতার চর্চাও বেড়েছে। আওয়ামী লীগের মতো ঘোষিত ধর্মসহিষ্ণু উদার মানবতাবাদী গণতান্ত্রিক দল ক্ষমতায় থাকলেও দলের খোদ নেতারাই জানেন যে, তাদের দলে সাম্প্রদায়িক মনোভাবের মানুষ কম নেই। সাধারণভাবে সমাজেও সাম্প্রদায়িকতা চর্চিত বিষয়। সংখ্যালঘুদের সহায়-সম্পদ লুণ্ঠন, জবরদখল নিত্যই ঘটছে। তা ছাড়া এখনো অর্পিত সম্পত্তির গ্লানি এবং অন্যায় বহমান রয়েছে, যার ভুক্তভোগী সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী। এই বাস্তবতায় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও সংখ্যালঘু জনগণ নিরাপদবোধ করে না, স্বস্তিতে জীবনযাপন করতে পারে না। এটাই পূজাম-পে হামলার মাধ্যমে একশ্রেণির অপশক্তি বুঝিয়ে দিতে চাইল।

আমাদের বুঝতে হবে যে, দেশে অপশক্তি রয়েছে এবং তাদের অপকর্ম করার শক্তিও রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিকল্পিত নিরাপত্তা কৌশল বাস্তবায়ন থাকা অবস্থায়ও তারা হামলা করতে পারে, দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি এবং সাধারণজনের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি ও সংখ্যালঘুদের ভয় দেখিয়ে দেশত্যাগে ঠেলে দেওয়ার মতো তৎপরতাও চালাতে পারে। এই জটিল মনস্তত্ত্ব ও অপরাধচেতনা থেকে সব মানুষকে বের করে আনা কঠিন। তবে সমাজের তরুণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ইতিবাচক মানসিকতা সৃষ্টি জরুরি। শিক্ষাব্যবস্থাকে মুক্তচিন্তা ও পরমতসহিষ্ণুতার গুণাবলি অর্জনের অনুকূল করেই সাজাতে হবে। তবেই আমরা হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান মিলেমিশে শান্তিতে বাস করতে পারব। নয়তো সোনার বাংলা স্বপ্নেই থাকবে, বাস্তবে অধরাই থেকে যাবে।

advertisement
advertisement