advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

পাঠকের লেখা
সিন্ডিকেট কারসাজি বন্ধ করা কি অসম্ভব

মোহাম্মদ এনামুল হক ফজলে রাব্বী
১৬ অক্টোবর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০২১ ১০:০৩ পিএম
advertisement

পেঁয়াজ নিয়ে আমাদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ এক পরিবর্তন ঘটে গেছে। আগে পেঁয়াজ কাটলেই চোখ থেকে পানি পড়ত, এখন দেখলেই পানি পড়ে। এ জন্য অবশ্য বাজারে যেতে হবে। আসলে পেঁয়াজ নিজেই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পণ্যে পরিণত হয়ে গেছে।

দেশে পেঁয়াজের সরবরাহ পর্যাপ্ত। এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হচ্ছে। পণ্যটি নিয়ে যাতে কারসাজি না হয়, এ জন্য এবার সরকারের পক্ষ থেকে আগেভাগে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি করছে। দাম যাতে সহনীয় থাকে, এ জন্য টিসিবির পক্ষ থেকে পণ্যটির ব্যাপক মজুদও গড়ে তোলা হয়েছে। গত দুই বছরের মতো এবারও পণ্যটি নিয়ে অসাধুরা কারসাজি শুরু করেছেন। দাম তারা বাড়িয়েই চলেছেন। রাজধানীর খুচরা বাজারে মাসের ব্যবধানে কেজিতে ২৫ টাকা বেড়ে পণ্যটি সর্বোচ্চ ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চট্টগ্রামেও এক মাসে কয়েক দফা দাম বেড়ে কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যটি কিনতে ভোক্তাদের বাড়তি ব্যয় করতে হচ্ছে। বিশেষ করে নি¤œআয়ের শ্রমজীবীরা অসহায়বোধ করছেন। করোনা পরিস্থিতিতে দরিদ্র মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। এমনিতে তারা খাদ্যগ্রহণের পরিমাণ বা ভোগ কমিয়ে দিয়েছেন। ভোগ কমার ফলে চাহিদাও কমে গেছে। পেঁয়াজের দাম কমা বা অন্ততপক্ষে স্থিতিশীল থাকার জন্য চাহিদা ও কমাই যথেষ্ট। কিন্তু এর দাম বাড়ছেই। যৌক্তিক কোনো কারণ ছাড়া দাম বাড়লে বুঝতে হবে কোথাও কোনো একটা গলদ আছে। সরকারকে এ গলদ খুঁজে বের করতে হবে। দাম বৃদ্ধির কারসাজির যাঁতাকল থেকে অসহায় মানুষকে যে কোনো উপায়েই হোক রক্ষা করতে হবে। এসব উত্তরণে সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানা গেছে, এবার দেশে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। তা গত কয়েক অর্থবছরের চেয়েও বেশি। সূত্র বলছে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে পেঁয়াজের ফলন হয়েছে ১৯ লাখ ৩০ হাজার টন। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ফলন হয়েছে ২১ লাখ ৩০ হাজার টন। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ফলন হয়েছে ২৩ লাখ ৫৩ হাজার টন। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ফলন হয়েছে ২৩ লাখ ৩০ হাজার টন। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ফলন হয়েছে ২৩ লাখ ৩০ হাজার টন। ২০১৯-২০ অর্থবছরে বেড়ে ফলন হয়েছে ২৫ লাখ ৬০ হাজার টন। এ ছাড়া সর্বশেষ ২০২০-২১ অর্থবছরে আরও বেড়ে পেঁয়াজের ফলন হয়েছে ৩৩ লাখ ৬২ হাজার টন।

অধিদপ্তর সূত্র মতে, দেশে পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ২৫ লাখ টন। সাধারণত স্থানীয়ভাবে উৎপাদন ও আমদানির মাধ্যমে পেঁয়াজের চাহিদা পূরণ করা হয়। ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে যে পরিমাণ পেঁয়াজ উৎপাদিত ও আমদানি করা হয়েছে, এতে সংকট হওয়ার কথা নয়। দাম বৃদ্ধিরও কথা নয়। অথচ পূর্ববর্তী বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় অসাধু ব্যবসায়ীরা কারসাজির মাধ্যমে এবারও পেঁয়াজের দাম নিয়ে অশুভ তৎপরতা শুরু করেছেন। তা কঠোরভাবে দমন করা উচিত বলে মনে করি। প্রতিবছর নানা অজুহাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দিয়ে ভোক্তাদের পকেট কাটার লিপ্ত হচ্ছেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সরকারের যেসব সংস্থা বাজার তদারক করে, সেসব সংস্থার উচিত শক্তভাবে তাদের ধরা। কঠোর মনিটর করে সিন্ডিকেটকারীদের ধরে শাস্তির আওতায় আনা উচিত!

মোহাম্মদ এনামুল হক ফজলে রাব্বী : শিক্ষার্থী, আল হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া কামিল মাদ্রাসা, চট্টগ্রাম

advertisement
advertisement