advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

২৫০ বিঘা নিচু জমি কিনে লোপাট ৪২৫ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ অক্টোবর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০২১ ০২:৩৪ এএম
advertisement

নিচু জলাশয়ের জমির দাম বিঘাপ্রতি মাত্র ৩০ লাখ টাকা। অথচ সেই জমির দাম দেখানো হয়েছে ২ কোটি টাকা বিঘা। এভাবে ২৫০ বিঘা জমি কেনার নামে প্রায় ৪২৫ কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে। কেবল তাই নয়, ওই জমি ভরাটের নামেও ফান্ড থেকে খরচ দেখানো হয়েছে ৩৫ কোটি টাকা। পাশাপাশি হাউজিং কোম্পানি থেকে জমি কেনা বাবদ কমিশন নেওয়া হয়েছে ১৪ কোটি টাকা। এমন অবিশ^াস্য ঘটনাই ঘটেছে দেশের বেসরকারি খাতের অন্যতম নর্থ সাউথ বিশ^বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের জমি কেনার নামে। ২০১৫ সালে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকায় ওই জমি কেনা হয়। আর এসব কাজে নেতৃত্ব দেন বিশ^বিদ্যালয়টির ট্রাস্টি বোর্ডের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য আজিম উদ্দিন আহমেদ এবং এমএ কাশেম। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে গতকাল সংবাদ সম্মেলন ডেকে এমন অভিযোগ তুলেছেন নর্থ সাউথ বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক প্রতিনিধিরা।

লিখিত বক্তব্যে ড. সুফী সাগর সামস নামে এক অভিভাবক জানান, পূর্বাচলসংলগ্ন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ২৫০ বিঘা নিচু জমি কিনে ৪২৫ কোটি টাকা লোপাট করেছে আজিম-কাশিম সিন্ডিকেট। মূলত তারা আশালয় হাউজিং অ্যান্ড ডেভেলপার্সের কাছ থেকে কম মূল্যের জমি কিনে বেশি দাম দেখায়। নিচু ওই জমির বিঘাপ্রতি তৎকালীন (২০১৪) বাজারদর মাত্র ৩০ লাখ টাকা। অথচ আমিজ-কাশেম সিন্ডিকেট প্রতিবিঘা দুই কোটি টাকা করে দাম দেখিয়েছে। আবার সেই নিচু জমি ভরাটের নামেও ৩৫ কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে। ওই সিন্ডিকেট ডেভেলপার্স কোম্পানির কাছ থেকেও কমিশন নিয়েছে ১৪ কোটি টাকা। বায়নার সময় চার কোটি এবং জমি রেজিস্ট্রির পর ১০ কোটি টাকা কমিশন তুলেছে তারা। আশালয় হাউজিং কোম্পানির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে সাউথইস্ট ব্যাংকের গুলশান শাখার কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ ৫ কোটি টাকা তুলে কাশেমের বাসায় এবং প্রিন্সিপাল শাখার কর্মকর্তা কাওসার মাহমুদ আজিমের বাসায় ৫ কোটি টাকা পৌঁছে দেন। দুর্নীতি দমন কমিশন ২০১৮ সালে এ বিষয়ে তদন্ত করতে গেলে ওই দুই ব্যাংক কর্মকর্তা অকপটে তা স্বীকারও করেন।

সংবাদ সম্মেলনে অভিভাবকরা বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর টিউশন ফির বোঝা চাপিয়ে সেই টাকায় বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা। ছাত্রদের টিউশন ফি থেকে অবৈধভাবে ট্রাস্টি বোর্ডের ৯ সদস্যের জন্য ২৫ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ব্যয়ে বিলাসবহুল আটটি রেঞ্জ রোভার ও একটি মার্সিডিস বেঞ্জ গাড়িও কেনা হয়। ওই গাড়ির চালকদের বেতন, রক্ষণাবেক্ষণ এবং তেলের খরচ বিশ^বিদ্যালয়ের ফান্ড থেকেই বহন করা হয়। বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্যরা সিটিং অ্যালাউন্স বাবদ প্রতিটি বোর্ড অব ট্রাস্টির মিটিংয়ে এক লাখ টাকা এবং অন্যান্য মিটিংয়ে ৫০ হাজার টাকা করে নেন। যদিও বিশ^বিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন সিটিং অ্যালাউন্স ফি নির্ধারণ করে দিয়েছে। কেবল তাই নয়, বোর্ড অব ট্রস্টির মিটিং ইচ্ছাকৃতভাবে মুলতবি করে একাধিক দিনে শেষ করা হয়। এ বাবদ তারা প্রতিদিন আরও এক লাখ টাকা করে নেন। অনিয়ম কেবল এখানেই শেষ নয়, করোনার এই মহামারীকালে অনলাইনে মিটিং করেও অ্যালাউন্স নিয়েছেন ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা। বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয় আইন-২০১০ অমান্য করে আটটি কমিটির বিপরীতে ২৫টি কমিটি গঠন করে অতিরিক্ত সিটিং অ্যালাউন্স আদায় করা হয়। এমনকি বিশ^বিদ্যালয়ের ঐতিহ্যে কালিমা লেপন করে সব নিয়ম ভেঙে বিশ^বিদ্যালয়ের ফান্ডের ৪০৮ কোটি টাকা নিজেদের মালিকানাধীন সাউথইস্ট ব্যাংকে এফডিআর করে রাখেন। কাশেম-হাশেম এবং তাদের স্ত্রীরা ওই ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এমএ কাশেম তার মেয়ের জামাইকে ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন। অপর ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য বেনজীর আহমেদ তার ছেলে রাহাত আহমেদকে প্রধান করে বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের থেকে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে স্টার্টআপ নেক্সট নামে বিশ^বিদ্যালয়ের বিশাল অঙ্কের অর্থ ব্যবহার করে নিয়মবহির্ভূতভাবে একটি প্রোগ্রাম চালু করেন। এ ছাড়া ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা বিশ^বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে নিকটাত্মীয় ও পরিচিতজনদের নিয়োগ দেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে নর্থ সাউথ বিশ^বিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য আজিম উদ্দিন আহমেদ এবং এমএ কাশেমকে বারবার ফোন করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।

advertisement
advertisement