advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

ভুয়া মানসিক চিকিৎসকের ফাঁদে ভারসাম্য হারাল রোগী

রাজশাহী ব্যুরো
১৭ অক্টোবর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০২১ ০২:৩৪ এএম
advertisement

ভুয়া চিকিৎসকের কথা হরহামেশা শোনা যায়। এদের প্রতারণা, অপচিকিৎসায় ক্ষয় হয় বহু প্রাণ। এমনই আরেক প্রতারকের হদিস মিলেছে রাজশাহীতে। মানসিক চিকিৎসার কোনো অভিজ্ঞতা বা সনদ নেই তার, তবু দেখেন মানসিক রোগী। নামের সঙ্গে জুড়েছেন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ও কাউন্সিলর, পিজিটি (সাইকিয়াট্রি নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি ইউএসএস), ইউএসএমএলই (আমেরিকা), এমডি (সাইকিয়াট্রিক) আমেরিকা, মানসিক, মাদকাসক্ত এবং সাইকো-সেক্স (যৌন) থেরাপিস্ট পদবি। অবশ্য তার শিক্ষাঝুলিতে আছে এমবিবিএস ডিগ্রি। তার খপ্পরে পড়ে সম্প্রতি এক রোগী মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছেন।

এই প্রতারকের নাম মীর মোয়াজ্জেম হোসেন ওরফে বাবু (৫০)।

বিএমডিসির ওয়েবসাইটে তার রেজিস্ট্রেশন নম্বর (৪০০৫৮) অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, মোয়াজ্জেমের বাড়ি রাজবাড়ীর সদর উপজেলার ভবানীপুর রেলওয়ে কলোনিতে। বর্তমানে তিনি রাজশাহী নগরীর পদ্মা আবাসিক এলাকায় থাকেন। এই বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। ফোন নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া গেছে। আর তার বাবা আলী আকবর দাবি করেছেন, দুই বছর ধরে ছেলের সঙ্গে তার যোগাযোগ নেই। তার ভুয়া ডিগ্রি ব্যবহারের বিষয়েও কিছু জানেন না।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি কল্পনা রায় জানান, তার স্বামী বেশ কিছুদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। সব কিছু ক্ষণে ক্ষণে ভুলে যাচ্ছিলেন। গত বছরের শুরুর দিকে চিকিৎসার জন্য স্বামীকে নিয়ে যান হেপ্টা হেলথ কেয়ার নামের একটি হাসপাতালের মোয়াজ্জেম হোসেনের কাছে। রাজশাহী নগরীর আলুপট্টি এলাকার ওই হাসপাতালে মোয়াজ্জেমের নামের পাশে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ পদবিকে তারা সরল মনে বিশ^াস করেছিলেন।

কল্পনা বলছিলেন, ওষুধ খাওয়ানোর পরে তার স্বামীর দুই দিন জ্ঞান ছিল না। পরে যখন চেতনা ফিরে পেলেন, তখন তিনি ভারসাম্যহীন আচরণ শুরু করেন। পরে ফের ওই ‘চিকিৎসকের’ কাছে গেলে তিনি আরেকটি একটি ওষুধ যোগ করে দেন। দুবারেই তিনি ১ হাজার টাকা করে ফি নেন। ওষুধে উন্নতি না হওয়ায় কথিত চিকিৎসক মোয়াজ্জেম তার স্বামীকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করার মৌখিক পরামর্শ দেন।

তবে কল্পনা রায় মানসিক হাসপাতালে না নিয়ে শহরের অন্য একজন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যান। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন যে, চিকিৎসক মোয়াজ্জেমের ব্যবস্থাপত্রের মধ্যে তিন ধরনের ঘুমের বড়িই ছিল, যা ছিল ভুল পরামর্শ। পরের চিকিৎসকের ওষুধ সেবন করে তার স্বামী অনেকটা সুস্থ হন। এ ঘটনায় তিনি জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ে একটি ক্ষতিপূরণ মামলা করেন। এই মামলার শুনানির জন্য নোটিশ করা হলেও মোয়াজ্জেম হোসেন হাজির হননি। সেই মামলা তদন্ত প্রতিবেদন থেকে তিনি জানতে পারেন যে চিকিৎসকের নামের পাশে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে অতিরিক্ত পাঁচটি ডিগ্রির উল্লেখ রয়েছে তার সবই ভুয়া। এই প্রতিবেদনসহকারে তিনি চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে আদালতে মামলা করেন। গত ৪ জুলাই পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করেন। তার তদন্তেও অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, তদন্তকালে বারবার চেষ্টা করেও তিনি কথিত মানসিক চিকিৎসক মোয়াজ্জেম হোসেনের সাক্ষাৎ পাননি। একদিন শুধু ফোনে পেয়েছিলেন। পরে ফোন নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া গেছে। তিনি তদন্ত করে দেখেছেন, ফোনের সিম নম্বরটিও চিকিৎসকের নিজের নয়। নাটোরের গুরুদাসপুর থানার নওপাড়াহাট এলাকার আরিফুল ইসলাম নামে সিমটি নিবন্ধিত। সেখানে যোগাযোগ করে এই আরিফুলেরও খোঁজ পাননি।

তদন্ত কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বলেন, এমবিবিএস ডিগ্রি ছাড়া তার নামের পাশের লেখা কোনো ডিগ্রির বিপরীতে কোনো সনদ পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে রোগীর সঙ্গে প্রতারণা ও চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এর আগে মোয়াজ্জেম রাজশাহীর বেসরকারি বারিন্দ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। হাসপাতালের পরিচালক সুজিত ভদ্র বলেন, নিয়োগ দেওয়ার পর তার ভুয়া ডিগ্রি ব্যবহারের কথা জানা যায়। তখনই তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

advertisement
advertisement