advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

বাস-ট্রাকের সংঘর্ষে প্রাণ গেল ৭ জনের
সড়কে মৃত্যু আর কত

১৮ অক্টোবর ২০২১ ১২:০০ এএম
আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০২১ ১১:০৩ পিএম
advertisement

ময়মনসিংহের ত্রিশালে গত শনিবার বাসের পেছনে ট্রাকের ধাক্কায় একই পরিবারের চার জনসহ সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে কমপক্ষে ১০ জন। একই দিন মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ময়মনসিংহের ধোবাউড়া, রাজশাহীর পুঠিয়া ও চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় আরও চার জনের মৃত্যু হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের প্রাণহানি এ দেশে এখন এমনই নৈমিত্তিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে যে, তার সংবাদমূল্য কমে গেছে। যে ঘটনা হরহামেশাই ঘটে, প্রথাগত সাংবাদিকতায় তা সংবাদ হিসেবে গুরুত্ব হারায়। কিন্তু মানুষের মৃত্যু এমনই এক গুরুতর বিষয় যে, কোনো পরিস্থিতিতেই তার গুরুত্ব কমে না। সমস্যাটি ক্রমেই প্রকটতর হচ্ছে, কিন্তু এর সমাধানের লক্ষ্যে যে বিশেষভাবে তৎপর হওয়া উচিত, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে তেমন তাগিদ দৃশ্যমান নয়।

বলার অপেক্ষা রাখে না প্রতিটি প্রাণ অমূল্য। আর যারা আহত হয়ে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ হারায়, কর্মক্ষমতা হারিয়ে পরিবারের বোঝায় পরিণত হয়, তাদের জীবনে যেন অন্ধকার নেমে আসে। প্রশ্ন হচ্ছে, সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনায় হতাহত হওয়ার বিষয়টি যে একটা বড় জাতীয় সমস্যায় পরিণত হয়েছে, তা কি সরকার উপলব্ধি করতে পারছে? সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের আইনানুগ বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করার বিষয়টি কি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে? এমন তো নয় যে, সড়ক দুর্ঘটনার কারণগুলো চিহ্নিত করা যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা বহুদিন ধরে এসব নিয়ে কথা বলছেন, সংবাদমাধ্যমে লেখালেখি হচ্ছে, সভা-সেমিনারও কম হচ্ছে না। দুর্ঘটনা রোধে সরকার আইন করে, কিন্তু আইনের প্রয়োগ নেই। পরিবহন আইন কার্যকর করার প্রশ্ন এলেই একশ্রেণির পরিবহন মালিক ও শ্রমিক রাস্তায় নামেন। ধর্মঘট ডাকেন। মনে হয়, সরকারের ভেতরে এমন কোনো স্বার্থান্বেষী মহল আছে, যারা আইনটি কার্যকর হতে দিচ্ছে না। অথচ সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে যাত্রী, চালক, পরিবহনকর্মী সবাই নিরাপদ থাকবেন।

advertisement
advertisement