advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

ব্যয় বৃদ্ধিতে বেসামাল ‘লক্ষ্মী’ ক্রেতা

ড. কাজল রশীদ শাহীন
১৯ অক্টোবর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২১ ০৯:২২ এএম
advertisement

ব্যয় বাড়ার বিপরীতে আয় তো বাড়ছেই না, উপরন্তু করোনা কোভিড-১৯ এর প্রভাবে কারও কারও আয় কমেছে এবং আয়ের পথ বন্ধ হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এ অবস্থায় মধ্যবিত্ত-নিম্নমধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্তের মানুষের জীবন চিঁড়েচ্যাপ্টা হওয়ার দশায় পরিণত হয়েছে। চিঁড়েচ্যাপ্টা হওয়ার মধ্যেই সুখ, মানুষের চ্যাপ্টা হওয়ার মধ্যে দুঃখ। এই চ্যাপ্টা হওয়ার পরিমাণ যার যত বেশি দুঃখ-হতাশা-বেদনা-কষ্ট এবং জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণ হওয়ার মাত্রা তার তত বেশি। ক্রমাগত মাত্রা ছাড়া ব্যয়ে বেসামাল মানুষের এই অবস্থার পরিবর্তন কবে ঘটবে- কীভাবে ঘটবে তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের খুব বেশি হেলদোল আছে বলে মনে হয় না। যদি থাকত তা হলে কোনোভাবেই এই দশা দেখা দিত না। এর আগেও এই শ্রেণি-পেশার মানুষদের এ রকম বেসামাল অবস্থায় পড়তে হয়েছে। বেশির ভাগ জিনিসের দাম বাড়ার আঁচে দগ্ধ হতে হয়েছে তাদের। তার পরও তারা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। কারণ তাদের জীবন তো সুকুমার রায়ের সেই কবিতার মতো, ‘রোদে-জলে টিকে রঙ পাকা কই তাহারে।’ সাধারণ মানুষের জীবনেও তাই রোদে পুড়ে-বৃষ্টিতে ভিজে এবং দামা বাড়ার আগুনে ভর্তা হয়েই তাদের বেঁচে থাকতে হয়- টিকে থাকার লড়াইয়ে শামিল হতে হয় প্রতিদিন-প্রতিমুহূর্ত। এবং এভাবেই তাদের জীবনের গদ্য রচিত হয়, পদ্যের শৃঙ্খলা তাদের নয়, ওটা থাকে বড়লোকদের ড্রয়িংরুমে। সাধারণ মানুষের জীবন নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে এভাবেই অনাস্বাদিত জীবনের চক্র পূরণ করে। কিন্তু জিনিসপত্রের দাম বাড়ার এবারের আঘাত এতটাই লাগামছাড়া ও অসহনীয় যে, তাদের জীবনের চাকা আর চলছে না। একে তো করোনা তার ওপর জিনিসপত্রের দাম বাড়ার চাপ- দুইয়ে মিলে মানুষের জীবন কতটা নাভিশ^াস হয়ে উঠেছে, তা ভুক্তভোগী ছাড়া অন্যদের পক্ষে কল্পনা করাও দুরূহ।

এই মুহূর্তে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়ার পাশাপাশি অন্যান্য জিনিসের দাম কী হারে বেড়েছে সেসব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে আমাদের সময়ে। ‘বাড়তি ব্যয়ে বেসামাল মানুষ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে উল্লিখিত হয়েছে, ‘বাজার থেকে শুরু করে বাড়িভাড়া, যাতায়াত, চিকিৎসা, খাদ্যসামগ্রী, প্রযুক্তি পণ্য- সবকিছুর দাম বেড়েছে। একে একে ব্যয়ের হিসাবের অঙ্ক বড় হলেও মানুষের আয় বাড়েনি। বিশেষ করে স্থির আয়ের মানুষের আয় বাড়ছে না। উল্টো করোনাকালে অনেকের তা কমেছে। করোনার প্রথম ধাক্কায় সঞ্চয় ভেঙে চলেছেন অনেকে। দ্বিতীয় ধাক্কায় ঋণের বোঝা বেড়েছে। এখন জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপে রয়েছে মধ্যবিত্তরা। দিশাহারা নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ। সবচেয়ে বেশি বিপদে রয়েছে দরিদ্র মানুষরা। তিনবেলার আহার জোগাতেই নাভিশ^াস উঠে যাচ্ছে তাদের।’

সাধারণ মানুষের জীবনকে একটু স্বস্তি দেওয়ার জন্য, তাদের দুঃখ-কষ্ট- ভোগান্তি দূর করার লক্ষ্য নিয়ে যারা কাজ করছেন কি কখনো ভেবে দেখেছেন তাদের প্রেসক্রিপশন স্থায়ী কোনো সমাধান দিতে পারছে না। জিনিসপত্রের দাম বাড়তে পারেই, কিন্তু তার পেছনে শক্তিশাল যুক্তি থাকতে হবে। এবং সব পক্ষের মতামতের ভিত্তিতেই বাড়তি দাম নির্ধারিত হবে। কিন্তু বাস্তবে কি এসবের চর্চা হয়, হয় না মোটেই। এ সম্পর্কিত আইন কী রয়েছে, আইন সম্পর্কে সমক মহল ওয়াকিবহাল কি? এই আইন প্রয়োগ করা হয় কি? এই আইন অমান্য বা লঙ্ঘনের অভিযোগে কতজনকে বিচারের আওতায় আনা হয়েছে? কী ছিল তাদের শাস্তি, দ- দেওয়া হয়েছিল কোন্ মাত্রায়? এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়, দূরবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে খুঁজলেও এসব প্রশ্নের সন্তোষজনক কোনো উত্তর নেই। যদি থাকত তা হলে প্রায়ই জিনিসপত্রের অস্বাভাবিক-অযৌক্তিক দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে বিপদগ্রস্ত করার খেলায় লিপ্ত হতো না তারা।

জিনিসপত্রের দাম বাড়লেই সরকারের পক্ষ থেকে বেশকিছু কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হয়। কিন্তু সেটা করা হয় মানুষ চিঁড়েচ্যাপ্টা হওয়ার পর আগে নয়। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এসেও আমরা কেন এসব বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছি, তার অনুসন্ধান জরুরি। ডাক্তার আসিবার পূর্বে আমাদের রোগীরা মারা যায়। জিনিসপত্রের দাম বাড়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে, হেলদোল দেখা দেয়। কিন্তু তার আগেই সাধারণ মানুষ চিঁড়ের অভিজ্ঞতা চ্যাপ্টা তো হয়ই, জীবনের সাধ-আহ্লাদ সবই পেঁজাতুলোর মতো মেঘ হয়ে উড়ে যায় তেপান্তরের মাঠ পেরিয়ে দূরের দেশে।

কিন্তু এই চিঁড়েচ্যাপ্টা দশা আর ফ্যাকাসে-মলিন জীবনের জন্য যে বা যারা দায়ী তাদের কখনো শাস্তি হয় না। আগুন ধরিয়ে যারা ফায়দা লুটে আগুন নিভে যাওয়ার পর তারা হাজির হয় মুখোশের আড়ালে। এই মুখোশ উন্মোচনের দায়িত্ব যাদের তারা রুটিন ওয়ার্ক করেন কিন্তু অপরের কষ্ট-ব্যথা-বেদনা আপনার করে ভাবেন না- ভাবতে পারেন না- চেষ্টাও করেন না ফলে যেই লাউ সেই কদুর বাস্তবতা এসে হাজির হয় ঢেউয়ের দোলায়-নিয়তির দোহাইয়ে।

জিনিসপত্রের দাম বাড়ার প্রবণতাকে যৌক্তিক ও ন্যায্যতা অনুযায়ী নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে বাংলাদেশ কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, সংক্ষেপে ক্যাব। যারা সাধারণ মানুষের পক্ষের কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করার চেষ্টা করে। ব্যবসায়ী ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নানা বিষয়ে যুক্তি-তর্কের মাধ্যমে ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে তারা অক্লান্ত-নিষ্ঠাবান-নিবেদিতপ্রাণ। কিন্তু তাতেও সাধারণ মানুষের চিঁড়েচ্যাপ্টা দশার পরিবর্তন হয়নি, উপর্যুপরি হয়েই যাচ্ছে। ক্যাবেরও কী ভেবে দেখা জরুরি নয়, প্রকৃতার্থেই যদি সাধারণ মানুষের দুঃখ দূর করতে হয়, তা হলে কী করতে হবে। তারা সক্রিয় থাকার পরও কেন এই চক্র থেকে বেরোনো যাচ্ছে না। অসৎ-অসাধু ব্যবসায়ীদের প্রতিহত-প্রতিরোধ করার কোনো উপায় কি নেই?

ব্যবসা এমন একটা প্রক্রিয়া যার কাঠামোর মধ্যেই লাভ নিশ্চিত করা হয়েছে। হ্যাঁ, কখনো কখনো লোকসানও হয়তো গুনতে হয়। কিন্তু সেই লোকসানের পেছনে জুতসই কারণও থাকে। সেটা হতে পারে ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটি, ব্যবসা বুঝতে অপারগতা, দক্ষতা-নিষ্ঠা ও অভিজ্ঞতার ঘাটতি ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু তার জন্য নিশ্চয় অন্যায্যভাবে লাভ করা যৌক্তিক নয়। কিন্তু আমাদের এখানে এই চর্চাটা অনেকাংশেই করা হয়। এই অযৌক্তিক মুনাফালোভী অসাধু ব্যবসায়ীদের নিয়মের মধ্যে, শৃঙ্খলার মধ্যে, আইনি বৈধতার মধ্যে রাখার দায়িত্ব কর্তৃপক্ষের। দুঃখজনক হলো, কর্তৃপক্ষ ঘটনা ঘটার পরই সজাগ ও সক্রিয় হন। ঘটনা যাতে ঘটতে না পারে তার জন্য তাদের সদা-সর্বদা সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিলক্ষিত হয়নি কখনই। কর্তৃপক্ষ যদি অপারগ হন তা হলে তাদের জবাবদিহির আওতায় নিয়ে আসা, তাদের জন্যও কর্তব্যে অবহেলায় শাস্তি কিংবা দ- দেওয়ার নজির নেই। এ কারণে রোজা সামনে রেখে জিনিসপত্রের দাম বাড়াটাই যেন স্বাভাবিকতা। রোজায় ছোলার বাজারে আগুন তো, কোরবানিতে মসলা বাজারে। আগুনের ধর্ম যেহেতু এক জায়গায় সীমাবদ্ধ না থাকা, ফলে কোনো ছুতোয় বাজারে ঢুকতে পারলেই হলো, তার পর বাজার গ্রাস করতে সময় লাগে না- কসরতও করতে হয় না মোটেই। এভাবেই আগুন লাগে কখনো পেঁয়াজে, কখনো মরিচে, কখনো সবজিতে, কখনো মাছ-মাংসে, কখনো বা গরিবের পুষ্টির প্রধান উৎস ডিমে।

একবিংশ শতকের বিশে^ যখন কোনো কোনো দেশ কিংবা অনেক দেশই তার নাগরিকের পুষ্টি নিশ্চিত করতে নানা আয়োজনে নিবিষ্ট-নিবেদিত। যখন ভেজাল খাবার রোধে তারা কঠোর ও নিয়মের মধ্যে সবকিছু নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তখন আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা কেবলই বেঁচে থাকা। এই বেঁচে থাকায় তারা চায় ন্যায্য অধিকার। যে অধিকার বাস্তবায়িত হলে তাদের বাজারের আগুনে পুড়তে হবে না, বেসামাল ব্যয়ের কশাঘাতে হতে হবে না বিধ্বস্ত-বিপন্ন। এটা যে খুব কঠিন কোনো কাজ তা যে নয়, তার নজিরও রয়েছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে।

প্রশাসন চাইলে সবই পারে, পেরেছেও। সুতরাং তারা যদি এ ব্যাপারে মনোযোগী হন এবং চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেন, তা হলে এখানেও পরিবর্তন আসবে। এ দেশটা কেবল ধনীদের দেশ নয়, নয় ব্যবসায়ীদের দেশ। মুক্তিযুদ্ধে ধনী-গরিব, ব্যবসায়ী-অব্যবসায়ী, বাড়িওয়ালা-অবাড়িওয়ালা, ক্ষমতাবান-অক্ষমতাবান সবাই অংশ নিয়েছিলেন। সেই দেশ কেন স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এসে কেবলই ধনীদের দেশ হয়ে উঠবে, কেবলই কিছু ব্যবসায়ীর দেশ হয়ে উঠবে, কেবলই বাড়িওয়ালা-ক্ষমতাবানের দেশ হয়ে উঠবে? কেন জিনিসপত্রের দাম অন্যায্য বাড়বে? কেন এসব কিছুকে আমরা একটা নিয়মের আওতায়-আইনের শাসনের মধ্যে আনতে পারছি না।

মানুষের দুঃখ-কষ্টকে কেবলই পাঠ করলে হবে না, সেই পাঠের মধ্য দিয়ে সেটাকে হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করতে হবে। অপর যে পর নয় সেটা বুঝতে হবে এবং নিজের যাপিত জীবনে-কর্মে-আচারে-বিচারে তার প্রয়োগ ঘটাতে হবে। এই প্রয়োগ ঘটানোর মধ্য দিয়ে ব্রতী হতে হবে অপরের দুঃখ দূর করার লক্ষ্যে।

আমরা তো জাতিগতভাবে লুণ্ঠনকারী নয়, আমাদের হাজার-হাজার বছরের ইতিহাসে ঔপনিবেশিকতার কোনো নজির নেই। আমরা মিলেমিশে, সুখে-দুঃখে একসঙ্গেই থেকেছি- লড়েছি। নিজেদের মধ্যে বৈরিতা ছিল না, তা নয়। কিন্তু সেই বৈরিতার মধ্যেও আমাদের বৃহত্তর এক ঐক্য ছিল। সেখানেই আমাদের সৌন্দর্য, মনুষ্যত্বের মুক্তি। কিন্তু সেই আমরা কি এখন লুণ্ঠনকার হয়ে উঠছি। নিজেদের দেশকে, নিজেদের মানুষকে কেবলই ‘পারি’ বলেই লুণ্ঠন করে চলেছি। এ দেশ থেকে টাকা পাচারকারীদের একটা বড় অংশের মধ্যে রয়েছে ব্যবসায়ীদের নাম। বাজারে আগুন ধরায় ব্যবসায়ীরা। জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় ওরা। সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে, তাদের অসহায়ত্ব পুঁজি করে ব্যবসার নামে মুনাফা করার লক্ষ্য। অথচ এ দেশে একদা ব্যবসায়ীরা শুধু ব্যবসা করেনি, সমাজ-দেশ-জনহিতৈষী কত কত না কাজ করেছে, তার দৃষ্টান্তও রয়েছে ঢের। রণদা প্রসাদ সাহাও তো ব্যবসায়ী ছিলেন। তাদের উত্তরসূরি খুঁজে পেতে এখন আমাদের বেগ পেতে হয় কেন?

বিল গেটস, ওয়ারেন বাফেট, জ্যাক মা, মার্ক জাকারবার্গ, মুকেশ আম্বানী, রতন টাটা তারা সবাই ব্যবসায়ী। কিন্তু ব্যবসায়ী পরিচয়কে তারা আরও বেশি উচ্চকিত করেছেন তাদের মানবহিতৈষণা কার্যক্রমে।

এ দেশেও নিশ্চয় এমনও ব্যবসায়ী রয়েছেন যারা স্বচ্ছতার সঙ্গে ন্যায্যতার ভিত্তিতেই ব্যবসা করে চলেছেন, দীর্ঘ সময়ব্যাপী। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে পুরো ব্যবসায়ী সমাজ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মাঝে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে। বিপন্ন-বিপদগ্রস্ত মানুষের পক্ষে অনেক কিছুই তলিয়ে দেখা সম্ভব নয়। এ কারণে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকেও ভাবতে হবে ব্যবসার নামে বাজারে আগুন লাগানো, জিনিসপত্রের দাম বাড়ানো যেন রেওয়াজে পরিণত না হয়। ক্রেতা থাকলেই কেবল বিক্রেতার কদর আছে- প্রয়োজনও রয়েছে। ক্রেতাকে একসময় বাঙালি ব্যবসায়ীরাই ‘লক্ষ্মী’ জ্ঞান করত, সেই লক্ষ্মীকেই এখন মৌসুম এলেই মওকা বুঝে বেসামাল-বিপন্ন-বিধ্বস্ত করা হচ্ছে।

 

ড. কাজল রশীদ শাহীন : সাংবাদিক, লেখক ও গবেষক

 

advertisement
advertisement