advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

বেসরকারি গবেষণা প্রতিবেদন
করোনায় স্কুল শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি ৩৪ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯ অক্টোবর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২১ ০১:৫৪ এএম
advertisement

করোনা মহামারীর কারণে দেশব্যাপী দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ ছিল। এর প্রভাবে গ্রাম এবং শহুরে বস্তি এলাকায় চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে শিখন ঘাটতি বা লার্নিং লসের ঝুঁঁকি বেড়েছে। শিখন ঘাটতির এই প্রবণতা মাধ্যমিকে পড়ুয়া কিশোরদের মধ্যে বেশি। মার্চে তাদের মধ্যে এই ঝুঁকি ২৬ শতাংশে থাকলেও আগস্টে তা বেড়ে ৩৪ শতাংশে দাঁড়ায়।

পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) এবং ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) বিস্তৃত ও বিভিন্ন স্তরবেষ্টিত গবেষণা ‘কোভিড-১৯ লিভলিহুড অ্যান্ড রিকভারি প্যানেল সার্ভে’ এ তথ্য প্রকাশ করেছে। গতকাল পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান এবং বিআইজিডির নির্বাহী পরিচালক ইমরান মতিন এক ওয়েবিনারে গবেষণার এ ফল প্রকাশ করেন। সম্প্রতি দেশের গ্রামে এবং শহরের বস্তি এলাকায় করা একটি জরিপে দেখা গেছে, কমপক্ষে ২২ শতাংশ প্রাথমিক এবং ৩০ শতাংশ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা স্কুল বন্ধ থাকায় শিখন ঘাটতির ঝুঁঁকিতে আছে। প্রাথমিকে পড়ুয়া ৫৬ শতাংশ এবং মাধ্যমিকে পড়ুয়া ৬৫ শতাংশ শিক্ষার্থীরা মার্চে গৃহশিক্ষকের কাছে পড়লেও কিংবা কোচিং করলেও আগস্টে সেই হার কমে দাঁড়ায় যথাক্রমে ৪৮ শতাংশ এবং ৪৩ শতাংশ। আগস্টে সরাসরি যোগাযোগ করে বা সরাসরি যোগাযোগ না করে এই দুই পদ্ধতির মিশ্রণে অ্যাসাইনমেন্ট করার ব্যাপারটি গ্রহণযোগ্যতা পায়। আগস্টে ১৮ শতাংশ প্রাথমিক এবং ৩৮ শতাংশ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী এই সুবিধা পেয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, এই সমস্যার পেছনে আর্থসামাজিক অসমতার একটি ভূমিকা রয়েছে। গবেষণায় প্রথমে একজন শিক্ষার্থীর লার্নিং লসের সঙ্গে তার মায়ের শিক্ষাগত যোগ্যতার সম্পর্ক দেখা হয়। যেমন- যে মায়েরা কখনো স্কুলে যাননি,

তাদের সন্তানরা শিক্ষিত মায়েদের সন্তানদের তুলনায় বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্বিতীয়ত, গৃহশিক্ষক কিংবা কোচিং সুবিধা করোনা মহামারীর আগেও পেয়েছে- এমন শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই মহামারী চলাকালীনও সেই সুযোগ পেয়েছে। তৃতীয়ত, গ্রামে ৪৪ শতাংশ পরিবারে এবং শহরের বস্তিতে ৩৬ শতাংশ পরিবারে অনলাইন শিক্ষা গ্রহণের জন্য যে উপকরণ দরকার, তার ব্যবস্থা নেই। চতুর্থত, ৮ শতাংশের বেশি স্কুলগামী শিক্ষার্থী উভয় সময়েই উপার্জনের জন্য কাজ করেছে।

advertisement
advertisement