advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

কমলাপুরে হোটেল নিকুঞ্জ
বকেয়া চাওয়ায় রেলওয়েকে হাইকোর্ট দেখাল ইজারাদার

মো. মহিউদ্দিন, চট্টগ্রাম
১৯ অক্টোবর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২১ ০১:৫৪ এএম
advertisement

দুই বছরের চুক্তিতে ২০০৮ সালের ২৫ আগস্ট ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ভবনের তৃতীয় তলায় ১৬টি কক্ষ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল ব্যবসায়ী হারুন উর রশীদ চৌধুরীকে। সেটিকে তিনি ‘হোটেল নিকুঞ্জ’ নামে পরিচালনা করে আসছেন। তবে গত দশ বছরের ভাড়া বাবদ ৭৬ লাখ ৬৬ হাজার ২৪৪ টাকা পরিশোধ করেননি। সর্বশেষ ২০১৮ সালের চুক্তি অনুযায়ী মাসিক ইজারা মূল্য এক লাখ ২০ হাজার টাকা।

বকেয়া আদায় করতে গত ২৫ আগস্ট চূড়ান্ত নোটিশ দিয়েছিল রেলেওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক বিভাগ। ১০ দিন পর এক মাসের ভাড়া ভ্যাটসহ ১ লাখ ৩৮ হাজার জমা দেওয়া হয়। এর আট দিন পর ১৩ সেপ্টেম্বর প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম ও সহকারী প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপককে (আর) একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। ইজারাদার হারুন উর রশিদ চৌধুরীর পক্ষে নোটিশটি দেন চট্টগ্রাম জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাদিক-উল-হক। এই নোটিশকে রেলের কর্মকর্তারা ‘হাইকোর্ট’ দেখানো হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

ওই নোটিশে রেলের দাবি করা বকেয়া সম্পূর্ণ বেআইনি এবং চুক্তি পরিপন্থী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ৮ পাতার ওই নোটিশের শেষে বিষয়টি দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে প্রস্তুত আছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে রেলের সঙ্গে বিদ্যমান ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, চুক্তি অনুযায়ী ইজারাদারের প্রতি মাসের লাইসেন্স ফি

বাবদ ৭৫ হাজার ২০০ টাকা রেলওয়েকে দেওয়ার কথা। ২০১১ সালের ৩০ নভেম্বর থেকে ২০২১ সালের আগস্ট পর্যন্ত ইজারাদার টাকা পরিশোধ করেনি। ২০১১ সাল থেকে ২০১৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৮ লাখ ৪৫ হাজার ২০৪ টাকা পাওনা ছিল রেলওয়ের। এ বিষয়ে রেলের অভ্যন্তরীণ অডিটে আপত্তি উঠেছিল।

২০১৪ সালের মার্চ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মাসিক ভাড়া বাবদ ৩৬ লাখ ৯ হাজার ৬০০ টাকা এবং ১৫ শতাংশ ভ্যাট বাবদ ৫ লাখ ৪১ হাজার ৪৪০ টাকা আদায় করেনি। ২০২০ সালের জুন থেকে ২০২১ সালের আগস্ট পর্যন্ত ভ্যাটসহ ২০ লাখ ৭০ হাজার টাকা পাওনা।

এদিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য শেষ বারের মতো সুযোগ দিয়ে আলোচনার জন্য ইজারাদার হারুন উর রশিদকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি রেলের সঙ্গে আলোচনায় বসছেন না বলে অভিযোগ করেছেন বাণিজ্যিক বিভাগের কর্মকর্তারা।

প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (সিসিএম) নাজমুল ইসলাম আমাদের সময়কে বলেন, প্রায় দশ বছরের ভাড়া বকেয়া আছে। অডিট আপত্তিও উঠেছে। আমরা চূড়ান্ত নোটিশ জারি করেছি। এর পরও সমাধানে ব্যর্থ হলে সকল আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে চুক্তি বাতিল করা হবে। এ ক্ষেত্রে আইন কর্মকর্তার মতামত নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।

অভিযোগ রয়েছে, ইজারাদার প্রথম দুই বছরের চুক্তির মেয়াদ শেষ করার পর থেকেই ঝামেলা শুরু করে। বিগত ১০ বছর ধরে মামলা-মোকদ্দমা করে রেলওয়েকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ফলে এবার কঠোর অবস্থানে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। চুক্তি অনুযায়ী টাকা পরিশোধ না করলে রেলওয়ে পাবলিক ডিমান্ড রিকভারি (পিডিআর) আইনে মামলা করবে। ওই আইনে সরকারি রাজস্ব না দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। মামলা হলে ইজারাদারকে টাকা পরিশোধের পাশাপাশি শাস্তিও ভোগ করতে হবে। আত্মপক্ষ সমর্থন করতে আলোচনায় বসতে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, রেলের বাণিজ্যিক বিভাগের একটি সিন্ডিকেটকে ম্যানেজ করে হোটেলটি পরিচালনা করে আসছিলেন ইজারাদার। ইজারামূল্য না দিলেও বারবার লাইসেন্স নবায়ন করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। প্রতি মাসে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার ব্যবসা করলেও ইজারা চুক্তির ৪ নম্বর শর্তানুযায়ী প্রতি মাসের লাইসেন্স ফি পরবর্তী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে পরিশোধ করেননি। নির্দিষ্ট সময়ে টাকা পরিশোধ না করলে আরও ১০ দিন গ্রেস পিরিয়ড হিসেবে গণ্য হয়। এই সময়েও টাকা পরিশোধে না করলে ভাড়ার ওপর শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ হারে জরিমানা আরোপের বিধান রয়েছে।

ইজারাদার হারুন উর রশিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। হোটেল নিকুঞ্জ আবাসিকের ব্যবস্থাপক সালাউদ্দিনের দাবি, ভাড়া বকেয়া রেখে তারা ব্যবসা করেননি। ২০১১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত হোটেলটি বন্ধ ছিল। বন্ধ থাকলে কোনো ভাড়াটিয়া কি ভাড়া দেয়? প্রশ্ন সালাউদ্দিনের।

advertisement
advertisement