advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

বিচার শুরু রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানসহ ৪ জনের

আদালত প্রতিবেদক
১৯ অক্টোবর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২১ ০১:৫৪ এএম
advertisement

বনানীর এফআর টাওয়ার নির্মাণে নকশা জালিয়াতির মামলায় ভবনের মালিক সৈয়দ মো. হোসাইন ইমাম ফারুকসহ ৪ জনের বিচার শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক সৈয়দ কামাল হোসেন আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। একই সঙ্গে আদালত আগামী ১৫ নভেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেন।

অভিযোগ গঠন হওয়া বাকি তিন আসামি হলেন- রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ূন খাদেম, রূপায়ন গ্রুপের কর্ণধার লিয়াকত আলী খান মুকুল ও রাজউকের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. সাইদুর রহমান। আরেক আসামি ও রাজউকের সাবেক অথরাইজড অফিসার সৈয়দ মকবুল আহমেদ মারা যাওয়ায় আদালত তাকে অব্যাহতি দিয়েছেন।

অসুস্থ থাকায় গতকাল হুমায়ূন খাদেমকে স্ট্রেচারে করে আদালতে আনা হয়। শুনানি শেষে আদালত অভিযোগ গঠনের আদেশ দিলে দুদকের আইনজীবী মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর আসামিদের অভিযোগ পড়ে শোনান। এর পর আসামিদের কাছে জানতে চান, তারা দোষী নাকি নির্দোষ। হুমায়ূন খাদেম ছাড়া বাকি আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। হুমায়ুন খাদেম বাকহীন হওয়ায় তার ছেলের কাছে আইনজীবী জাহাঙ্গীর জানতে চান, তার বাবা দোষী কিনা। জবাবে ছেলে বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি বাবা নির্দোষ।’

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর

এহসানুল হক সমাজী বলেন, ‘চার্জগঠনের সময় আসামি মানসিক বিকারগ্রস্ত হলে, কথা বলতে না পারলে কিংবা কথা বুঝতে না পারলে, তার কোনো প্রতিনিধিকে চার্জগঠনের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা আইনসিদ্ধ নয়। আদালতে আসামি যদি মানসিক অসুস্থতার জন্য আত্মপক্ষ সমর্থনে ব্যর্থ হন, সে ক্ষেত্রে আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৬৫ ধারা অনুসরণ করে মানসিক অসুস্থতার বিষয়ে নিশ্চিত হবেন এবং মানসিক অসুস্থতা প্রমাণিত হলে বিচার স্থগিত রাখবেন।’

এ বিষয়ে মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আসামি কথা বলতে পারেন না। তাই তার ছেলেকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। পরে আদালত তার আইনজীবীকে জিজ্ঞাসা করেছেন। আসামি অসুস্থ হলেও মামলার বিচারকাজ তো এগিয়ে নিতে হবে।’

হুমায়ূন খাদেমের আইনজীবী মো. শাহিনুর ইসলাম বলেন, ‘আমি যতটুকু জানি, উনি কথা বলতে পারেন না, কিন্তু কথা বোঝেন। উনাকে পড়ে শোনানো হয়েছে। ওনার ছেলেকে জিজ্ঞাসা করার পর আমি যেহেতু উনার প্রতিনিধি, তাই আদালত আমাকেও জিজ্ঞাসা করে আমার আসামি দোষী নাকি নির্দোষ। আমি নির্দোষ বলেছি। তাই আমি মনে করে চার্জগঠন করে আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়নি।’

এ মামলায় ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর হুমায়ূন খাদেমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক। মামলার আসামিরা সবাই জামিনে আছেন। সোমবার শুনানির সময় চার আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলায় বলা হয়, ১৯৯৬ সালের এফআর টাওয়ারের নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত নকশায় ভবনের উচ্চতা ১৮ তলা, যদিও নির্মাণ করা হয়েছে ২৩ তলা।

২০১৯ সালের ২৮ মার্চ বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউয়ের পাশে অবস্থিত ফারুক রূপায়ন (এফআর) টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকা-ে ২৬ জন নিহত হয়। আহত হয় ৭৩ জন।

advertisement
advertisement