advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

লঘুচাপের বৃষ্টিতে হিমেল পরশ

নভেম্বরের শুরুতে নামবে শীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২০ অক্টোবর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০২১ ০৯:১৭ এএম
advertisement

সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে দুদিন ধরে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে পঞ্জিকার হিসাবে পৌষ আসতে দুই মাস বাকি থাকলেও হেমন্তের আবহাওয়ায় মিলছে শীতের আমেজ। বেশ কয়েক মাসের গরমের পর শীতের আগমনী পূর্বাভাস দিয়ে আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান বলেন, ‘চলতি মাসের শেষ সপ্তাহ কিংবা আগামী মাসের শুরুতে রংপুর অঞ্চলে শীত নামতে পারে।’

এদিকে পুবালি পশ্চিমা বায়ুর সংমিশ্রণের ফলে দেশের নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়াসহ মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। এই কারণে নদী বন্দরগুলোতে ১ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। কিন্তু উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার শঙ্কা নেই বলে দেশের সমুদ্র বন্দরগুলোতে দেওয়া ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত নামিয়ে ফেলতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়াবিদ মনোয়ার হোসেন জানান, পুবালি পশ্চিমা বায়ুর সংমিশ্রণের ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি হচ্ছে। তবে উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার শঙ্কা আর নেই বলে সংকেত নামানো হয়েছে। তবে আরও দুইদিন এই আবহাওয়া বিরাজ করবে। বৃষ্টির কারণে রাতের দিকে তাপমাত্রা আরও একটু কমে আসতে পারে।

সমুদ্রবন্দরগুলোর সতর্ক বার্তায় বলা হয়, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাবার শঙ্কা নেই। এজন্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত নামিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে। তবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে আজ বুধবার পর্যন্ত সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়, খুলনা, বরিশাল, ঢাকা, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি হতে পারে। নদীবন্দরগুলোর সতর্কবার্তায় বলা হয়, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, ঢাকা, ফরিদপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, সিলেট কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলগুলোর ওপর দক্ষিণ-দক্ষিণ পূর্বদিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ জন্য এসব এলাকার বন্দরগুলোকে ১ নম্বর নৌ সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে আমাদের পটুয়াখালী প্রতিনিধি জানান, গত রবিবার থেকে জেলায় টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। গতকাল সকাল ছয়টা থেকে আজ সকাল ছয়টা পর্যন্ত ৮১.৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। সকল মাছধরা ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নিদের্শ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে বিচরণ করতে বলা হয়েছে। এদিকে টানা তিন দিনের বর্ষণে তলিয়ে গেছে জেলার নিম্নাঞ্চলসহ বিস্তীর্ণ এলাকা। জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলার একাধিক মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে যাবার খবর পাওয়া গেছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে টানা বর্ষণের ফলে শীতকালীন আগাম সবজি চাষিদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে লাল শাক, পালং শাক, মূলা, লাউ, ফুলকপি,বাঁধাকপির ক্ষেত বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে।

এদিকে আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে টানা বর্ষণ থাকায় বাইরে খুব একটা লোকজনের বিচরণ দেখা যায়নি। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে একাধিক ব্যবসায়ী জানান, পর্যটকরা কেউ হোটেল-মোটেল থেকে বাইরে বের হচ্ছেন না। পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা স্থবির হয়ে রয়েছে। এদিকে লঘুচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল রয়েছে। তবে ইলিশ ধরা নিষেধ থাকায় বর্তমানে সমুদ্রে কোন ট্রলার নেই। এ কারণে দুর্ঘটনার কোন শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন আলীপুর মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আনসার মোল্লা।

সাতক্ষীরায় টানা বৃষ্টিতে জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত : দুর্ভোগে নিম্নআয়ের মানুষ।

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, সাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে টানা মৌসুমি বৃষ্টিতে সাতক্ষীরার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। গত ১৮ অক্টোবর সকাল ৬ থেকে ১৯ অক্টোবর সকাল পর্যন্ত টানা বর্ষণে সাতক্ষীরার সদর, তালা, কলারোয়া, আশাশুনি, দেবহাটা, কালীগঞ্জ ও শ্যামনগর উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাাবিত হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে সাতক্ষীরা পৌরসভার নিম্নাঞ্চল। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে শতাধিক পরিবার। ভেসে গেছে জমির ফসল, আমন বীজতলা, মাছের ঘের ও পুকুর। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষগুলো। বিশেষ করে দৈনন্দিন উপার্জনের ওপর নির্ভরশীল দরিদ্র পরিবারগুলো নিদারুণ কষ্টে পড়েছেন। বৃষ্টির কারণে উপার্জন বন্ধ থাকায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা। সাতক্ষীরার সদর উপজেলার ধুলিহর, ফিংড়ি, ব্রহ্মরাজপুর, লাবসা, বল্লী, ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের অধিকাংশ বিলগুলোতে সদ্য রোপা আমন ও বীজতলা পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। শতাধিক মাছের ঘের ও পুকুর ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া নিম্ন অঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়িতে পানি উঠেছে।

এদিকে গত ২৭ জুলাই থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত টানা ভারী বর্ষণে সাতক্ষীরা জেলা শহরসহ জেলার প্রায় প্রতিটি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। সে সময় গদাইবিল, ছাগলার বিল, শ্যাল্যের বিল, বিনেরপোতার বিল, রাজনগরের বিল, মাছখোলার বিলসহ কমপক্ষে ১০টি বিলে পানিতে তলিয়ে যায়। এসব বিলের মাছের ঘের ভেসে গেছে। বেতনা নদী তীরবর্তী এই বিলগুলির পানি নদীতে নিষ্কাশিত হতে পারছে না। এই পানি পৌরসভার দিকে এগিয়ে আসছে। অতিবৃষ্টিতে গ্রামাঞ্চলের সব পুকুর পানিতে তলিয়ে গেছে। বেরিয়ে গেছে শত শত টাকার মাছ। এছাড়া কাঁচা ঘরবাড়ি রয়েছে ঝুঁকির মধ্যে। সবজি ক্ষেতগুলি পানিতে টইটম্বুর করছে। এখনো পর্যন্ত সেসব এলাকার পানি নিষ্কাশিত হয়নি। এসব এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছিলেন। এর মধ্যেই আবারও গত ২৪ ঘণ্টার টানা বর্ষণে সে দুর্ভোগ আরও দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন।

এছাড়া তালার ইসলামকাটি, কুমিরা, পাটকেলঘাটা, মাগুরা, আশাশুনির প্রতাপনগর, আনুলিয়া, খাজরা, বড়দল, শ্রীউলা, আশাশুনি সদর, দরগাহপুর, কাদাকাটিসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল পানিতে থৈ থৈ করছে। শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা, পদ্মপুকুর, কাশিমবাড়ি, বুড়িগোয়ালিনী, কৈখালি, রমজাননগরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। কালীগঞ্জ উপজেলার মৌতলা, মথুরেশপুর, ভাড়াশিমলাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের মাছের ঘের ও পুকুর পানিতে ডুবে গেছে বলে খবর দিয়েছেন স্থানীয়রা।

অন্যদিকে, ঘূর্ণিঝড় ইয়াশের প্রভাবে ভেঙে প্লাবিত হওয়া প্রতাপনগরের মানুষের দুঃখ-কষ্টকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে টানা বৃষ্টি। এদিকে নদীর পানিতে তলিয়ে রয়েছে পুরো ইউনিয়ন। অন্যদিকে টানা বৃষ্টিতে আরও পানি বেড়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে সেখানকার মানুষগুলো।

advertisement
advertisement