advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় উসকানি বিদেশ থেকেও

শাহজাহান আকন্দ শুভ
২০ অক্টোবর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০২১ ১১:৫৫ এএম
advertisement

সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় দেশের পাশাপাশি বিদেশ থেকেও পরিকল্পিতভাবে উসকানি দেওয়া হচ্ছে। বিশে^র বিভিন্ন দেশে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের কেউ কেউ ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করতে নানা ধরনের অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের কারও কারও সঙ্গে দেশের ভেতর থেকে উসকানিদাতাদের যোগসূত্র থাকার প্রমাণ পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। দেশের ভেতরে থাকা অপপ্রচারকারীদের কঠোর নজরদারির আওতায় এনেছে পুলিশ, র‌্যাব ও গোয়েন্দাদের সাইবার সিকিউরিটি টিমের সদস্যরা। তাদের ধরতে চলছে টানা অভিযান। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যে কোনো সময় তাদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানানো হবে। তবে বিদেশে যারা অবস্থান করছেন তাদের ধরতে করণীয় নির্ধারণ করতে আলাপ-আলোচনা চলছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফেসবুকে এক হিন্দু তরুণ ‘ধর্মীয় অবমাননাকর’ পোস্ট দিয়েছেন অভিযোগ তুলে গত রবিবার রাতে রংপুরের পীরগঞ্জের মাঝিপাড়ায় জেলে পল্লীতে উত্তেজনা ছড়ানো হয়। এর পর জেলে পল্লীতে আগুন দেয় একদল হামলাকারী। এ হামলাকারীরা পীরগঞ্জের বাইরে থেকে আসেন বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে। অন্যদিকে হামলাকারীদের একজন আরেকজনের সঙ্গে ফেসবুক মেসেঞ্জারে যুক্ত হন। তার পর জড়ো হয়ে হিন্দু তরুণের বাড়িতে হামলা করতে আসেন। কিন্তু পুলিশ ও স্থানীয়দের প্রতিরোধের কারণে তারা ফিরে যাওয়ার সময় জেলে পল্লীতে হামলা করে পালায়। হামলাকারীদের বেশিরভাগ গাইবান্ধা থেকে এসেছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

র‌্যাব-পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা গতকাল আমাদের সময়কে বলেছেন, ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এখন তাদের মাথাব্যথার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব মাধ্যমের বিতর্কিত পোস্ট, বক্তব্য, বিবৃতি, কনটেন্ট ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্টের অপচেষ্টার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির ঘটানোর অনুসঙ্গ হিসেবেও কাজ করছে। যে কারণে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোয় নিবিড় নজর রাখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে গত ১৩ অক্টোবর কুমিল্লার একটি ম-পে কুরআন অবমাননার কথিত অভিযোগ তুলে বেশ কয়েকটি ম-প ও স্থাপনা ভাঙচুর হয় করা হয়। এর পর টানা চার দিন নোয়াখালী, ফেনী, কক্সবাজার, বান্দরবান, সিলেট, চাঁদপুর, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পূজাম-প ও মন্দিরে হামলার ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ রংপুরের পীরগঞ্জে রবিবার রাতে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ইতোমধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম বিভাগের সদস্যরা কুমিল্লার ঘটনায় অপপ্রচারকারী ফাহিম ও ইব্রাহিম ইসলাম সুজনকে শনাক্ত করেছে। যে কোনো সময় তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এ দু’জনকে ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ফাহিম ভিডিও বার্তা দিয়ে অপপ্রচার চালিয়েছিল। অন্যদিকে ইব্রাহিম ইসলাম সুজন ১৩ অক্টোবর সকালে ফেসবুকে ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করতে উসকানিমূলক পোস্ট দেয়। তাদের পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকজনকে ধরতে পুলিশের এ ইউনিটের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। তবে তারা বারবার অবস্থান পরিবর্তন করায় তাদের ধরতে বেগ পেতে হচ্ছে পুলিশের আভিযানিক দলকে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ডিআইজি মো. আসাদুজ্জামান আমাদের সময়কে বলেছেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে একের পর এক অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। দেশের পাশাপাশি বিদেশ থেকেও এ ধরনের কাজ করা হচ্ছে। আমরা নজর রাখছি। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে কড়া নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। আশা করি আমরা শিগগিরই কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করতে পারব।

সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে সিটিটিসি থেকে ২০০ ফেসবুক আইডি, ফেসবুক গ্রুপ ও ইউটিউব চ্যানেল চিহ্নিত করে তা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে (বিটিআরসি) চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া র‌্যাব, সিআইডিসহ অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা থেকে আরও শতাধিক ফেসবুক আইডি, গ্রুপ ও ইউটিউব চ্যানেল বন্ধ করতে চিঠি গেছে বিটিআরসিতে।

বিটিআরসির কর্মকর্তারা বলছেন, ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনুরোধে তারা বেশকিছু ফেসবুক আইডি বন্ধ করেছেন। কিছু অনুরোধ ফেসবুক ও গুগল কর্তৃপক্ষের কাছে রিভিউ পর্যায়ে রয়েছে।

জানা গেছে, কুমিল্লায় সহিংসতার পর পরই কিছু ফেসবুক আইডি থেকে অনবরত অপপ্রচার চালানো হয়। সেসব আইডি শনাক্ত করা হয়েছে। এসব আইডি ব্যবহারকারীদের বেশিরভাগই এখন গ্রেপ্তার এড়াতে তাদের আইডি ডিঅ্যাকটিভ করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তারা ঘনঘন অবস্থান বদল করছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান গতকাল মঙ্গলবার বলেছেন, ‘কুমিল্লার ম-পে যিনি ঘটনাটি ঘটিয়েছেন, যে ঘটনার কারণে এতকিছু, তাকে আমরা শিগগিরই ধরে ফেলব। তিনি বারবার স্থান পরিবর্তন করছেন, তাই ধরা পড়ছেন না। তবে দ্রুতই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। কেন তিনি এ কাজ করলেন, আমরা তা জানব, আপনাদেরও জানাব।’

advertisement
advertisement