advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

বিএসএফের বর্বর নির্যাতনের শিকার বাংলাদেশি যুবক

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
২ নভেম্বর ২০২১ ০৪:৪৬ পিএম | আপডেট: ২ নভেম্বর ২০২১ ০৬:১৪ পিএম
পুরোনো ছবি
advertisement

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা সীমান্তে বাংলাদেশের অভ্যন্তর থেকে এক যুবককে তুলে নিয়ে গিয়ে বর্বর নির্যাতনের পর ছেড়ে দিয়েছে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনী (বিএসএফ)। গতকাল সোমবার রাত ৮টা ১৫ মিনিটে নির্যাতনের শিকার ওই যুবককে ঠাকুরগাঁও শহরের রোদেলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন তার স্বজনরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নির্যাতনের শিকার ওই যুবকের নাম রুহুল আমিন (৩৭)। তিনি জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নের ভদ্রেশ্বরী ভেলাপুকুর গ্রামের প্রয়াত আক্কেল আলীর ছেলে। পেশায় তিনি একজন কৃষি শ্রমিক।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় রুহুল আমিন বলেন, ‘গতকাল সোমবার সকাল ১০টার দিকে রাণীশংকৈল উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নে কাঠালডাঙ্গী বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধীনে জগদল সীমান্তের ৩৭৪/১ এস পিলার এলাকায় বাংলাদেশের ২০০ গজ অভ্যন্তরে কুলিক নদীর ধারে দুটি মহিষ দিয়ে জমি চাষ করছিলাম। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সীমান্তের কুলিক নদীতে নেমে সাদা পোশাকধারী দুইজন মানুষ মাছ ধরা শুরু করেন। এ সময় ওই দুইজন ব্যক্তি আমার কাছে এসে জিজ্ঞেস করে কেন জমিতে চাষ করছি, তাদের প্রশ্নের জবাবে আমি বলি, এই জমিতে আলু ও রসুন রোপন করা হবে। এ কথা বলা শেষ হওয়া মাত্রই ওই দুইজন ব্যক্তি আমার গলায় ছোঁড়া ঠেকিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে কাঁটাতারের বেড়া সংলগ্ন বটগাছের তলায় নিয়ে যান। আমার সঙ্গে থাকা দুটি মহিষও সেখানে নিয়ে যান তারা। সেখানে তাদের সাঙ্গে আরও তিনজন পোশাকধারী বিএসএফ সদস্য আসেন। তারা সবাই ভারতীয় বিএসএফ সদস্য ছিল বলে পরিচয় দেন।’

তিনি বলেন, ‘ওই পাঁচজন বিএসএফ সদস্য আমাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করতে শুরু করেন। আমি তাদেরকে বলি, আমি একজন কৃষি শ্রমিক। এই কথা বলা শেষ হতে না হতেই ওই পাঁচজন আমাকে পেটাতে শুরু করেন। কেউ বাঁশের লাঠি দিয়ে, কেউ বেতের লাঠি দিয়ে। প্রায় ১৫ মিনিট ধরে তারা আমাকে বেধরক মারপিট করেন।’

রুহুল আমিন বলেন, ‘এদিকে বাংলাদেশি বর্ডারের কাছে যখন স্থানীয় মানুষজন এসে ভিড় করছিল। তখন বিএসএফ সদস্যরা আমাকে ভারতের অভ্যন্ত কাঁটাতারের দরজার কাছে নিয়ে যান। এ সময় মহিষের ঘাড়ে যে জঙ্গালটা ছিল সেটা খুলতে বলে বিএসএফ সদস্যরা। জঙ্গালটা খুলতে গিয়ে আমি অজ্ঞান হয়ে পড়ি। প্রায় দুই মিনিট পরই আমার জ্ঞান ফিরে আসে। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা আমাকে বলে, বাংলাদেশে গিয়ে বলবি ভারতে আর কাউকে আসতে দিবো না। কেউ আসলে গুলি করে মেরে ফেলা হবে। বেলা দেড়টার দিকে বিএসএফ সদস্যরা আমাকে ছেড়ে দেন। এরপর পায়ে হেটে কুলিক নদীর ধারে এসে পড়ে যাই, আর হাটতে পারছিলাম না। পরে স্থানীয় লোকজন আমাদের উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে।’

রুহুল আমিনের ছোট ভাই রাণীশংকৈল উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আনছারুল হক বলেন, এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে ভারতীয় কিশানগঞ্জ ব্যাটালিয়নের মূকেশ ক্যাম্পের সদস্যরা। বড়ভাই রুহুল আমিনকে বিএসএফ ধরে নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক বিজিবির জগদল বিওপির সদস্যদের অবগত করা হয়।

তিনি বলেন, ‘বেলা দেড়টার দিকে বড় ভাই রুহুল আমিনকে মারপিট করা শেষে ছেড়ে দেয় বিএসএফ। পরে কুলিক নদীর ধার থেকে ভাইকে উদ্ধার করে আনা হয়। স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঠাকুরগাঁওয়ের রোদেলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।’

রুহুল আমিনের স্ত্রী আলফাতুন নাহার লাবনী বলেন, ‘আমার স্বামী বাংলাদেশের ভেতরে মহিষ দিয়ে জমিতে চাষ করছিল। কিন্তু বাংলাদেশের ভেতরে প্রবেশ করে অন্যায়ভাবে ভারতীয় বিএসএফ সদস্যরা আমার স্বামীকে ধরে নিয়ে যায় এবং মারপিট করে ছেড়ে দেয়। তার পুরো শরীরে আঘাতের দাগ হয়েছে। আমি এর বিচার দাবি করছি।’

রোদেলা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ওবায়দুল হক বলেন, ‘রুহুল আমিনের পুরো শরীরে প্রচুর আঘাত করা হয়েছে। এতে তার পুরো শরীরে কালো কালো দাগ হয়ে গেছে এবং তার প্রসাব বন্ধ হয়ে গেছে। তার চিকিৎসা চলছে। সুস্থ হতে বেশ সময় লাগবে।

এ বিষয়ে কাঠালডাঙ্গী বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের কোম্পানি কমান্ডার মো. আবুল হোসেন বলেন, ‘রুহুল আমিনকে নির্যাতন করার খবর পাওয়ার পর সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিজিবি-বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএসএফকে আমরা মৌখিকভাবে ঘটনার প্রতিবাদ জানাই। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা জানান, রুহুল আমিন মহিষ নিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছিল। তারপরও তারা ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস প্রদান করে।’

advertisement
advertisement