advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

আমাদের আরও সামনে এগোতে হবে

সংসদে প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫ নভেম্বর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৫ নভেম্বর ২০২১ ০২:৩৮ এএম
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে গতকাল জাতীয় সংসদে সাধারণ প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা -ফোকাস বাংলা
advertisement

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে। চলার পথে অনেক বাধা আমাদের অতিক্রম করতে হয়েছে। শত বাধা অতিক্রম করে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের আরও এগোতে হবে। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে আনা ১৪৭ বিধির প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে সরকারপ্রধান নিজেই প্রস্তাবটি তোলেন। দুদিন আলোচনা করে আজ বৃহস্পতিবার প্রস্তাবটি গ্রহণ করার কথা।

প্রধানমন্ত্রীর উত্থাপিত প্রস্তাবটি হলো- ‘সংসদের অভিমত এই যে, ২০২১ সালে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ৫০ বছরপূর্তিতে সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন বাঙালির জাতীয় জীবনে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। সমগ্র বিশ্বে বাংলাদেশ আজ এক উন্নয়ন বিস্ময়।’ এতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাঙালির সংগ্রাম ও স্বাধীনতা অর্জন, ৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা ও দেশের অগ্রগতি থমকে যাওয়া এবং বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব উন্নয়নের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। প্রস্তাবে আরও বলা হয়, ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের এই ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণে তারুণ্যোদীপ্ত বাংলাদেশ সব চ্যালেঞ্জ উত্তরণ ঘটিয়ে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত, শোষণ ও বৈষম্যহীন, উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলারূপে বিশ্বসভায় মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হোক, এই হোক আমাদের প্রত্যয়।’

প্রস্তাবটি উত্থাপনের পর এর ওপর সাধারণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি দীর্ঘদিন দেশ চালাচ্ছি। প্রতিটি ক্ষেত্রে যখন কোনো কাজ করতে যাই, দেখতে পাই সেটার ভিত্তি জাতির পিতা তৈরি করে দিয়ে গেছেন। আমার কাছে বিস্ময়কর মনে হয়, এত অল্প সময়ে কীভাবে এত কাজ করে যেতে পারলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য, যখন তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ে তুলছিলেন তখন কিছু লোক অস্থিরতায় ভুগছিলেন। পাকিস্তানি হানাদাররা সারেন্ডার করেছিল ঠিকই, কিন্তু তারা কিছু দালাল যুদ্ধাপরাধী রেখে যায়। তারা আমাদেরই মুক্তিযুদ্ধের অংশকে হাতিয়ে নিয়ে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা চালায়। দেশ স্বাধীন হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াবে, তা পাকিস্তানি দোসররা মানতে পারেনি।

বঙ্গবন্ধুর সরকারের সময় নানা ষড়যন্ত্রের প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, চক্রান্ত মোকাবিলা করেই জাতির পিতা দেশকে গড়ে তুলছিলেন। যেন কারও কাছে হাত পাততে না হয় সেজন্য তিনি দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি দেন। ধনী দরিদ্রের বৈষম্য দূর করতে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করেন। বঙ্গবন্ধু যে কাজগুলো করতে চেয়েছিলেন, এর জন্য আর পাঁচ বছর পেলে বাংলাদেশ উঠে দাঁড়াতো। আজ যে সম্মানজনক অবস্থানে আমরা আসতে পেরেছি, জাতির পিতা বেঁচে থাকলে সেই জায়গায় আমরা স্বাধীনতার ১০ বছরে পৌঁছে যেতে পারতাম।

তিনি আরও বলেন, যারা স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশ মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে যাক- এটা চায়নি, তারা এটা সহ্য করতে পারেনি। তারা নানা অপপ্রচার করেও যখন জনগণের সহায়তা পেল না, তখনই নির্মমভাবে তাকে হত্যা করা হয়। তাকে হত্যার মধ্য দিয়ে দেশে বারবার ক্যু, মুক্তিযোদ্ধা, সাধারণ মানুষের মৃত্যু, সংবিধান ক্ষতবিক্ষত। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আমাদের ভিক্ষুকের জাতিতে পরিণত করা হয়েছিল।

করোনা মহামারী মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, কোটি মানুষ ভ্যাকসিন পেয়েছে। ভ্যাকসিনের কোনো অভাব হবে না। অনেক উন্নত দেশ বিনা পয়সায় ভ্যাকসিনও দেয় না, টেস্টও করে না। আমরা বিনামূল্যে টেস্ট করাচ্ছি, ভ্যাকসিন দিয়ে যাচ্ছি। ক্ষমতাকে জনগণের সেবা করার সুযোগ মনে করেন জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণ ভোট দিয়েছে বলে আমরা সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করতে পারছি। স্বাধীনতার রজতজয়ন্তী উদযাপনের সময়ও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল।

advertisement
advertisement