advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

সম্পর্ক অবনতির কথা স্বীকার তুর্কি রাষ্ট্রদূতের

যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি

কূটনৈতিক প্রতিবেদক
২৫ নভেম্বর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৫ নভেম্বর ২০২১ ০২:৩৮ এএম
advertisement

ঢাকায় নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মোস্তফা ওসমান তুরান মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি কার্যকরের পর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অবনতির কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, অতীত নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে চাই না। আমি কারও নাম নেব না, তবে এটুকু বলব, আমরা কারও দ্বারা বিভ্রান্ত হয়েছিলাম, এ দায় আমাদের। কিন্তু এটি মানতে হবে রাজনীতি রাজনীতিই। এটি অনেক সময় ব্যক্তি চিন্তার ঊর্ধ্বে বা আওতার বাইরে চলে যায়। তাই আমি জোর দিতে চাই সম্পর্ক এবং বন্ধুত্বে।

গতকাল বুধবার রাজধানীর বারিধারায় তুরস্কের নতুন চ্যান্সারি ভবনে অনুষ্ঠিত এক ব্রিফিংয়ে রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন।

জামায়াত ইসলামীর সঙ্গে তাদের বাড়তি খাতির রয়েছে কিনা এমন প্রশ্নে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘কোনো রাজনৈতিক দল বাংলাদেশে নিষিদ্ধ না হলে তাদের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক থাকবে। তবে কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রতি তুরস্ক পক্ষপাতিত্ব দেখায় না। বাংলাদেশের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক সঠিক পথেই আছে। বন্ধুপ্রতিম দুদেশের সম্পর্কে ওঠানামা থাকতেই পারে। এটি নানা কারণে হয়ে থাকে। এ জন্য আমি খোলাখুলিভাবে জবাবটা দিচ্ছি। কোনো কূটনীতি নয়, সততার সঙ্গে কথাগুলো বলছি। সেই সময়ের ঘটনার ভুল ব্যাখ্যা রয়েছে। এটি আমাদের দিক থেকেই হয়েছে। তা ছাড়া তুরস্ক সব সময় মৃত্যুদণ্ডবিরোধী। তাই আমরা এ নিয়ে কথা বলেছিলাম। বাংলাদেশ কী করবে না করবে এ সিদ্ধান্ত একান্তভাবেই এখানকার সরকার এবং নেতৃত্ব ঠিক করবে। বন্ধু হিসেবে আমরা এ নিয়ে কথা বলেছি, কোনো প্রভাব বা ক্ষতির জন্য নয়।’

বাংলাদেশের সঙ্গে তুরস্কের বহুমাত্রিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপট টেনে রাষ্ট্রদূত তুরান দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, আমাদের মধ্যে আত্মার সম্পর্ক বিদ্যমান। এটি নষ্টের সাধ্য কারও নেই। তার পরও প্রশ্ন আসে- ২০১৬ সালে যেখানে উভয় দেশ পাল্টাপাল্টি রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করেছিল, সেখানে বর্তমানে সম্পর্ক এভাবে ইউটার্নের নেপথ্য কারণ কী? জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, ২০১৬ সালে তুরস্কে সামরিক অভ্যত্থান চেষ্টার কঠিন দিনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বপ্রথম চিঠি পাঠিছিলেন। বিশ্বের প্রথম দেশ বাংলাদেশ যারা তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের পাশে দাঁড়িয়েছিল। আমাদের ইউরোপিয়ান বন্ধুরা যখন কিংকর্তব্যবিমূঢ় তখন সবার আগে সংহতির বার্তা পাঠান শেখ হাসিনা। আপনারা বলতে পারেন ওই বার্তা আমাদের সম্পর্ক মেরামতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু আমি এটিকে অন্যভাবেই দেখি। তা হলো, আমাদের দুই দেশের বন্ধন কত মজবুত এটি তারই প্রমাণ। এ ছাড়া রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা সংকট শুরুর সময় তুরস্কের ফার্স্টলেডির বাংলাদেশ সফরের কথাও উল্লেখ করেন।

তুরস্ক বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি নানা পণ্যের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়াতে চায় বলে জানান রাষ্ট্রদূত তুরান। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে ভারসাম্যমূলক বাণিজ্য বিরাজ করছে। বর্তমান ৮৫০ মিলিয়ন ডলার বাণিজ্য বেড়ে ১.২ বিলিয়ন ডলারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তুরস্ক বাংলাদেশ থেকে পাট বেশি আমদানি করে। ওষুধশিল্পে বাংলাদেশ অনেক উন্নয়ন করেছে। তুরস্ক এ খাতে আগ্রহী। এ ছাড়া চামড়া, জাহাজ নির্মাণশিল্পেও আগ্রহী যৌথভাবে বিনিয়োগে। আমরা জাহাজশিল্পে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।

তুরস্ক সামরিক সরঞ্জাম নিজ দেশের জন্য উৎপাদন করে জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, তাদের তৈরি কিছু ড্রোন সিরিয়া ও লিবিয়ায় ব্যবহার হয়। বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বাড়াতে দেশটির আগ্রহের কথাও জানান রাষ্ট্রদূত। বহুল আলোচিত ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজিবিষয়ক এক প্রশ্নে ওসমান তুরান বলেন, অব্যাহতভাবে চীনের উত্থানের ফলে ইউরোপসহ গোটা বিশ্বে ক্ষমতা ও রাজনীতির পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। চীনের প্রভাবকে সামলাতে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগীরা নানা কৌশল অবলম্বন করছে। ইন্দো- প্যাসিফিক এমনই এক উদ্যোগ। তুরস্ক স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ। ফলে বাংলাদেশের মতো তুরস্কও নিজের পররাষ্ট্রনীতি নিজে নির্ধারণ করে। এসব ক্ষেত্রে আমরা বরাবরই ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রেখে চলেছি।

advertisement
advertisement