advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

মানুষের রোগপ্রতিরোধে বিবর্তন কি ঘটছে

প্রাকৃতিকভাবে এইডসমুক্ত তরুণী

আমাদের সময় ডেস্ক
২৫ নভেম্বর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৫ নভেম্বর ২০২১ ০২:৩৮ এএম
advertisement

মানুষের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতারও কি ক্রমশ বিবর্তন ঘটছে? না হলে এমন কীভাবে হয়! হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস বা এইডস সংক্রমিত এক তরুণীর শরীর থেকে হঠাৎই গায়েব হয়ে গেছে প্রাণঘাতী অসুখটি। ২০১৩ সালে এইডস ধরা পড়েছিল তরুণীর। তার স্বামীও এই রোগে মারা যান। অথচ কার্যকর কোনো চিকিৎসা ছাড়াই এইডসকে হারিয়ে দিয়েছেন সেই তরুণী। বিস্মিত চিকিৎসকদের দাবি, প্রাকৃতিকভাবে কারও এইডসমুক্ত হওয়ার ঘটনা এই প্রথম।

আর্জেন্টিনার এসপেরানজা শহরের বাসিন্দা ৩০ বছর বয়সী এইডস আক্রান্ত ওই তরুণী আর পাঁচজন সংক্রমিতের মতো ছিলেন না। চিকিৎসকদের পরিভাষায় তিনি ছিলেন ‘এলিট কন্ট্রোলার’। অর্থাৎ সংক্রমিত হওয়ার বহু বছর পরে তার শরীরে এইডস ধরা পড়ে। এর পর থেকেই ওষুধ খেতে শুরু করেন তিনি। তার পর আচমকাই তিনি ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দেন। কিন্তু অসুখ আর ফিরে আসেনিÑ যেটা সাধারণত হয় না। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে আমেরিকান জার্নাল অ্যানালস অব ইন্টারনাল মেডিসিনে।

মানব শরীরে যে কোনো ভাইরাস সংক্রমণের পর দেখা যায়, ভাইরাসটি শরীরে প্রতিলিপি গঠন করতে থাকে। এই আর্জেন্টাইন তরুণীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে, তার ডিএনএতে ভাইরাসের উপস্থিতির কোনো ছাপ নেই। অর্থাৎ ‘প্রোভাইরাস’ গঠন হয়নি। ‘প্রোভাইরাস’ হলো, যখন ভাইরাসের জেনেটিক ম্যাটেরিয়াল মানবকোষের ডিএনএর মধ্যে ঢুকে যায় এবং মানবকোষের জিনোমের সঙ্গেই প্রতিলিপি গঠন করতে থাকে। এ ক্ষেত্রে গবেষকরা বহু পরীক্ষার পরও ভাইরাসের অস্তিত্ব খুঁজে পাননি তরুণীর দেহে। তারা বলছেন, এটিকে বলে স্টেরিলাইজিং কিওর। অর্থাৎ, ওই তরুণীর শরীরের ভাইরাসের কোনো প্রতিলিপি নেই। কিন্তু কীভাবে এ ঘটনা ঘটল?

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এর আগেও দুজন এইডস রোগীর সুস্থ হয়ে ওঠার নজির রয়েছে। কিন্তু তাদের রক্তের ক্যানসার ছিল। সে জন্য দীর্ঘ চিকিৎসা চলেছিল। স্টেম সেলও প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল। তার পর এক সময়ে তারা এইচআইভিমুক্ত হন। কিন্তু ওই তরুণীর ক্ষেত্রে এসব কিছুই হয়নি, সবটাই ঘটেছে প্রকৃতির নিয়মে। কীভাবে এটা হলো, তার কোনো উত্তর নেই চিকিৎসকদের কাছে। একটি বিষয়েই শুধু তারা দ্বিধাহীন তা হলো- এইডস থেকেও সেরে ওঠা সম্ভব।

বিশ্বে এখন পর্যন্ত এইডসে আক্রান্ত ৮ কোটি মানুষ চিহ্নিত হয়েছেন। যার মধ্যে মারা গেছেন ৩ কোটি ৬৩ লাখ। ২০২০ সালের পরিসংখ্যান বলছে, ওই বছর বিশ্বে অন্তত ৩ কোটি ৭৭ লাখ মানুষ এইডস নিয়ে জীবিত ছিলেন। এ পর্যন্ত এইডসের কোনো চিকিৎসা বের হয়নি। এতদিন বিজ্ঞানীরা বলেছেন, একবার কেউ এইডসে সংক্রমিত হলে, সারাজীবন এই ভাইরাস নিয়েই বাঁচতে হবে তাকে। দশকের পর দশক গবেষণার পরও এই রোগ থেকে পরিত্রাণের পথ খুঁজে পাননি চিকিৎসকরা। এ অবস্থায় একজন এইডসজয়ীর খবর পেয়ে উচ্ছ্বসিত চিকিৎসক-বিশেষজ্ঞ মহল। খবর আনন্দবাজারের।

advertisement
advertisement