advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

দারাজের প্রতিবাদ ও প্রতিবেদকের বক্তব্য

অনলাইন ডেস্ক
২৫ নভেম্বর ২০২১ ০৯:১৫ পিএম | আপডেট: ২৬ নভেম্বর ২০২১ ১২:৫০ এএম
advertisement

দৈনিক আমাদের সময়ে গত ১৪ নভেম্বর প্রকাশিত ‘দারাজে ৯ হাজার কোটি টাকার অবৈধ ভার্চুয়াল পণ্য বিক্রি’ প্রতিবেদনটি অযৌক্তিক, মানহানিকর ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত দাবি করেছে দারাজ বাংলাদেশ। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, দেশের প্রচলিত আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনা করে। দারাজের প্ল্যাটফর্ম থেকে সেলাররা পণ্যের ছবিসহ ডেসক্রিপশন আপলোড করে এবং ক্রেতারা সেই পণ্য দারাজের অ্যাপ বা ওয়েবসাইট ব্যবহার করে সেলারের কাছ থেকে ক্রয় করে। কোনও পণ্যের দায় দারাজের না, বরং সেলার বা বিক্রেতার। দারাজ শুধুমাত্র একটি প্ল্যাটফর্ম, যা ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে সেতু বন্ধন তৈরি করে। আমরা এক্ষেত্রে নিশ্চিত করতে চাই, দারাজ বাংলাদেশ দেশের ইকমার্স ব্যবসার সম্প্রসারণে এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় অনবদ্য অবদান রাখছে।

দারাজ কোনোভাবেই অর্থপাচার সম্পৃক্ত কোনো বিষয়ে জড়িত নয়। কিছু সেলার দারাজের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিদেশি ব্যাংকের কার্ড বিক্রি করার চেষ্টা করে থাকলেও সেটা আমাদের নজরে আসলে এবং শনাক্ত করতে পারলে সাথে সাথে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করি। পাশাপাশি, আমরা জানাতে চাই, দেশের ই-কমার্স ইকোসিস্টেমের উন্নয়নে এবং ক্রেতাদের স্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধিতে দারাজ  সেলারদের  সংশ্লিষ্ট নানা ব্যাপারে সচেতন করে তুলতে সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে। দারাজ বাংলাদেশ ডিজিটাল পণ্য ক্যাটাগরি ব্যবসা মোট ব্যবসার অতি নগন্য অংশ জুড়ে আছে। বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর পর থেকে দারাজ নিরলসভাবে দেশের ই-কমার্সের বিকাশে কাজ করে চলছে। দারাজ বাংলাদেশ লিমিটেড একটি ই-কমার্স মার্কেট প্লেস। এর অর্থ দারাজ নিজে কেনো পণ্য আমদানি, রপ্তানি, উৎপাদন ও বিক্রি করে না।

প্রতিবেদকের বক্তব্য

চলতি বছরের ৪ জুলাই বানিজ্যন্ত্রনালয় প্রকাশিত গেজেটে ‘ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ২০২১’তে স্পষ্ট করেই বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি ব্যতিরেকে ডিজিটাল মাধ্যমে কোন ধরণের অর্থ ব্যবসা পরিচালনা করা যাবে না।’ বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো সিরাজুল ইসলাম আমাদের সময়কে বলেছেন, একজন বিদেশি ব্যাংকের কার্ড নিয়ে সেটা নিজে ব্যবহার না করে অন্যের কাছে বিক্রি করতে পারেন না। অনলাইনে বিদেশি ব্যাংকের যে ভার্চুযাল কার্ড বিক্রি হচ্ছে সেটার বৈধতা নেই তাদের। আমাদের সময় অনুসন্ধান করে দেখেছে, দারাজের অন্যতম মূল ব্যবসা হচ্ছে অনুমোদনহীন বিদেশি ব্যাংক কার্ড, গেইম ও সফটওয়্যার বিক্রি। সিআইডির সর্বশেষ তদন্ত অনুযায়ী, দারাজ গত দুই বছরে বিদেশে ব্যাংকের কার্ড বিক্রি করেছে প্রায় এক লাখ। সিআইডির তদন্ত সংশ্লিষ্টরা আমাদের সময়কে জানিয়েছে, দারাজ সরবরাহকারীদের সঙ্গে চুক্তি করে আমদানি নিষিদ্ধ এসব এসব ডিজিটাল পণ্য বিক্রি করেছে।  দৈনিক আমাদের সময়ে অবৈধ ভার্চুয়াল পণ্য বিক্রির প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর দারাজ তাদের ভার্চুয়াল কার্ডসহ অবৈধ ডিজিটাল পণ্য তাদের ওয়েবসাইট থেকে তুলে নিয়েছে মর্মে তাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করে দেখা যায়। আমাদের সময়ের প্রশ্ন তাদের পণ্য অবৈধ ও এদেশিয় আইনে বিক্রির অনুমোদন থাকলে তারা এসব পণ্য তুলে নিলেন কেন? তবে গত সেপ্টেম্বর থেকে ধারাবাহিক ভাবে দারাজ থেকে কেনা বিদেশি ব্যাংকের ভার্চুয়াল কার্ড আমাদের সময়ে হাতে রয়েছে।

গত ২২ সেপ্টেম্বর দারাজ প্লাটফর্ম থেকে কেনা ৫ ডলারের ভার্চুয়াল পেমেন্ট গিফট কার্ডের দাম রাখা হয় ৭৫০ টাকা। ১০ অক্টোবর দারাজ প্লাটফর্ম থেকে কেনা ইউনিক আইটি সল্যূশনের যে কোন আন্তর্জাতিক অর্থের জন্য রিলোডযোগ্য ভার্চুয়াল কার্ডের দাম রাখা হয় ১০০০টাকা। গত ১০ নভেম্বর ‘থ্রি এস স্টোরেস’ নামে প্রতিষ্ঠানের অনলাইন পেমেন্টের ভার্চুয়াল কোড কেনা হয় ৬৫০ টাকায়।

দারাজের দাবি, দারাজ শুধুমাত্র একটি প্ল্যাটফর্ম, যা ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে সেতু বন্ধন তৈরি করে। আমাদের সময়ে কাছে তথ্য রয়েছে, দারাজের এমডি মোস্তাহিদল ইসলামের নামে নিবন্ধিত রবি নম্বরের একটি সিমে দারাজ বাংলাদেশের মার্চেন্ট একাউন্ট। ডিজিটাল পণ্য বিক্রির টাকাও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এমডির নামে নিবন্ধিত রবির সিমের মার্চেন্ট নম্বরে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা ঢোকে  (যার শেষ ছয় সংখ্যা-৪২৮৯৯৯)। সেই টাকা বিদেশি ব্যাংকের ভার্চুয়াল কার্ড সরবরাহকারীদের দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাদেরকে ডলারসহ বিদেশি মুদ্রা দেওয়া হচ্ছে। সেই মুদ্রা কেনার অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাঠাচ্ছে দারাজে পণ্য বিক্রেতা।

দারাজের বিরুদ্ধে তদন্তের সর্বশেষ তথ্যের ব্যাপারে সিআইডির একজন কর্মকর্তা আমাদের সময়কে বলেন, একটি ই-কমার্স সাইটে কি বিক্রি হচ্ছে তার দেখভালে দায়িত্ব প্রতিষ্ঠানটি এড়াতে পারে না। পণ্য যাচাই-বাছাই করেই ওয়েবসাইটে বিক্রির জন্য আপলোড করতে হবে। আর দারাজে পণ্য বিক্রির টাকা সরবরাহকারীদের একাউন্টে না ঢোকে যেহেতু তাদের এমডির মোবাইল মার্চেন্ট একাউন্টেই ঢোকেছে। তাই দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, দারাজের কাছে ডিজিটাল পণ্য বিক্রেতাদের একটি তালিকা চাওয়া হয়েছে। পুলিশও তদন্ত করে সরবরাহকারীদের একটি তালিকা প্রস্তুত করেছে। লাখ লাখ ডলারের কার্ড দারাজে সরবরাহকারীরা কিভাবে দেশে আনতেন সেটা জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ডলার কেনার জন্য তারা কিভাবে বিদেশে টাকা পাঠাতেন তা তদন্ত করে দেখবে সিআইডি। দারাজে বিক্রি করা অবৈধ পণ্যের সরবরাহকারীদের ব্যাংক হিসাব চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বরাবর চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি। দারাজের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে পণ্য সরবরাহকারীদেরও।

উল্লেখ্য, গত ১২ নভেম্বর দারাজে অবৈধ পণ্য বিক্রি ও মানিলন্ডারিংয়ের বিষয়ে জানতে আমাদের সময়ের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে তাদের চিফ ফিন্যান্সেসিয়াল অফিসার (সিএফও) মাহবুব হাসান তাদের মিডিয়া শাখায় যোগাযোগ করতে বলেন। মিডিয়া শাখায় যোগাযোগ করলে লিখিত প্রশ্ন দিতে বলা হয়। আমাদের সময়ের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রশ্নে দারাজের ভার্চুয়াল কার্ড, গিফট কার্ড ও সফটওয়্যারসহ অবৈধ পণ্য বিক্রির বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। তবে সেসব প্রশ্নের তারা সরাসরি কোনো উত্তর তখন দেননি।

advertisement
advertisement