advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

নারীর জন্য গণপরিবহন সিট খালি নাই

মুক্তা মাহমুদ : সাংবাদিক
২৬ নভেম্বর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৫ নভেম্বর ২০২১ ১১:১৮ পিএম
advertisement

রূপসা মধ্যবিত্ত একটি পরিবারের মেয়ে। তিনি চাকরি করেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। প্রতিদিনই তাকে অফিসে আসা-যাওয়া করতে চড়তে হয় গণপরিবহনে। কিন্তু কেমন সে অভিজ্ঞতা? রূপসার কথায়- ‘অফিসে আসতে বাসা থেকে বের হতেই বাসে উঠতে গেলে প্রথমেই যে কথা শুনতে হয়, তা হলো বাসে জায়গা নাই।’ অফিস শেষে ফেরার পথেও প্রথম শুনতে হয়, ‘জায়গা খালি নাই।’ অথচ চোখের সামনে দেখি বাস কন্ডাক্টর ডেকে ডেকে ওঠাচ্ছেন পুরুষদের।

গণপরিবহনের আরেক যাত্রী মৌটুসী বললেন, ‘ছোটবেলা থেকেই গণপরিবহনে চড়ছি। সেই থেকে এখন পর্যন্ত কোনোকালেই আমার অভিজ্ঞতা ভালো নয়। নৈরাজ্য, সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য শোষণে পিষ্ট আমি-আপনি সবাই। আমি নারীযাত্রী তো ভাই, ইঞ্জিনের ওপর সিট দিছে সরকার, পুড়তে পুড়তে যাই আর পুড়তে আসি।’

সোমার ভাষায়- ‘বাস এলেই ছুটে যাই। বাসে উঠতে চেষ্টা করি। না পেরে আবার পিছিয়ে যাই। অপেক্ষা করি আরেকটার জন্য। এভাবে দশ-পনেরো মিনিট, আধা ঘণ্টা, এমনকি এক দেড় ঘণ্টা পর উঠতে হয় বাসে। এ যুদ্ধ আমার প্রতিদিনের।’

প্রেগন্যান্সি নিয়ে গণপরিহনের অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে কেঁদেই ফেললেন শায়লা। তিনি জানালেন, এমন নিগৃহীত হয়েছেন যে, যাতায়াতের কারণে শেষ পর্যন্ত চাকরিই করতে পারেননি।’ এর পর তো হেলপার, পুরুষযাত্রীদের গায়ে হাত দেওয়া, ইচ্ছা করে পায়ের ওপর জুতা দিয়ে চাপ দেওয়া অথবা ইচ্ছা করে গা ঘেঁষে দাঁড়ানো- যাতায়াতে নারীদের প্রতিদিনের এ ভোগান্তির যেন সুরাহা নেই। নারীদের বাসে উঠতে বাধা, হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার আবার যে কয়টা সিট নির্ধারিত (তাও আবার শিশু ও প্রতিবন্ধী মিলে), সেগুলোও থাকে পুরুষের দখলে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর শ্রমশক্তি জরিপ ২০১৬-১৭ তথ্য মতে, দেশে কর্মজীবী নারীর সংখ্যা ১ কোটি ৮৬ লাখ ৪৬ হাজার। বিপরীতে কর্মজীবী পুরুষ রয়েছেন ৪ কোটি ২১ লাখ ৮২ হাজার। কিন্তু দেশে সরকারি ব্যবস্থাপনায় নারীদের জন্য বাস ২১টি আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪টি। নারীদের জন্য গণপরিবহনের এই সামান্য ব্যবস্থা- যা মোটেই স্বস্তিদায়ক নয়। তবে কি এভাবেই চলবে নারীদের যাতায়াত? সমাধান কোথায়? নারীর ক্ষমতায়ন চাইলে সবার আগে তার যাতায়াতব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। গণপরিবহনে নারীর যাত্রা নিশ্চিত করতে হবে। তা দাঁড়িয়ে বা বসে- যেভাবেই হোক। বাসে উঠতেই বাধা দেওয়ার যে মানসিকতা, তা পরিবর্তন অতিজরুরি। নানা প্রেক্ষাপটেই একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারীর বাসায় পৌঁছানো বেশি জরুরি (এখানে একটি কারণ উল্লেখ না করলেই নয়। অনেক নারীই ব্রেস্ট ফিডিংয়ের শিশুকে বাসায় রেখে আসেন। সেই নারীর জন্য যানজটের এ শহরে বাসায় দ্রুত পৌঁছানো ভীষণ জরুরি)।

নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের জন্য বাসে ৯টি আসন সংরক্ষিত রাখার নিয়ম রয়েছে। নিয়ম ভাঙলে আবার জরিমানা ও দণ্ডের বিধানও আছে। সেগুলোতেও নারীরা বসতে পারছেন না। অন্তত এ ৯টি সিট বিনাবাক্যে নিশ্চিত করা জরুরি। সর্বোপরি গণপরিবহন বৃদ্ধি যেমন দরকার, তেমনি পরিবহনে নারীর অবাধ চলাচলের বিষয়টিও নিশ্চিত করা দরকার। এ ক্ষেত্রে আইনের শৈথিল্য দেখানোর সুযোগ নেই। পরিবর্তন চাই পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার পরিবর্তন। পরিবহনে যে পুরুষ সহযাত্রী থাকবেন, তারও উচিত বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নেওয়া। কটাক্ষ বা তির্যক নয়, নারীকে ভিড় ঠেলে পরিবহনে উঠতে দিন। তিনিও সিট না পেলে দাঁড়িয়েই গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন (অসুস্থতা ভিন্ন কথা। অসুস্থ যে কেউ হতে পারেন)।

পরিবহন স্টাফদের নারীদের প্রতি যে কুৎসিত মানসিকতাÑ বাসে উঠতে বাধা দেওয়া, অকারণে হয়রানির ক্ষেত্রে তাদের কাজে নিয়োগ দেওয়ার আগে গুরুত্বসহকারে জানানো যেতে পারে। তবেই যদি তার মধ্যে পরিবর্তন আনা সম্ভব।

নারীর ক্ষমতায়নে যেখানে সরকার নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে, সেখানে যাতায়াতব্যবস্থার নিশ্চয়তা নারীকে দিতেই হবে।

advertisement
advertisement