advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থককে কুপিয়ে হত্যা

আরও চার জেলায় নির্বাচনী সহিংসতায় আহত ৩২

আমাদের সময় ডেস্ক
২৬ নভেম্বর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৬ নভেম্বর ২০২১ ০২:৩৩ এএম
advertisement

প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের মতোই তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচন ক্রমেই প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে। গতকাল সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীর এক সমর্থককে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকরা কুপিয়ে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনী সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৬। এর আগে প্রথম ধাপের নির্বাচনী সহিংসতায় ৫ জন এবং দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনী সহিংসতায় ৩০ জন নিহত হন। নিহতদের বেশিরভাগই আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থক।

এছাড়া গত বুধবার রাতে ও গতকাল আরও চার জেলায় সহিংসতা ঘটেছে। জেলাগুলো হচ্ছে- নারায়ণগঞ্জ, বগুড়া, বরিশাল ও নাটোর। এসব সহিংসতায় আহতের সংখ্যা ৩২ জন। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে এক চেয়ারম্যান প্রার্থীকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করা হয়। ঘটনার জন্য প্রার্থীর লোকজন জাতীয় পার্টির প্রার্থীর কর্মীদের দায়ী করেছেন। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

ব্রাহ্মণবাড়িয়া : নবীনগর উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নে নির্বাচনী সহিংসতায় স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ভিপি মারুফের সমর্থক খাগাতুয়া গ্রামের বাসিন্দা মাসুদ মিয়া প্রতিপক্ষের হামলায় খুন হন। গতকাল ভোরে খাগাতুয়া গ্রামের মোহাম্মদ মাসুদ তার ভাগ্নিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চিকিৎসক দেখানোর জন্য বাড়ি থেকে বের হন। খাগাতুয়া ভোরের বাজারে চা খাচ্ছিলেন তিনি। এ সময় নৌকার প্রার্থীর একদল সমর্থক ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কোপান। তারপর রক্তাক্ত অবস্থায় সিএনজিতে উঠিয়ে নিয়ে খাগাতুয়া পশ্চিম পাড়া কবরস্থান সংলগ্ন নৌকার নির্বাচনী ক্যাম্পের সামনে

দ্বিতীয় দফায় কুপিয়ে তার হাত ও পায়ের রগ কেটে দেন। স্থানীয়রা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় নবীনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। পথে দুপুরের দিকে তার মৃত্যু হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। ঘটনার পর থেকে রতনপুর ইউনিয়নে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রকাশ্যে খুনের ঘটনায় সাধারণ ভোটারদের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

নিহতের ভাগ্নি শারমিন আক্তার অভিযোগ করেন, আমাদের সামনে অ্যাডভোকেট রব মিয়া, শফিক মিয়া, আলমসহ কয়েজন সিএনজি দিয়া আইসা আমার মামাকে কুপিয়ে সিএনজি দিয়ে পশ্চিমপাড়া শাকিল মিয়ার নৌকার অফিসের সামনে আবার কোপায়। আনারস মার্কার নির্বাচন করার কারণে আমার মামারে খুন করেছে।

স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ভিপি মারুফ জানান, পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে আমার কর্মী মাসুদকে। আমার কর্মী-সমর্থকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী সৈয়দ জাহিদ হোসেন শাকিল বলেন, এই ঘটনায় বিচার হওয়া উচিত। এর সঙ্গে আমার কোনো কর্মী সমর্থক জড়িত না। এইটা তাদের পূর্ব বিরোধের জের ধরে ঘটেছে।

নবীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুর রশিদ বলেন, এটা একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একরামুল ছিদ্দিক বলেন, তদন্তসাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) : সোনারগাঁও উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের ঝাউচর এলাকায় দুই ইউপি সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে এক প্রার্থীর নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর ও দুপক্ষের ৬ জন আহত হন। গত বুধবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন উপজেলা যুবদল নেতা আশরাফুল ইসলাম আশরাফ। তার প্রতিদ্বন্দ্বী পিরোজপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি সেলিম রেজা। বুধবার রাতে আশরাফুল ইসলাম আশরাফের সমর্থকরা মিছিল নিয়ে ঝাউচর এলাকায় সেলিম রেজার নির্বাচনী ক্যাম্পের সামনে গেলে উত্তেজনা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান জানান, এ ঘটনায় ৪ জনকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে উপজেলার জামপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গতকাল বিকালে বস্তল এলাকায় আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী হুমায়ুন কবির ভূঁইয়াকে লক্ষ্য করে গুলি করাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এতে কমপক্ষে ১৫ জন আহত হন। খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন, সোনারগাঁও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) গোলাম মুস্তাফা মুন্না ও সোনারগাঁও থানার ওসি হাফিজুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১০ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়েন। পরে অস্ত্রসহ পারভেজ নামে এক যুবককে এলাকাবাসী আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। সংঘর্ষের সময় দুপক্ষের ৪টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

বগুড়া : সদর উপজেলার নুনগোলা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে গত বুধবার রাতে ফের সংঘর্ষ হয়। ইউনিয়নের দাঁড়িয়াল গ্রামে রাত ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের ২ জন ছুরিকাহতসহ ৫ জন আহত হন। বগুড়ার সদর সার্কেল (ভারপ্রাপ্ত) সহকারী পুলিশ সুপার তানভীর হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, রাত ৯টায় দাঁড়িয়াল বাজার এলাকায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আলিম উদ্দিনের সমর্থকরা দলটির বিদ্রোহী প্রার্থী ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বদরুল আলমের নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা চালায়। খবর পেয়ে বদরুলের সমর্থকরা সংঘবদ্ধ হয়ে আলিম উদ্দিনের নির্বাচনী কার্যালয়ে পাল্টা হামলা চালায় এবং নৌকার নির্বাচনী অফিস ভেঙে ফেলে।

আগৈলঝাড়া (বরিশাল) : আগৈলঝাড়ায় দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকদের হামলায় বিজয়ী প্রার্থীর ৬ সমর্থক আহত হন। গুরুতর আহত ৩ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নে ১ নম্বর সাধারণ ওয়ার্ডের দুই প্রার্থী সমানসংখ্যক ভোট পাওয়ায় বুধবার সেখানে পুনরায় নির্বাচন হয়। ফলাফল ঘোষণার পর রাতে বারপাইকা গ্রামের পরাজিত প্রার্থী আজিজুল শাহ’র সমর্থকরা একই গ্রামের বিজয়ী প্রার্থী সোহেল মোল্লার সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়।

লালপুর (নাটোর) : নাটোরের লালপুরের ঈশ্বরদী ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. আব্দুল আজিজ রঞ্জুর প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর ২০২১) ওই প্রার্থী রিটার্নিং কর্তকর্তা বরাবর এই অভিযোগ করেন। অভিযুক্ত বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আমিনুল ইসলাম জয় বলেন, কারা এ ধরনের কাজ করেছে সে ব্যাপারে তার কিছু জানা নেই। যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়িয়ে চলতে তিনি কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন।

advertisement
advertisement