advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

অসৎ উদ্দেশ্যে জামিনেই বিচারিক ক্ষমতা হারান কামরুন্নাহার

আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ নভেম্বর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৬ নভেম্বর ২০২১ ০২:৩৩ এএম
advertisement

ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোসা. কামরুন্নাহার সম্প্রতি ধর্ষণ মামলার আসামি আসলাম সিকদারের জামিন মঞ্জুর করেন। অথচ ওই আসামির জামিনের ব্যাপারে আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশ ছিল। এ সংক্রান্ত আপিল বিভাগের নির্দেশনা বিচারক কামরুন্নাহার জানলেও অসৎ উদ্দেশ্যে তা অবজ্ঞা করেন। এ কারণেই তার বিচারিক ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আপিল বিভাগ। গত বুধবার রাতে সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটে কামরুন্নাহারের বিচারিক ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া সংক্রান্ত আপিল বিভাগের প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে এসব কথা বলা হয়।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের লিখিত রায়ে বলা হয়েছে, জামিনসংক্রান্ত আপিল বিভাগের নির্দেশনা বিচারক কামরুন্নাহার জ্ঞাতসারেই অবজ্ঞা করেছেন। এ জন্য তিনি ফৌজদারি মামলার বিচার পরিচালনার জন্য উপযুক্ত নন। তাই সংবিধানের ১০৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তার ফৌজদারি বিচারিক ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হলো। তিনি দেশের কোনো ফৌজদারি আদালতে কোনো ধরনের মামলার বিচার পরিচালনা করতে পারবেন না। রায়টি লিখেছেন আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মুহাম্মদ ইমান আলী। রায়ের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন প্রধান বিচারপতিসহ অন্য তিন বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, মো. নূরুজ্জামান ও ওবায়দুল হাসান।

আপিল বিভাগের ছয় পৃষ্ঠার লিখিত রায়ে বলা হয়েছে, ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ৭-এর পূর্ববর্তী বিচারক ধর্ষণ মামলার আসামি আসলাম সিকদারের জামিন পাঁচবার নামঞ্জুর করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীকালে এই ট্রাইব্যুনালের বিচারকের দায়িত্ব নিয়ে মোসাম্মাৎ কামরুন্নাহার অসৎ উদ্দেশ্যে ওই আসামির জামিন মঞ্জুর করেন। এটা সত্য যে কোনো ফৌজদারি মামলায় আসামিকে জামিন দেওয়া না দেওয়ার এখতিয়ার সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারকের রয়েছে। কিন্তু সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের আদেশে আসামির জামিন স্থগিতাদেশ থাকার পরও তার জামিন মঞ্জুরের কোনো সুযোগ সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারকের নেই। গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে আসামিকে জামিন দেওয়ার এখতিয়ার প্রয়োগের বিষয়টি সব সময় বিচারকসুলভ হতে হবে। এ ক্ষেত্রে অপরাধের মাত্রা, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে বিচারককে জামিনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কিন্তু আসলাম সিকদারের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ধর্ষণ মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা ও আত্মপক্ষ সমর্থন এবং যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছিল। মামলার এই পর্যায়ে এসে ওই আসামির জামিন মঞ্জুর যথাযথ হয়নি।

২০১৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ধর্ষণের অভিযোগে বেসরকারি একটি টেলিভিশনের সাবেক অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপক আসলাম সিকদারের বিরুদ্ধে হাতিরঝিল থানায় মামলা করা হয়। ২০১৯ সালের ১৮ জুন হাইকোর্ট থেকে ওই মামলায় জামিন পান আসলাম। এই জামিন আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। যার পরিপ্রেক্ষিতে চেম্বার আদালত একই বছরের ২৫ জুন জামিন স্থগিত করে বিষয়টি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। আবেদনটি আপিল বিভাগে বিচারাধীন অবস্থায় গত বছরের ২ মার্চ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ৭-এর বিচারক কামরুন্নাহার আসামিকে জামিন দেন। সর্বোচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের পরও আসামিকে জামিন দেওয়ার বিষয়টি আদালতের নজরে আনে রাষ্ট্রপক্ষ।

advertisement
advertisement