advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

খালেদাকে ‘স্লো পয়জন’ দেওয়া হয়েছিল কিনা -মির্জা ফখরুল ইসলাম

আমরা পরিষ্কার করে জানতে চাই

২৬ নভেম্বর ২০২১ ১২:০০ এএম
আপডেট: ২৬ নভেম্বর ২০২১ ০২:৩৩ এএম
advertisement

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ‘স্লো পয়জন’ দেওয়া হয়েছিল কিনা- সরকারের কাছে তা জানতে চান দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এই প্রশ্ন তোলেন। খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে তার উন্নত চিকিৎসার

দাবিতে জাতীয়তাবাদী যুবদল এই সমাবেশ আয়োজন করে। এতে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ। চিকিৎসকরা বলছেন, আমাদের বিদ্যা, জ্ঞান প্রায় সব শেষ। আমরা এখানে (দেশে) এর বেশি কিছু করতে পারব না। তারা (খালেদা জিয়ার চিকিৎসকরা) পরিষ্কার করে বলছেন, অবিলম্বে তাকে বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা দিতে হবে; কিন্তু (প্রধানমন্ত্রী) শেখ হাসিনা শুনতে চান না। তার মন্ত্রীরাও বলেন এটা দেওয়া উচিত, আওয়ামী লীগের এমপিরাও বলছেন মানবিক কারণে এটা দেওয়া উচিত; সারাদেশের মানুষও বলছে। দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ বলছে খালেদা জিয়ার বিদেশে উন্নত চিকিৎসা হোক। কেন তিনি (প্রধানমন্ত্রী) চাচ্ছেন না? কারণ প্রতিহিংসা, প্রতিশোধ। আমরা জানি আন্তর্জাতিকভাবেও তার (প্রধানমন্ত্রী) ওপর চাপ আসছে, কোনোটাই তিনি শুনছেন না।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কারাগারে দুই বছরের বেশি সময় আটক রাখা হয়েছিল। স্যাঁতসেঁতে কারাগারের কক্ষে ইঁদুর, চিকা ঘোরাঘুরি করত। এর পর তাকে রাজধানীর পিজি (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়, যেখানে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। তার ভেতরে যে রোগের সূত্রপাত হয়েছিল; সবার মনে প্রশ্ন- সেদিন কি দেশনেত্রীকে স্লো পয়জনিং করা হয়েছিল? আমরা পরিষ্কার করে জানতে চাই।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এ দেশটা তারা বিক্রি করে দিয়েছিল। তারা গণতন্ত্রকে পুরোপুরি নির্বাসিত করে দিয়েছে। এর প্রমাণ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গণতান্ত্রিক দেশগুলো নিয়ে একটি ভার্চুয়াল সম্মেলন আহ্বান করেছেন, সেখানে বাংলাদেশের নাম নেই। নেপাল, পাকিস্তান, ভারতও আছে; কিন্তু বাংলাদেশ নেই।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘পুলিশ নিয়োগ করা হচ্ছে এবং তাদের নিয়োগ হয় দলীয় ভিত্তিতে। এ জন্য অন্তত ২০ লাখ টাকা ঘুষও দিতে হয়। সেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। সম্প্রতি আওয়ামী লীগের কমিশনারকে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করা হয়েছেÑ এটা অশনিসংকেত। একই ধরনের ঘটনা ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেখেছি।’

ফখরুল আরও বলেন, ‘আমরা এমন একটি শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করছি, যাদের কাজই হচ্ছে গণতন্ত্র ধ্বংস করা, মানুষকে হত্যা করা এবং আমাদের সমস্ত স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করা। আমাদের অনেক সাবধানী ও কৌশলী হতে হবে। আমরাসহ দেশের প্রতিটি মানুষ চায় এখনই এই সরকারকে ঘাড় ধরে নামিয়ে দেই। শুধু বিএনপি নয়, সব মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। আমরা যদি ভুল করি, নিশ্চিহ্ন হয়ে যাব। সুতরাং প্রতিটি পদক্ষেপ অত্যন্ত ধৈর্য ও সাহসের সঙ্গে নিতে হবে, মোকাবিলা করতে হবে। আমরা অবশ্যই বিজয়ী হব।’

যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরবের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুর পরিচালনায় সমাবেশে বিএনপি নেতা আমানউল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, যুবদলের মোরতাজুল করিম বাদরু, মোনায়েম মুন্না, নুরুল ইসলাম নয়ন, মামুন হাসান, স্বেচ্ছাসেবক দলের আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, কৃষক দলের শহীদুল ইসলাম বাবুল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

#নিজস্ব প্রতিবেদক

advertisement
advertisement