advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

মর্যাদার বিপরীতে চ্যালেঞ্জ আছে অনেক

উন্নয়নশীল দেশের পথে আরেক ধাপ

২৭ নভেম্বর ২০২১ ১২:০০ এএম
আপডেট: ২৬ নভেম্বর ২০২১ ১০:৩৯ পিএম
advertisement

বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের জন্য গত ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি বা সিডিপির সুপারিশ পেয়েছিল। গত বুধবার সেই সুপারিশ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত হয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, বাংলাদেশের এই উত্তরণ সম্পন্ন হয়েছে। এখন আসলে বাংলাদেশ নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকবে যে তার অর্থনৈতিক উন্নয়নের কাঠামোগত ভিত্তি দৃঢ় হলো কিনা, নীতি ও আইনের ভিত্তি কার্যকর হচ্ছে কিনা এবং চাকরি ও উৎপাদন ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা বজায় থাকার মতো ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে কিনা। বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যে গতিতে ও হারে বাড়ছে, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে এবং রপ্তানি আয় ও মাথাপিছু গড় আয়ের বর্ধিষ্ণু হার কার্যকর রয়েছে তাতে অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করা যায়।

বিশেষজ্ঞরা যে বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত তা হলো উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে যেসব চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হব তার মোকাবিলা নিয়ে। বর্তমানে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা বা দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থায় ভারত-চীনের মতো দেশের বাজারে প্রবেশে শুল্ক সুবিধা পাচ্ছি। কিন্তু উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে এই সুবিধা থাকবে না। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) এক তথ্য অনুযায়ী সে সময় বাড়তি শুল্কের কারণে বাংলাদেশের বার্ষিক রপ্তানি আয় প্রায় ৫৩৭ কোটি ডলার বা ৪৫ হাজার কোটি টাকা কম হবে। এর কারণ বাংলাদেশ তখন বহির্বাণিজ্যে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হবে, নীতিমালার ক্ষেত্রে ঔদার্য বা সহায়তা পাবে না। তদুপরি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উন্নয়ন সহায়তাও কমে আসবে। অনেক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ হলো যেহেতু ২০২৬ সালে এই ধাপে আমাদের চূড়ান্ত উত্তরণ হবে তাই আগামী পাঁচ বছরে নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জিএসপি সুবিধাসহ অন্যান্য সুবিধাপ্রাপ্তি অব্যাহত রাখার জন্য সময়টা কাজে লাগাতে হবে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন তৎপরতা ভালোভাবেই চালাচ্ছে, অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সংকট থেকেও দ্রুত উত্তরণ ঘটাতে পারছে, অর্থনীতি ও উৎপাদনের ভিত্ মজবুত হয়েছে। তবে এখনো অনেক জরুরি কাজ বাকি আছে, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারে লাগাম টানা, শহরমুখী জনস্রোত বন্ধ করা, দক্ষ শ্রমিক তৈরি, মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করা, দুর্নীতি রোধ, নীতি-কাঠামোর কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক সম্পর্ক স্থাপনে কূটনৈতিক দক্ষতার উন্নতি ঘটাতেই হবে। কারণ আগামী দিনে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে নিজেদের অর্থনীতির গতি ও আয়তন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিশ্ববাজারে নিজেদের পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক দরে প্রবেশাধিকার রক্ষা করা জরুরি। আমরা আশা করব একটি মর্যাদাপূর্ণ দেশ হিসেবে টিকে থাকতে আমাদের সরকার উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে সার্থকতা অর্জন করবে। ২০৪১ সালে উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য পূরণ করতে সক্ষম হবে।

advertisement
advertisement