advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement

বাবা সংকটে নাটক-সিনেমা

আলী যাকেরের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

২৭ নভেম্বর ২০২১ ১২:০০ এএম
আপডেট: ২৭ নভেম্বর ২০২১ ০৮:৫৮ এএম
আলী যাকের। পুরোনো ছবি
advertisement

নব্বই দশকে বাসায় টিভি আর হলে সিনেমাই ছিল সাধারণ মানুষের বিনোদনের প্রধান খোরাক। তখন প্রায় সবাই নাটক-সিনেমা দেখতেন। দেখতেন বলেই সে সময়ের অনেক কাজই এখনো জনপ্রিয়। সেসব নাটক ও সিনেমায় কত কত চরিত্র; মা-বাবা, চাচা-চাচি, বড় ভাই-ভাবি, আপা-দুলা ভাই। আর এসব চরিত্রে অভিনয় করে জনপ্রিয় হয়েছেন অনেকে। যাদের ছাড়া নাটক চিন্তা করা যেত না। তাই এসব চরিত্রের অভিনয়শিল্পীরা আজও জীবন্ত! তাদেরই একজন বিশিষ্ট অভিনেতা আলী যাকের। ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে গত বছরের এই দিনে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার। বনানী কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়। জনপ্রিয় এই অভিনেতার মৃত্যুবার্ষিকীতে আমাদের আয়োজন নাটকে সিনিয়র শিল্পীদের অভাব নিয়ে।

একটা সময় ছিল যখন সপরিবারে নাটক উপভোগ করতেন এ দেশের নাটকপ্রেমীরা। সামাজিক বক্তব্যধর্মী নাটকগুলোই দর্শকরা বেশ পছন্দ করতেন। শিক্ষামূলক নাটককেও দর্শকরা ফিরিয়ে দিতেন না। নাটকে ফুটে উঠত সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে টিভি নাটকের বর্তমান চেহারা মোটেও সুখকর নয়। বর্তমানে টেলিভিশন নাটক নির্মিত হচ্ছে প্রেমিক-প্রেমিকাকেন্দ্রিক। ফলে এখনকার নাটকে বাবা-মা, ভাই-ভাবি কিংবা মামা, চাচাবিহীন নাটক ক্রমেই বেড়ে চলেছে। যেখানে নাটক সামাজিক সচেতনতার মূল হাতিয়ার সেখানে অভিভাবকহীন নাটক বর্তমানে পারিবারিক বন্ধন হুমকি স্বরূপ। দুই তিন জন শিল্পী নিয়েই এখনকার নাটক শেষ করা হচ্ছে। এমন অভিযোগ প্রায়ই শুনতে হয়। নাটকের সব টাকা নিয়ে যাচ্ছে নায়ক-নায়িকা দুটি চরিত্র। যার কারণে পরিবার ছাড়াই নির্মাণ হচ্ছে নাটক।

বর্ষীয়ান অভিনেত্রী দিলারা জামান বলেন, ‘এক সময়ে নাটকে মা-বাবার চরিত্র ছিল মুখ্য। আমরা বলি মা-বাবার চেয়ে আপন কেউ নেই। অথচ এখনকার নাটকে সেই তারাই বিলুপ্ত। বর্তমান নাটকে যাদের দেখানো হয়, তারা কি আসমান থেকে এসেছে? এমনও শোনা যায় যে, মা-বাবাকে নিলে বাজেট বেড়ে যায়। আবার এমনও বলে বাবা-মা নিলে চলে না! তাই বলা চলে, বর্তমান টিভি নাটক অভিভাবকহীন!’

কিছুদিন আগে না ফেরার দেশে চলে যান বরেণ্য নাট্যাভিনেতা ড. ইনামুল হক। মৃত্যুর আগে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমাদের সময়ে একটি নাটকে অনেক চরিত্র থাকত। নাটকে যখন অনেক চরিত্র থাকবে তখন বিভিন্ন বয়সের শিল্পীর প্রয়োজন হবে। তখনকার নাটকগুলো পারিবারিক গল্পের ছিল। এখন অনেক নাটকের গল্পে নায়ক-নায়িকার বাইরে অন্য চরিত্র রাখা হয় না। এটার কিছু কারণ আছে, তার মধ্যে অন্যতম বাজেট স্বল্পতা। খরচ বাঁচাতে এমন করা হয়। অন্যদিকে পারিবারিক গল্পের নাটক নির্মাণ করা কঠিন। সময় বেশি লাগে, শিল্পী নির্বাচন করতেও বেগ পেতে হয়। এখনকার অনেক নাটকে এক ধরনের অবাস্তবতাও থাকে। দর্শকও হয়তো চায়। কিন্তু পারিবারিক নাটকে বাস্তবতা থাকে। সেটা সব ধরনের দর্শকই পছন্দ করেন।’ নাট্যকার বৃন্দাবন দাস বলেন, ‘আমাদের বর্তমান নাটকে অনেকগুলো সমস্যার মধ্যে এটি একটি। নায়ক-নায়িকার বাইরে অন্য চরিত্র থাকে না, থাকলেও গুরুত্ব কম। এই সমস্যা বহু দিন ধরেই চলছে। এটা অনেকেই শুধু বাজেট স্বল্পতার ওপর চাপিয়ে দিতে চান, কিন্তু আমার মনে হয় মানসিকতারও অভাব আছে।’

বাস্তবতা হচ্ছে অভিনয়শিল্পীরও সংকট রয়েছে। কেউ একজন নায়ক-নায়িকার বাইরে গিয়ে অভিনয় না করতে চাইলে, তার বদলে অন্যকে দিয়ে সেই চরিত্রে অভিনয় করানো যাবে এমনটাও সম্ভব হচ্ছে না। কারণ নির্মাতারা এ চরিত্রে কাক্সিক্ষত অভিনেতা পাচ্ছেন না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের চরিত্র বা পরিবার বাদ দিয়ে নাটক ও সিনেমা নির্মাণ করতে হচ্ছে। যারা এক সময় দাপুটে নায়ক ছিলেন, তারা এখনো নায়কই হতে চাইছেন!