advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement

নানা কর্মসূচি ঘোষণা
দীর্ঘ হচ্ছে দাবির ফর্দ

খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানো। সচিবালয় কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ৯ দফা। সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদের ৫ দফা। শিক্ষার্থীদের ১০ দফা। এবতেদায়ি শিক্ষকদের ৭ দফা।

শাহজাহান আকন্দ শুভ
২৭ নভেম্বর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৭ নভেম্বর ২০২১ ০২:০০ পিএম
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। পুরোনো ছবি
advertisement

মহামারীর প্রভাবে দেশে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন এক কোটির বেশি মানুষ। এ তালিকায় নিম্ন ও মধ্যবিত্তের নামই বেশি। জীবন-জীবিকার সঙ্গে লড়াই করতে করতে হাঁপিয়ে উঠেছেন তারা। করোনা অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এলেও তাদের লড়াই থামেনি। বরং জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি তাদের লড়াই আরও কঠিন করে তুলেছে। এ অবস্থায় দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা কিংবা দাবির তালিকা। নিম্নআয়ের মানুষের প্রধান দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে, জিনিসপত্রের দাম যেন নাগালের মধ্যে থাকে। কর্মসংস্থানের সুযোগ চায় বেকার জনগোষ্ঠী। বিভিন্ন রাজনৈতিক, পেশাজীবী, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনও সরকারের কাছে একের পর এক দাবি তুলছে। এসব দাবি মোকাবিলা করতে গিয়ে ক্ষণে ক্ষণে নানা চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড়াতে হচ্ছে সরকারকে।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবি বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আলোচিত। দাবি আদায়ে নানা কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠন। সঙ্গে আছে নির্দলীয় সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচনের ‘পুরনো দাবি’। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের জোরালো দাবিও আছে তাদের। বিএনপির এসব দাবির প্রতি আবার অনেক দল ও সংগঠনের সমর্থনও আছে। মহামারীর প্রভাব কাটাতে সরকার ব্যবসা-বাণিজ্যে বিপুল অঙ্কের প্রণোদনা দেয়; যার সুবিধাভোগী বড় ব্যবসায়ীরা। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা মনে করেন, তারা প্রণোদনার সুবিধা খুব একটা পাননি। পেলেও ঋণ পরিশোধের মেয়াদ নিয়ে তারা চিন্তিত। তারা ঋণ পরিশোধে সরকারের কাছে আরও সময় চান। ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন খরচসহ বিদ্যুৎ বিলে স্বল্পমেয়াদে সরকারের কাছে ছাড় চান করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত মাঝারি ও ক্ষুদ্র দোকান ব্যবসায়ীরা। এ ছাড়া গোখাদ্য, পোলট্রি ফিড ও খামার পরিচালনার খরচ বাড়ায় প্রভাব পড়েছে মাছ, মাংস ও ডিমের বাজারে। ফিড প্রস্তুতকারীরা বলছেন, কাঁচামাল ও ফিড তৈরির খরচ কমানো গেলে মাছ, মাংস ও ডিমের দাম সহনীয় পর্যায়ে আনা সম্ভব।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার আমাদের সময়কে বলেন, ‘সরকারকে নাগরিকদের স্বার্থ বিবেচনায় নিতে হবে। সেটা না করে সরকার জনগণের স্বার্থ পরিপন্থী অনেক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। তারা ডিজেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে, এতে মানুষের খরচ বেড়েছে। বাজারে নিত্যপণ্যের দাম অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। গণপরিবহনের ভাড়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। ছাত্ররা রাস্তায় নেমেছেন। অন্যদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনেও দীর্ঘদিন অসন্তোষ বিরাজ করছে। মানুষের অধিকার যখন সংকোচিত হয়, তখন বিভিন্নভাবে অসন্তোষ প্রকাশ পায়।’

বদিউল আলম আরও বলেন, ‘সরকারকে অবশ্যই জনবান্ধব হতে হবে। সরকার জনগণের জন্য কাজ করলে কখনই অসন্তোষ দেখা দেবে না। নইলে জনমনে অসন্তোষ ক্রমে বাড়বে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. হাসানুজ্জামান চৌধুরী আমাদের সময়কে বলেন, ‘বিভিন্ন মহল থেকে বিভিন্ন দাবি আসবে। সরকার যেটা যৌক্তিক মনে করবে, সেটা মেনে নেবে গণতান্ত্রিক দেশে তা-ই হওয়ার কথা। আমি যদি মনে করি, ন্যায্যটা পাচ্ছি না, আমার প্রতি ন্যায়বিচার করা হচ্ছে না, তা হলে তো আমাদের সেটা নিয়ে কথা বলাই উচিত। সেটাই সবাই করছে। আর তার জন্য এই মুহূর্তে আসলে কোনো সংকট তৈরি হয়েছে বলে আমি মনে করছি না।’

গণপরিবহনে অর্ধেক ভাড়ার (হাফ পাস) দাবিতে রাজধানীতে নানা কর্মসূচি পালন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। সিটি করপোরেশনের গাড়িচাপায় নটর ডেম শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনার বিচার, হাফ পাস ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে বৃহস্পতিবারও সড়কে ছিলেন হাজারো শিক্ষার্থী।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির মধ্যেই গত ৪ নভেম্বর সরকার ডিজেল ও কেরোসিনের দাম বাড়ায়। এতে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যায়। খরচ বেড়ে যায় উৎপাদনমুখী শিল্প খাতেও, যার প্রভাব পড়েছে নিত্যপণ্যসহ নানা খাতে। জ্বালানি তেলের দাম কমাতে বিভিন্ন মহল থেকে ইতোমধ্যে দাবি উঠেছে। তবে সরকার জ্বালানি তেলের দাম কমায়নি। উল্টো দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে যৌক্তিক হিসেবে তুলে ধরেছে। সঙ্গে জানিয়েছে, বিশ^বাজারে তেলের দাম কমলে দেশে দাম সমন্বয় করা হবে।

গত সেপ্টেম্বরে দেশের ৫৪ বিশিষ্ট নাগরিক এক বিবৃতিতে নতুন নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের আগে নির্বাচন আইন সংস্কারের দাবি জানান। বিবৃতিতে বলা হয়, বিগত দুই নির্বাচন কমিশনের ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ আচরণের কারণে নির্বাচনী ব্যবস্থায় মানুষের আস্থার সংকট দেখা দিয়েছে। নির্বাচনী ব্যবস্থায় মানুষের আস্থা ফেরাতে নির্বাচন কমিশন এমনভাবে পুনর্গঠন করতে হবে, যেটা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়।

গত ৩০ অক্টোবর বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ নবম বেতন কমিশন গঠনসহ পাঁচ দফা দাবি জানায় সরকারের কাছে। সংগঠনটির মহাসচিব নোমানুজ্জামান আল আজাদ বলেন, গণকর্মচারীরা যেহেতু উন্নয়নের প্রধান হাতিয়ার, সেহেতু তাদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।

সচিবালয় কর্মকর্তা ও কর্মচারী ঐক্য পরিষদ

সরকারের কাছে ৯ দফা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছে সচিবালয় কর্মকর্তা ও কর্মচারী ঐক্য পরিষদ। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে- প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের দশম গ্রেড থেকে নবম গ্রেডে উন্নীত করা, উপসচিব পদের মতো ৫০০ সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টি করে এও-পিওদের সহকারী সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া, টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল করা, ৫০ শতাংশ হারে সচিবালয় ভাতা প্রদান ইত্যাদি।

গত ১ নভেম্বর বন্ধ পাটকল রাষ্ট্রীয় মালিকানায় চালু ও আধুনিকায়নের দাবি আসে পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদের পক্ষ থেকে। এ ছাড়া সংগঠনটি পাঁচটি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকদের পাওনা ২০১৫ সালের মজুরি কমিশন অনুযায়ী এবং শ্রমিকদের অন্যান্য বকেয়া অবিলম্বে পরিশোধের দাবি জানায়।

জাতীয়করণের দাবি ইবতেদায়ি শিক্ষকদের

স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা জাতীয়করণের ঘোষণাসহ সাত দফা দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতি। সমিতির মহাসচিব কাজী মোখলেছুর রহমান আমাদের সময়কে জানান, ১ হাজার ৫১৯টি ইবতেদায়ি মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক সর্বসাকুল্যে আড়াই হাজার ও সহকারী শিক্ষকরা ২ হাজার ৩০০ টাকা ভাতা পান। বাকি রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষকরা ৩৪ বছর ধরে বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত; যা এই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে অমানবিক।

এনটিআরসিএ ১৩তম নিবন্ধনধারীদের নিয়োগের দাবি

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) কর্তৃক ১৩তম বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ নিবন্ধিত শিক্ষকদের সরাসরি নিয়োগ দেওয়ার কথা থাকলেও নিয়োগ পাননি একটি বড় অংশ। যারা পেয়েছেন, তারা আদালতে রিট করে আদায় করে নিয়েছেন বলে জানিয়েছে নিয়োগবঞ্চিত সনদধারী ফোরাম।

ফোরামের মুখপাত্র মো. শামীম আল কায়সার আমাদের সময়কে বলেন, এনটিআরসিএর পরিপত্র অনুযায়ী বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরাসরি শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়। ফলে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শূন্য পদে নিয়োগের লক্ষ্যে এনটিআরসিএ ২০১৬ সালে ১৩তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। নিবন্ধন পরীক্ষায় তিন ধাপে প্রিলি, লিখিত, মৌখিক এবং চূড়ান্তভাবে মোট ১৭ হাজার ২৫৪ প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। উত্তীর্ণ সব প্রার্থীকে সরাসরি নিয়োগ দেওয়ার কথা থাকলেও এনটিআরসিএ তা না করায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের একাংশ (২,২০৭ জন) হাইকোর্টে রিট করেন। তাদের রিটের বিপরীতে হাইকোর্ট নিবন্ধিতদের নিয়োগের পক্ষে রায় দেন।

প্রাথমিকে প্যানেলে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দাবি

প্যানেলের মাধ্যমে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০১৮ প্যানেলপ্রত্যাশী কেন্দ্রীয় কমিটি। কমিটির সমন্বয়ক মো. তাইজুল ইসলাম বলেন, ‘বারবার আশ্বাস দিয়েও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। আমরা সারা বাংলাদেশে মানববন্ধন করেছি। আন্দোলন করেছি প্রেসক্লাবে। একটানা ৬০ দিন অবস্থান কর্মসূচিও পালন করেছি।’