advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement

জলবায়ু প্রকল্পে বিনিয়োগে আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

১৩তম এএসইএম শীর্ষ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৭ নভেম্বর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৭ নভেম্বর ২০২১ ০২:৩৮ এএম
advertisement

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বদ্বীপ পরিকল্পনার মতো দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু প্রকল্পে এএসইএম অংশীদারদের বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি এশিয়া ও ইউরোপকে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকরভাবে লড়াইয়ের জন্য অর্থ ও প্রযুক্তিপ্রবাহকে সংহত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করারও আহ্বান জানান। কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেনে গত ২৫ নভেম্বর থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী ১৩তম এএসইএম শীর্ষ সম্মেলনে প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় শেখ হাসিনা এ আহ্বান

জানান। এএসইএমের ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এএসইএম ১৩-এর সামগ্রিক প্রতিপাদ্য ‘অংশীদারি প্রবৃদ্ধির জন্য বহুপাক্ষিকতাকে শক্তিশালী করা’ শীর্ষক সম্মেলন ইউরোপীয় ও এশিয়ার সদস্য দেশ, ইইউ এবং আসিয়ান সচিবালয়ের নেতাদের একত্রিত করেছে। কম্বোডিয়া বর্তমানে এএসইএমের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এশিয়া ও ইউরোপকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় অর্থ ও প্রযুক্তিপ্রবাহ সংহত করতে অবশ্যই একত্রিত হয়ে হাতে হাত মেলাতে হবে। যৌথ ও টেকসই উন্নয়নের জন্য আমাদের এখন আগের চেয়ে আরও বেশি করে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা প্রয়োজন। উন্নত এবং শিল্পোন্নত অর্থনীতিগুলোকে কপ ২৬-এর বাইরে তাদের জলবায়ু উচ্চাকাক্সক্ষা বাড়াতে হবে। আমি তাদের অনুরোধ করছি, তারা যেন এমন দায়িত্ব না নেয়, যা প্রকারান্তরে আমাদের নিজস্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।’

বাংলাদেশ তার প্রতিবেশীদের জন্য সম্ভাবনাময় সুবিধাসংবলিত একটি আঞ্চলিক সংযোগ কেন্দ্র হতে চায় বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ইইউ-এশিয়া সংযোগ কৌশলের অন্যতম সেতু হওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছে বাংলাদেশ। শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে রেল ও সড়কপথে উপ-আঞ্চলিক যোগাযোগ প্রকল্পে ইউরোপের সম্পৃক্ততাকে স্বাগত জানান। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সহযোগিতার মাধ্যমে যৌথ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে সহায়তা প্রয়োজন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের মতো আঞ্চলিক সংগঠনগুলোকে পাচার প্রতিরোধ, সমুদ্র ও সাইবার নিরাপত্তা প্রতিরোধে এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সময়োপযোগী সহযোগিতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের বহুপাক্ষিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হবে মিয়ানমারের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত জনগণ রোহিঙ্গাদের জন্য একটি স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করা। বাংলাদেশ তাদের অস্থায়ী আশ্রয় দেয় এবং পরিস্থিতি স্থিতিশীল করে। আমরা মিয়ানমারে তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনে জোর দাবি জানাচ্ছি।’ রোহিঙ্গাদের কারণে কক্সবাজার ক্যাম্পের নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে এবং ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ও অপরাধ শিগগিরই সীমান্তের বাইরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

কোভিড-১৯ মহামারী বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং অর্থনীতির ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করেছে এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই মহামারীর কারণে আমাদের উন্নয়ন সংস্থাগুলো ঘুরিয়ে জরুরি চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন কার্যক্রমে ব্যয় করতে বাধ্য করেছে। তবে তার সরকার জীবন ও জীবিকা উভয় সুরক্ষার কৌশল গ্রহণ করেছে। সরকার মহামারীর প্রভাব মোকাবিলায় ৫৪০ কোটি মার্কিন ডলারের ২৮টি উদ্দীপনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে।

কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেন সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন। ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট চার্লস মিশেল, ইউরোপিয়ান কমিশন প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেন সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব করেন। পর্যায়ক্রমে ইইউর কাউন্সিলে প্রতিনিধিত্ব করেন সেøাভানিয়ার প্রধানমন্ত্রী জানেস জানসা। ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড সিকিউরিটি-বিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি জোসেফ বোরেল সম্মেলনে অংশ নেন। খবর বাসসের।