advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

এবারের বিজয়ের মাস নানা কারণে মহিমান্বিত

ড. আতিউর রহমান
১ ডিসেম্বর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ৩০ নভেম্বর ২০২১ ১১:০৬ পিএম
advertisement

ডিসেম্বর বাঙালির অহঙ্কারের মাস, বিজয়ের মাস। আবার দারুণ কষ্টেরও মাস। এ মাসেরই ১৬ তারিখে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ শেষে যৌথবাহিনীর কাছে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ করেছিল। আবার এ মাসেরই ১৪ তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিভাবান শিক্ষকবৃন্দসহ অনেক বুদ্ধিজীবীকে হানাদার পাকিস্তানিদের দোসর রাজাকার-আলবদরদের বিশেষ গেস্টাপো বাহিনী নৃশংসভাবে হত্যা করে। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের এই হত্যাকা- বিজয়ের আনন্দকে ম্লান করে দেয়। তবু সেদিন লাখো মুক্তিকামী মানুষ বিজয়ের সুবাতাস বুকে নেওয়ার জন্য মনের কষ্ট মনেই রেখে রাস্তায় বের হয়ে এসেছিল। সেদিনের রেসকোর্স হয়ে উঠেছিল বিজয়ের ঠিকানা। তখনো বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানে বন্দি। তাই আমাদের বিজয় ছিল অপূর্ণ। আমাদের অসামান্য মুক্তিযুদ্ধ বিশ্ববিবেককে এমনই নাড়া দিয়েছিল যে, তার চাপে পরাজিত পাকিস্তানি অপশক্তি খুব বেশিদিন বাংলাদেশের আরেক নাম আমাদের জাতির পিতাকে আটকে রাখতে পারেনি। এ ডিসেম্বরেই সেই মহামানবের জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানা হবে। কোভিডের কারণে আমরা যেমনটি চেয়েছিলাম, তেমন করে মুজিববর্ষ পালন না করতে পারলেও দেশে ও বিদেশে অনলাইনে তাকে ঘিরে কম অনুষ্ঠান হয়নি। লেখকরাও ঘরবন্দি থেকেও মনের আনন্দে তার ওপর কবিতা, গল্প, উপন্যাস ও নাটক লিখেছেন। বঙ্গবন্ধুকে ঘিরে তরুণ লেখকদের উৎসাহ ছিল আরও বেশি। তাদের সব লেখাই হয়তো কালের কষ্টিপাথরের ঘষায় টিকবে না। তাই বলে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তাদের এ অন্তহীন আগ্রহকে কিছুতেই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। তাকে নিয়ে কত যে ওয়েবিনার হয়েছে মুজিববর্ষজুড়ে, তা বলে শেষ করা যাবে না। এখানেও তরুণদের আগ্রহই ছিল দেখার মতো। আমাদের পত্রপত্রিকাও বসে ছিল না। প্রতিনিয়তই বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কিছু না কিছু একটা প্রকাশ করেছে তারা। দৈনিক আমাদের সময়ও ছিল এ ব্যাপারে খুবই সক্রিয়। অন্যান্য প্রকাশনার পাশাপাশি তারা প্রতি সপ্তাহে ‘আমাদের স্বপ্নের সম্রাট’ নামের আমার একটি কলাম ছেপেছে মুজিববর্ষজুড়ে।

এ ডিসেম্বরেও সব গণমাধ্যমই চেষ্টা করবে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কিছু না কিছু উপস্থাপনা বা প্রকাশনা করার জন্য। কী সৌভাগ্য, এ ডিসেম্বরেই আমরা বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করতে যাচ্ছি। এ মাসের শুরুর দিনেই বাঙালি জাতীয়তাবাদের আঁতুড়ঘর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মশতবার্ষিকীর পক্ষকালব্যাপী অনুষ্ঠানমালার শুভ উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সহযোদ্ধা ভারতীয় মিত্রবাহিনীর আত্মত্যাগের কথাও আমরা যৌথভাবে স্মরণ করব এ মাসেই। ভারতের প্রেসিডেন্ট আমাদের বিজয় দিবসে যোগ দিচ্ছেন। ঢাকাস্থ ভারতীয় দূতাবাস মৈত্রী দিবস উদযাপন করছে। দিল্লিতেও মৈত্রী দিবসে যোগ দেবেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানা। তা ছাড়া বাংলাদেশের পঞ্চাশ বছর ঘিরে নানা অনুষ্ঠান হচ্ছে, নানামাত্রিক প্রকাশনা বের হচ্ছে, সেমিনার ও সম্মেলন হচ্ছে। এসবে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের নানা দিক উন্মোচিত হচ্ছে।

অস্বীকার করার করার উপায় নেই, মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী ছাই-ভস্মের মধ্যে দাঁড়িয়ে একেবারে শূন্য থেকেই যাত্রা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। বহুমাত্রিক প্রতিকূলতার মধ্যেও জাতিকে দিশা দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু। তার নেতৃত্বে প্রথমে অধিকার প্রতিষ্ঠার রাজনৈতিক আন্দোলন এবং পরে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালি পেয়েছে নিজেদের জন্য একটি স্বদেশ। স্বাধীন দেশে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে করেই কীভাবে এগিয়ে যাওয়া যায়, সে উদাহরণ তিনি দেশবাসীর সামনে স্থাপন করছিলেন তার স্বল্পকালীন শাসনামলে। বঙ্গবন্ধু দ্রুত পুনর্বাসন শেষ করে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে বিশ্বাসী ছিলেন বলে এই অল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় প্রায় তিনগুণ বেড়ে ২৭৩ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছিল। ওই অভিযাত্রায় ষড়যন্ত্রকারীদের কারণে যদি ছেদ না পড়ত, তা হলে আজ আমরা কোথায় থাকতাম- তা ভাবতেই অবাক লাগে!

বঙ্গবন্ধু যে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের অভিযাত্রা শুরু করেছিলেন, তার সুযোগ্যকন্যা সে ধারাকে আরও বেগবান করেছেন। একটি ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’র দেশকে কী করে আমরা উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত করলাম, সে গল্পটি এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে বলা হয়নি। পঁচাত্তরের পর থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি ৭ গুণেরও বেশি বেড়ে ২০২০ সালে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৮৮ টাকায়। বিশেষ করে গত ১০-১২ বছরে এ ক্ষেত্রে নাটকীয় গতি এসেছে। লক্ষ করার বিষয়- ১৯৭৫ থেকে এখন পর্যন্ত মাথাপিছু আয়ে যে বৃদ্ধি ঘটেছে, তার ৭৩ শতাংশই হয়েছে গত এক দশকে। আর মূলত ভোগ থেকেই এসেছে এ প্রবৃদ্ধি। সে কারণেই বাংলাদেশের উন্নয়ন এতটা অংশগ্রহণমূলক। এ শতাব্দীর শুরু থেকেই বাংলাদেশের জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান কমতে কমতে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১৩.৭ শতাংশে নেমে এসেছে। আর সেই ফাঁকা স্থান প্রধানত পূরণ করেছে শিল্প খাত। শিল্প খাতের প্রসার মানেই আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের প্রসার। তবে উল্লেখ্য যে, জিডিপিতে কৃষির শতকরা অবদান কমে এলেও কৃষি উৎপাদন বেড়েছে। পাশাপাশি গ্রামীণ আয়ের ৬০ শতাংশই এখন আসছে অকৃষি খাত থেকে। অর্থাৎ আমাদের অর্থনীতি প্রকৃত অর্থেই বহুমুখী হয়ে উঠেছে।

অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার সুফল সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা নাগরিকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনুকরণীয় সাফল্য দেখিয়েছে। এই শতাব্দীর শুরুতে বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার ছিল প্রায় ৪৯ শতাংশ এবং অতিদারিদ্র্যের হার ছিল ৩৪ শতাংশ। দুই দশকের মধ্যে দারিদ্র্যের হার অর্ধেকেরও বেশি কমিয়ে ২২ শতাংশে এবং অতিদারিদ্র্যের হার দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি কমিয়ে ১১ শতাংশে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে মহামারীজনিত অচলাবস্থার ফলে এ দুটি হার ইতোমধ্যে বেড়েছে। তবুও অর্থনীতি দ্রুত ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বলে দারিদ্র্য নিরসনে ফের আমাদের সাফল্য আসতে শুরু করেছে।

বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক অর্জন ও সম্ভাবনাগুলোকে বিবেচনায় নিয়েই কর্নেলি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসু বাংলাদেশের সাফল্যের তিনটি প্রধানতম কারণ চিহ্নিত করেছেন। প্রথমত, তার মতে- বাংলাদেশের সরকার জাতীয় অগ্রযাত্রায় দেশের অসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে (অর্থাৎ এনজিওগুলোকে) কাজে লাগাতে সক্ষম হয়েছে। ফলে সামাজিক পরিবর্তনে তারা সরকারের পরিপূরক ভূমিকা রাখতে পেরেছে কার্যকরভাবে। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশে উন্নয়নমুখী কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত এক দশকে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির যে নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছে, সেটিও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনে, বিশেষত অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে বলে তিনি মনে করেন। তৃতীয়ত, বাংলাদেশের তুলনামূলক তরুণ জনশক্তি ও সস্তা শ্রমের সহজলভ্যতা দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক শক্তি বৃদ্ধির প্রধানতম নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে। সব মিলিয়ে করোনাজনিত বৈশ্বিক আর্থিক মন্দা আসার আগের সময়টায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থার তুলনা চলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অব্যবহিত পরে পঞ্চাশের দশকের সিঙ্গাপুর, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানের সঙ্গে। ওই দেশগুলো সে সময় থেকে পরবর্তী ২৫ বছর ধরে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। তাদের প্রবৃদ্ধির ওই ধারাকেই ‘এশিয়ান গ্রোথ মডেল’ বলা হয়। বাংলাদেশও বর্তমানে ওই পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।

বিচক্ষণতাসম্পন্ন নেতৃত্বের ধারা অব্যাহত আছে বলেই বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরেই বাংলাদেশ আজ তরতর করে এগিয়ে যাচ্ছ। নিঃসন্দেহে অনেক চ্যালেঞ্জ ছিল, এখনো আছে। কিন্তু বাংলাদেশ সেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে সাহসিকতার সঙ্গেই। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো অনেকটাই কার্যকর করা গেছে। ফলে প্রবৃদ্ধি যেমন হয়েছে, তেমনি অর্জনগুলোকে সুরক্ষা দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি হয়েছে।

প্রায় পাঁচ দশক আগে বঙ্গবন্ধু যখন প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা জাতির সামনে হাজির করেছিলেন, তখনো বাংলাদেশ বিপুলসংখ্যক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি ছিল অভ্যন্তরীণ ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে। একই রকম সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে ২০২১ সালে জাতির সামনে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা হাজির করেছেন তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এমন স্বাস্থ্যগত বিপর্যয় ও মহামারীজনিত অর্থনৈতিক অচলাবস্থা থেকে পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে একটি সুদূরপ্রসারী নীতিকাঠামোর আওতায় আনার এই প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে সাহসী নেতৃত্বের প্রতিফলন। অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পকিল্পনার মেয়াদকালে প্রায় ৬৫ লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে প্রায় সোয়া এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির যে লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, সেটিকে বিদ্যমান বাস্তবতায় খুবই সময়োপযোগী বলে মনে হচ্ছে। যেহেতু এই পরিকল্পনায় বিনিয়োগের ৮২ শতাংশই ব্যক্তি খাত থেকে আসবে, সেহেতু ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগের গতি ও মান বৃদ্ধির বিকল্প নেই। তাই নীতিনির্ধারকরা বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নের মাধ্যমে ব্যক্তি খাতের অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছেন। অস্বীকার করা যাবে না যে, আয়ের বৈষম্য বাড়ছে। তবে ভোগের বৈষম্য সেই তুলনায় অনেকটাই কম। কিন্তু অতিধনীদের হাতে প্রচুর অর্থ জমা হচ্ছে বলে আয়ের বৈষম্য কমানো বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে গেছে।

মহামারীর কারণে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা খাতের ঝুঁকি এবং গুরুত্ব নতুন করে স্পষ্ট হয়েছে। জীবন-জীবিকার স্বার্থেই এসব খাতে আসন্ন বাজেট এবং পুরো অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সময়জুড়েই উল্লেখযোগ্য হারে সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে হবে। গবেষণা ও প্রশিক্ষণ খাতেও সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে হবে। কৃষিই যে বাংলাদেশের রক্ষাকবচ, তা এখন প্রমাণিত। তাই এ খাতের আধুনিকায়ন, বহুমুখীকরণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, নিরাপদকরণ, বাজারজাতকরণ, সংরক্ষণ, রপ্তানিকরণ ও সবুজায়নের জন্য প্রয়োজনীয় নীতি-সমর্থন ও বাড়তি বিনিয়োগ অপরিহার্য। আরএমজি খাতের ওপর গুরুত্ব না কমিয়েও আইসিটিকে প্রবৃদ্ধির নয়া চালকের আসন করে দিতে হবে। প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনকে সঙ্গী করেই বাংলাদেশের সরবরাহ চেইনকে স্থানীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও দক্ষ করা সম্ভব। অবকাঠামো বরাবরই প্রবৃদ্ধি-সহায়ক। রেল, শিপিং, বন্দর, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, দক্ষতা উন্নয়নের প্রতিষ্ঠান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন এবং এসবের জন্য উপযুক্ত অর্থায়নের কাঠামো গড়ে তুলতে সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে নীতি-অগ্রাধিকার প্রদান ও সেসবের দ্রুত বাস্তবায়ন খুবই জরুরি। তবে এখনো আমাদের অর্থনীতি ও সমাজে নানামাত্রিক চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। বিশেষ করে দুর্নীতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও গুণমানের বাস্তবায়নের মতো প্রতিবন্ধকতা যে রয়েছে, তা তো অস্বীকার করার উপায় নেই। আর এখানেই সব পর্যায়ে শক্তিশালী নেতৃত্ব এবং প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।

গত ১০-১২ বছরে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ও সার্বিক সামাজিক-মানবিক উন্নয়ন যে ব্যাপক গতিপ্রাপ্ত হয়েছিল, করোনা মহামারীর কারণে তাতে একটি ছেদ পড়েছে। তাই অধিকাংশ দেশের তুলনায় মহামারী মোকাবিলায় পারদর্শিতা দেখানো নিয়ে খুব বেশি আত্মতুষ্টিতে ভোগার সুযোগ নেই। তবে এ কথাও সত্য- বাংলাদেশের যে সম্ভাবনাগুলো মহামারীর আগে ছিল, সেগুলো এখনো রয়ে গেছে। এ জন্য অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াতেও ওই সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগিয়েই এগোতে হবে।

ডিসেম্বর মাসজুড়েই আমরা বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনাগুলো নিয়ে আলাপ করব, লিখব। তরুণ প্রজন্মকে এসব কিছুই জানাব। তাদের স্বদেশ ও জাতির পিতাকে ভালোবাসতে বলব। তবেই না আমাদের রক্তের দামে কেনা বাংলাদেশের উন্নয়নের গতিকে টেকসই করতে সক্ষম হব। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, ‘দেশে জন্মালেই দেশ আপন হয় না। দেশকে জানতে হয়, ভালোবাসতে হয়।’ আসুন, এ মাসে এ দুটি কাজ আমরা নিষ্ঠার সঙ্গে করি।

ড. আতিউর রহমান : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক ও সাবেক গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক

advertisement
advertisement