advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

হাফ পাস ও নিরাপত্তা
উন্নয়নের সঙ্গে সেবার সমন্বয় প্রয়োজন

২ ডিসেম্বর ২০২১ ১২:০০ এএম
আপডেট: ১ ডিসেম্বর ২০২১ ১১:৪৫ পিএম
advertisement

শিক্ষার্থীদের হাফ পাসের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বাস মালিক সমিতির ঘোষিত পদক্ষেপে সমস্যার সুরাহা হলো না। কয়েকটি সড়ক দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপটে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের গাড়িচালক নিয়ে যে চিত্র বেরিয়েছে তাতে বোঝা যায় ব্যবস্থাপনার গলদ কত ব্যাপক। দুর্নীতি এবং অব্যবস্থাপনার শিকার হয়ে আমাদের দেশে সুশাসন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এ কথাও বলা দরকার, নগরে যাতায়াত ও যোগাযোগব্যবস্থায় বিপুল উন্নতি ঘটালে হয়তো যানজট কমবে। কিন্তু তাতে যাত্রী ও পথচারীর সেবা ও কল্যাণ কি নিশ্চিত হবে? এ বিষয়ে ঘোরতর সন্দেহ থেকে যাচ্ছে। আমাদের দেশে সাধারণত ঢাকঢোল পিটিয়ে বহু ব্যয়ে মহা-আড়ম্বরের সঙ্গে উন্নয়ন ঘটানো হলেও স্থাপনাটি রক্ষণাবেক্ষণ এবং এর ব্যবহারকারী ও উপকারভোগীদের দিকটি একদমই ভাবা হয় না। কথা হলো উন্নয়ন তো কেবল ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকদের জন্য হবে না, তা তো হতে হবে সর্বসাধারণের জন্য। সরকার ব্যয় করলে তা জনগণের করের টাকা, আবার বৈদেশিক ঋণ ব্যয় করলে তার বোঝা বহন করবে সেই জনগণই। তাই সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব।

বাংলাদেশে সড়ক ও যানবাহনের তুলনায় দুর্ঘটনার হার বেশি। সাধারণত বিভিন্ন দেশে সিংহভাগ দুর্ঘটনা ঘটে আন্তঃনগর হাইওয়েতে, কিন্তু বাংলাদেশে দেখা যাচ্ছে ব্যস্ত নগরীর মধ্যেই ঘটে চলেছে মারাত্মক দুর্ঘটনা। শোনা যায় ঢাকা দিনে দিনে একটি মন্থর নগরীতে পরিণত হয়েছে, তা হলে সেখানেই বা কেন দুর্ঘটনা ঘটবে? তার জন্য মূলত দায়ী চালকরা, চালকদের কঠিন শাস্তি থেকে রক্ষা করছে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সিন্ডিকেট। আর এই সিন্ডিকেটের বড় নেতারা রয়েছেন সরকারের মধ্যে। ফলে আইনের মাধ্যমে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো ও সড়ককে নিরাপদ করার উপায় থাকছে না। আবার বাংলাদেশে চাহিদার তুলনায় চালকের সংখ্যা কম। নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিয়ে চালক পদে নিয়োগের প্রক্রিয়াও সহজ নয়। তার ওপর দুর্নীতির কারণে হাল্কা যানবাহন চালানোর লাইসেন্স নিয়ে ভারী যানবাহন চালাচ্ছেন অনেকে। এটিও দুর্ঘটনার একটি বড় কারণ।

আমাদের মনে হয় শিক্ষার্থীদের অনুকূলে কোনো পদক্ষেপ নিলে তা কেবল রাজধানীর জন্য হলে বৈষম্য তৈরি হবে এবং অন্যান্য শহরে আন্দোলনের ইন্ধন জোগাবে। ফলে এ ব্যাপারে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। তার সঙ্গে করপোরেশনের মতো অন্যান্য সেবামূলক সংস্থায় যেন সেবার মান ও দক্ষতা বজায় থাকে সেদিকেও সরকারকে নজর দিতে হবে। করপোরেশনের ক্ষেত্রে বলাই যায় যে, সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ ও দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার ও পরিচালনার উপযোগী বাজেট সংস্থান প্রয়োজন। উন্নয়ন হলেই হবে না, তার দক্ষ ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনাও নিশ্চিত করতে হবে। গণপরিবহনে শৃঙ্খলা চাই, সড়কে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চাই এবং সেবার মানোন্নয়ন চাই। এটি সরকারের কাছে নাগরিকদের প্রাপ্য। আশা করি সরকার দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে বর্তমান বিশৃঙ্খলা ও অচলাবস্থার নিরসন করবে।

advertisement
advertisement