advertisement
advertisement

সব খবর

advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শত বছর
শিক্ষার মানের পাশাপাশি বাড়াতে হবে শিক্ষার্থীর সক্ষমতা

৩ ডিসেম্বর ২০২১ ১২:০০ এএম
আপডেট: ২ ডিসেম্বর ২০২১ ১০:১২ পিএম
advertisement

দেশের প্রথম ও প্রধান উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীর সক্ষমতা- দুটিই বৃদ্ধি করতে হবে। আদতে গত কয়েক দশকে আমাদের স্কুলপর্যায়ের শিক্ষার মান নিচে নেমেছে, শিক্ষার্থীদের ভিত্তিটা থেকে যাচ্ছে নড়বড়ে। ফলে তারা উচ্চশিক্ষার চাহিদা পূরণে সক্ষম হচ্ছে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মান পড়ে যাওয়ার পেছনে অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর চাপসহ আরও কারণ থাকলেও মানের ক্ষেত্রে মূল সংকট শিক্ষার্থীর প্রস্তুতির ঘাটতি। স্কুলে তারা বাংলা ও ইংরেজি- কোনো ভাষাতেই দক্ষ হয় না, পরীক্ষার প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ করার তাড়নায় কোনো বই-ই পূর্ণাঙ্গ পড়ে না। আজকাল শোনা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও পাঠ্যবই না পড়ে কেবল নোটবই মুখস্থ করে পরীক্ষায় পাস করা যায়। ফলে শিক্ষামন্ত্রী ঠিকই বলেছেন- যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দশ বছরের মধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে গবেষণার স্বীকৃতি পেয়েছিল, সেটিকে আজ বিশ্বের ৫০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকাতেও খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। এটি অবশ্যই হতাশাজনক এক বাস্তবতা।

১৯২১ সালের ১ জুলাই যাত্রা শুরু হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের। করোনা অতিমারীর কারণে একাধিকবার উদ্যোগ নিয়েও শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠান পেছাতে হয়েছে। এ অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেই শুধু নয়; এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীন বাংলাদেশকে পুনর্গঠন থেকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন- সব ক্ষেত্রেই ছাত্র-শিক্ষকদের ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বলা হয় আন্দোলনের সূতিকাগার। কেবল শিক্ষার্থীরাই নয়, এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও ভাষা আন্দোলনসহ প্রতিটি প্রগতিশীল আন্দোলন-সংগ্রামে সামনে থেকে সক্রিয় ছিলেন। এমনকি ভাষা আন্দোলনের অনেক আগে ১৯২৬ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকরা শুরু করেছিলেন বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন। তাদের বক্তব্য ছিল- জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট; মুক্তি সেখানে অসম্ভব। আজ প্রায় শতবর্ষ পরে আমরা বুদ্ধির আড়ষ্টতা ও জ্ঞানচর্চার সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছি। ওই প্রথম দশকের মধ্যে পদার্থবিজ্ঞানের তরুণ অধ্যাপক সত্যেন বসু যে গবেষণা করেছিলেন, এ জন্য তার নাম উচ্চারিত হয় আইনস্টাইনের সঙ্গে এবং একটি অণুর নামকরণ হয়েছে তার নামানুসারে ‘বোসন’।

একশ বছর পর শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে ছত্রিশ হাজারে পৌঁছেছে, শিক্ষকের সংখ্যা একশর ঘর ছাপিয়ে হাজারের ঘরে পৌঁছেছে আর অবকাঠামোগত অবয়বে বিশাল রূপান্তর ঘটে গেছে। কিন্তু শুরু থেকে সত্তরের দশক পর্যন্ত প্রথম ষাট বছরে যে গৌরবময় ঐতিহ্য গড়ে উঠেছিল, তা এখন আর নেই বললেই চলে। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের বাইরে খুব কম শিক্ষকের নাম শোনা যায়। দেশের জ্ঞানচর্চা, সংস্কৃতিচর্চা, ক্রীড়াঙ্গনে শিক্ষার্থীদের নামও তেমন শোনা যায় না। তবে আমরা তারুণ্যের ও জ্ঞানের শক্তির ওপর বিশ্বাস রাখতে পারি। এ দুইয়ের যখন মিলন হবে, তখনই ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় আবারও জ্বলে উঠবে, ঐতিহ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ভূমিকা পালনে সক্ষম হবে। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আমরাও শতবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এ শুভকামনা জানাই।

advertisement
advertisement