advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement

গণফোরাম একাংশের কাউন্সিল
সরকারের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ার আহ্বান নেতাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ ডিসেম্বর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ৩ ডিসেম্বর ২০২১ ১১:০১ পিএম
advertisement

সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। তারা বলেন, এ সরকারকে বিদায় করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে এ আন্দোলনের নেতৃত্ব বিএনপিকেই দিতে হবে। এর পর জাতীয় সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে, এ সরকারই ঠিক করবে, কীভাবে সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা যায়। গতকাল শুক্রবার রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে গণফোরামের একাংশের ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে নেতারা এসব কথা বলেন।

দলেরই অন্য অংশের এ সম্মেলনে শুভেচ্ছাবার্তা দিয়েছেন গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন। লিখিত বার্তায় বলেন, ‘আমি অসুস্থতার কারণে আপনাদের সামনে সশরীরে উপস্থিত হতে পারিনি। তবে আপনাদের এ জাতীয় কাউন্সিলের সমাবেশকে স্বাগত

ও আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি এবং আপনাদের সাফল্য কামনা করছি। আমি সব সময় ঐক্যের কথা বলেছি। আশা করি, গণফোরামের সব নেতাকর্মী ও সমর্থক ঐক্যবদ্ধভাবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, আইনের শাসন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করবে।’

নেতৃত্ব বিভক্তির জের হিসেবে ড. কামালের নেতৃত্বাধীন গণফোরাম দুই অংশে বিভক্ত হয়ে পড়ে গত বছর। দুই অংশই আলাদাভাবে জাতীয় কাউন্সিলের তারিখ ঘোষণা করে। দলটির একাংশের নেতৃত্বে আছেন সাবেক নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, সুব্রত চৌধুরী ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু। এ অংশেরই কাউন্সিল হয় গতকাল। অন্য অংশের নেতৃত্বে আছেন মোকাব্বির খান এমপি, আওম শফিউল্লাহ, মোশতাক আহমেদ। এ অংশের সঙ্গে রয়েছেন ড. কামাল হোসেন। এ অংশের কাউন্সিল জানুয়ারিতে হওয়ার কথা।

জাতীয় কাউন্সিলে সকালে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এবং দুপুরে কাউন্সিল অধিবেশন হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক আবু সাইয়িদ। স্বাগত বক্তব্য দেন ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের সদস্য সচিব সুব্রত চৌধুরী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গণস্বাস্থ্য সংস্থার ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী দেশের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে বলেন, এ সরকারকে বিদায় করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। আসুন সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে এ সরকারের বিরুদ্ধে একটি গণ-আন্দোলন গড়ে তুলি। আমি আশা করি, গণফোরামের নেতাকর্মীরা এ গণ-আন্দোলনে রাজপথে থাকবে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা গুরুতর জানিয়ে তিনি বলেন, আমি তাকে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলাম। তার অবস্থা ক্রিটিক্যাল, কখন কী হয় বলা যায় না। কাউন্সিলে উপস্থিত বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালামের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জাফরুল্লাহ বলেন, আমি তাদের একটি অনুরোধ করেছি। তারেক রহমানের নেতৃত্ব নিয়ে আমি কোনো কথা বলছি না। আজ তারেকের উচিত- প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে ফোন করে বলা, আমাকে পছন্দ করেন আর না করেন, মায়ের জন্য সবাই দোয়া করেন। তার জীবন বাঁচান। তারেক আরও ১০০ বুদ্ধিজীবীকেও ফোন করে বলবেন, আপনাদের প্রতি অনুরোধ, আমার মায়ের জীবন বাঁচান। আর মির্জা ফখরুলসহ সবাই প্রতিটি পার্টির কাছে যাবেন এবং বলবেন- আসেন, আমরা সবাই ঈদগাহ মাঠে এক ঘণ্টার জন্য সমবেত হই। এ সময় বিচারপতিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা খালেদা জিয়াকে জামিন দিতে পারেন। আমি তো মামলা তুলে নেওয়ার কথা বলছি না।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, এ সরকার একটি ফ্যাসিস্ট, স্বৈরাচারী, অনির্বাচিত, ভোট ডাকাতি ও গণবিরোধী সরকার। এ সরকারকে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা থেকে হটাতে হবে। এ জন্য দেশের মানুষ আজ আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী বলেন, খালেদা জিয়াকে বিদেশে যেতে দিন। মানবতা দেখিয়েছেন, আরেকটু দেখান। খালেদা জিয়ার বিষয়ে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) সংবাদ সম্মেলনে যা বলেছেন, তা আমি সমর্থন করি। কিন্তু তা আবেগের বশবর্তী হয়ে বলেছেন, যা সংবিধানের আলোকে বলতে পারেন না। বিএনপিকে দেশের বড় বিরোধী রাজনৈতিক দল অভিহিত করে তিনি বলেন, বিএনপির নেতৃত্বেই এ দেশে বিরোধীদলীয় ঐক্য গড়ে উঠতে হবে, বিএনপিকেই এ দায়িত্ব পালন করতে হবে। নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, খালেদা জিয়া অসুস্থ। তাকে দ্রুত বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানো খুব জরুরি। এ সরকার খুবই অমানবিক, তারা তাকে বিদেশ পাঠাবে না।

কেন্দ্রীয় নেতা জগলুল হায়দার আফ্রিকের পরিচালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী, আবদুস সালাম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, জাসদের নাজমুল হক প্রধান, বিকল্পধারার শাহ আহমেদ বাদল, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, গণফোরামের মোস্তফা মহসিন মন্টু, জেএসডির তানিয়া রব প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

#