advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement

বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা নাট্যোৎসব শুরু

সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক
৪ ডিসেম্বর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ৪ ডিসেম্বর ২০২১ ০৩:০৫ এএম
advertisement

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ এবং বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তীকে স্মরণীয় ও প্রাঞ্জল করতে মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়ের আয়োজনে শুরু হলো ১১ দিনব্যাপী বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা নাট্যোৎসব। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নন্দনমঞ্চে এ উৎসব উদ্বোধন করা হয়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও স্বাধীন বাংলাদেশের সংস্কৃতির অগ্রযাত্রায় অসামান্য ভূমিকা রাখা ৫০ বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রদীপ প্রজ¦ালনের মাধ্যমে উৎসব উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মাননীয় মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তরীয় পরিয়ে এবং ক্রেস্ট উপহার দিয়ে সম্মান জানানো হয়। এর পর কামরুল হাসান ফেরদৌসের কোরিওগ্রাফিতে গীতিআলেখ্যা ‘স্মরণে ৭১’ পরিবেশন করে বহর। অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত কবিতা পাঠ করেন কিশোরগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধা লাল মাহমুদ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্যে বিশিষ্ট সংস্কৃতিজন বীর

মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দিন ইউসুফ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর যে যার কাজে ফিরে গেছেন, কিন্তু যারা সংস্কৃতি ভালোবাসেন, তারা এখনো এর সঙ্গেই আছেন। এখন আমরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী একসঙ্গে পালন করছি। এ সময়টি যারা দেখছেন, তারা ভাগ্যবান। এটা ঠিক যে এ দেশে এখনো মৌলবাদ, জঙ্গিবাদ মাথা উঁচু করতে চাইছে, তবে তাদের পরাজিত করে নতুন বাংলাদেশ সৃষ্টি করব আমরা। আর আমাদের সঙ্গ দেবে আমাদের তরুণরা, যারা সংস্কৃতিকে ভালোবাসে, দেশকে ভালোবাসে।

এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সংস্কৃতিজন ড. ফওজিয়া মোসলেম, মফিদুল হক ও ম হামিদ। তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধ আমাদের বিশাল শক্তি। এ শক্তি এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে ছড়িয়ে যাবে। মুক্তিযুদ্ধের সময় যেসব কবি, বাউল, সাহিত্যিক, শিল্পী সবাই মিলে সংস্কৃতিকে তুলে ধরেছে, সেই সংস্কৃতির শক্তি নিয়ে এগিয়ে যাবে দেশ। তা থেকে শিক্ষা নিয়ে সহনশীলতায় তরুণ প্রজন্ম গড়বে সম্প্রীতির বাংলাদেশ। মৌলিকভাবে উন্নয়ন ঘটবে বাংলাদেশের।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা দুটি সমার্থক শব্দ। একটি থেকে আরেকটি আলাদা করা যায় না। আমরা যুদ্ধ করে যে সাম্প্রদায়িকতা রুখে দিয়েছিলাম, তা আবার একটি গোষ্ঠী ছড়িয়ে দিচ্ছে। কিন্তু এই যে আমাদের সংস্কৃতি, এর ফলে এখন আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধ জাগ্রত হয়ে আছে। আমাদের নতুন যে প্রজন্ম, সেই তরুণদের এখন দায়িত্ব মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে দেশকে গড়ে তোলা।

সভাপতির বক্তব্যে উৎসব উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন বলেন, আমাদের বুকের মধ্যে যে জয় বাংলা সেøাগান, আমাদের যে জাতীয় পতাকা, এই যে মুখের ভাষা, সব আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান। তাদের নিয়ে আমরা এমন একটি আয়োজন করতে পেরে আনন্দিত।

আলোচনা পর্ব শেষে ঢাক-ঢোলের বাদ্যের সঙ্গে প্রদীপ জ্বালিয়ে এবং শিশু বন্ধুদের বেলুন ওড়ানোর মধ্য দিয়ে নাট্য উৎসবের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার পরীক্ষণ থিয়েটার হলে মহাকাল নিবেদিত নাটক ‘ঘুমনেই’ মঞ্চায়ন করা হয়। নাসির উদ্দীন ইউসুফ রচিত এ নাটকটি নির্দেশনা করেছেন জন মার্টিন।