advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

ছাত্রদলের সমাবেশে যে হুঁশিয়ারি দিলেন ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ ডিসেম্বর ২০২১ ০২:২০ পিএম | আপডেট: ৪ ডিসেম্বর ২০২১ ০৬:৪৫ পিএম
সমাবেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি : আমাদের সময়
advertisement

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত দলের চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য মুক্তি দাবি করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সরকারের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‌‘তা না হলে আন্দোলন শুরু হবে, যে আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হবে এবং সেই আন্দোলনই হবে সরকার পতনের আন্দোলন।’

আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের উদ্যোগে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে অনুষ্ঠিত সমাবেশে মির্জা ফখরুল এ হুঁশিয়ারি দেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আমরা চাই। কেন তার মুক্তি চাই? কারণ, তাকে মিথ্যা মামলায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য সাজা দেওয়া হয়েছে। চক্রান্তমূলকভাবে এখন জীবন থেকে সরিয়ে দিতে দেশনেত্রীকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। এজন্য আমরা দেশনেত্রীর মুক্তি চাই এবং তাকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার কথা জানাতে (সরকারের কাছে) চাই। ’

এ সময় ‘৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ, এরাশাদ বিরোধী আন্দোলনে খালেদা জিয়ার ভূমিকার কথা তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ২ জুলাই পাকিস্তান সেনাবাহিনী দুই শিশু সন্তান তারেক রহমান (বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) ও আরাফাত রহমান কোকো (প্রয়াত) সহ খালেদা জিয়াকে (ঢাকা) গ্রেপ্তার করে। সেখান থেকেই দেশনেত্রীর সংগ্রাম শুরু। ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাকে ক্যান্টনমেন্টে বন্দী করা রাখা হয়। এরপর যখন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয়েছিল, আবার বাংলাদেশের স্বাধীনতার পতাকা তুলে ধরতে জাতীয়তাবাদের পতাকাকে তুলে ধরতে বাংলাদেশের মানুষের অধিকার আদায়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া রাস্তায় নেমেছিলেন। স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে তিনি ৯ বছর রাজপথে থেকে সংগ্রাম করেছেন। পথে পথে, গ্রাম থেকে গ্রামে, বন্দর থেকে বন্দরে গণতন্ত্রের জনগণের সিক্ত ভালোবাসায় খালেদা জিয়া দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। তিনি জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। ’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া রাজপথে জনগণের সঙ্গে থেকে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। আবার ২০০৮ সাল থেকে বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। সেই নেত্রী আজ এভারকেয়ার হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। খালেদা জিয়ার মতো ত্যাগ স্বীকার করেছেন কয়জন নেতা বর্তমানে আছেন? যে নেত্রী এখনো গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। সেই নেত্রীকে আপনারা (সরকার) বন্দি করে রেখেছেন। ’

সরকারের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনারা জানেন, তাকে বন্দি করে রাখা গেলে, অসুস্থ অবস্থায় বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানো না হলে-এ অবস্থায় তার জীবন চলে গেলে আপনাদের পথের কাঁটা দূর হবে। এটা হয় না। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হত্যার পর বলা হয়েছিল, শেষ হয়ে গেল বিএনপি, শেষ হয়ে গেল বাংলাদেশের নেতা, কিন্তু হয়নি। দেশনেত্রীর সঠিক নেতৃত্বে বিএনপি আরও শক্তিশালী হয়েছে। আবার তিনি সঠিক নেতৃত্ব বাছাই করেছেন, আমাদের নেতা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তারেক রহমানের নেতৃত্বে আবারও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় আন্দোলন করতে হবে। ’

তিনি বলেন, ‘দেশে যদি গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চাই, ভোটাধিকার আদায় করতে চাই, দেশের জনগণের সকল মৌলিক অধিকার আদায় করতে চাই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আবারও রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনতে হবে। এজন্য তরুণ, ছাত্র, যুবকদের আবারও জেগে উঠতে হবে। ’

ছাত্রদলের বর্তমান ও সাবেক নেতাদের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমাদেরকে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে, আমাদের নেতা তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। এজন্য যেকোনো ত্যাগ স্বীকারের জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে। আমি সরকারকে বলবো, আপনারা খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে উন্নত চিকিৎসায় বিদেশে যাওয়ার সুযোগ দিন। তা না হলে আন্দোলনের মাধ্যমে দেশনেত্রীকে মুক্ত করা হবে, সেই আন্দোলনই হবে সরকার পতনের আন্দোলন।’

ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামনের পরিচালনায় আরও বক্তব্য রাখেন- সাবেক ছাত্রদল নেতা আমান উল্লাহ আমান, ড. আসাদুজ্জামান রিপন, নাজিম উদ্দিন আলম, ফজলুল হক মিলন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, এবিএম মোশাররফ হোসেন, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, আমিরুল ইসলাম খান আলীম, সেলিমুজ্জামান সেলিম, আব্দুল কাদির ভূইয়া জুয়েল, বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ, হাসান মামুন, মামুন হাসান, আকরামুল হাসান, ছাত্রদলের কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবন, মামুন খান, আমিনুল ইসলাম আমিন, সাইফ মাহমুদ জুয়েল প্রমুখ।

সমাবেশে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী যোগ দেন। একই দাবিতে দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে সমাবেশ করেছে স্থানীয় ছাত্রদল।

advertisement
advertisement