advertisement
advertisement

সব খবর

advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

শিক্ষায় পরিবর্তন
উপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য দরকার মেধাবী উদ্যোগী শিক্ষক

১৩ জানুয়ারি ২০২২ ১২:০০ এএম
আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০২২ ১২:৫৭ এএম
advertisement

আমাদের সময়ের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে দেশের একজন বরেণ্য বুদ্ধিজীবী শিক্ষাব্যবস্থায় নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ঘন ঘন পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এ কথা ঠিক, সেই পাকিস্তান আমল থেকেই এ দেশে শিক্ষায় ঘন ঘন রদবদল করা হয়েছে। তাতে খুব লাভ হয়েছে এমন নয়। স্বাধীন বাংলাদেশেও শিক্ষা হলো এমন একটি খাত যাতে অবাধে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলে। শিক্ষা যেহেতু একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং জ্ঞানসাধনা সব সময়ই পরিবর্তন সাপেক্ষ তাই হয়তো বারবার রদবদলের পক্ষে যুক্তি হাজির করা যায়। এই নিরীক্ষা প্রধানত চলে থাকে স্কুল পর্যায়ের শিক্ষায়। অথচ আমাদের উচ্চশিক্ষায় প্রত্যাশা অনুযায়ী মানসম্পন্ন শিক্ষার্থী পাওয়া যায় না- এ অভিযোগ বহুদিনের। আর শিক্ষাও যে আশানুরূপ ফল দিতে পারছে না সে কথা স্বীকার করতেই হবে। এই অবস্থায় বিশিষ্ট শিক্ষাবিদের সঙ্গে আমরাও একমত যে, বারবার পরিবর্তনের চেয়ে প্রয়োজন হলো বাস্তবায়নযোগ্য ব্যবস্থার প্রবর্তন।

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদের সঙ্গে কথা বলার উপলক্ষ ছিল প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় যে উদ্যোগ নিয়েছে সেটি। দীর্ঘদিনের সমালোচনার পর সরকার এ পর্যায়ের শিক্ষাকে মুখস্থবিদ্যা ও পরীক্ষাকেন্দ্রিকতা থেকে শিক্ষার্থীর অভিজ্ঞতানির্ভর ব্যবস্থায় রূপ দিতে চাইছেন। এটি উন্নত বিশ্বের একটি ব্যবস্থা এবং এতে তারা সফল হয়েছে। এ ব্যবস্থায় পাঠ্যবই, পরীক্ষা বা মুখস্থবিদ্যার তেমন সুযোগ থাকবে না। শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের সহযোগিতায় জ্ঞানার্জনের কাজ করবে। এতে তাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাই হবে শিক্ষার মূল উৎস। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তারা নির্ধারিত যোগ্যতাগুলো অর্জন করবে। আপাতত চলতি বছর কেবল দেশের ষাটটি স্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে এ নতুন পদ্ধতি নিয়ে পরীক্ষামূলক কাজ বা পাইলটিং হবে।

সবাই একমত হবেন যে, স্কুল শিক্ষায় একটি পরিবর্তন জরুরি। কেননা বর্তমান মুখস্থনির্ভর পরীক্ষাকেন্দ্রিক ধারায় সৃজনশীল পদ্ধতিও অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ফলে একটি মৌলিক গুণগত পরিবর্তন সময়ের দাবি। সেই প্রয়াসই নেওয়া হচ্ছে নতুন পদ্ধতিতে। তবে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদের মতোই আমরাও বলব, এ কাজের সাফল্যের জন্য বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে শিক্ষকদের যোগ্যতা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং তাদের এ ব্যবস্থা গ্রহণে মানসিক ও জ্ঞানগত প্রস্তুতি নিশ্চিত করা। এ ক্ষেত্রে ঘাটতি রেখে সামনে এগোনো যাবে না। তার মতোই আমরাও বলব, শিক্ষকতায় মেধাবী উদ্যোগী শিশুবান্ধব তরুণদের আনতে হলে তাদের বেতন-ভাতা ও সামাজিক মর্যাদার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে। আমরা আশা করব বরেণ্য শিক্ষাবিদ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী এবং তার মতো অভিজ্ঞ গুণীজনদের মতামতকে এই পরিবর্তনের ধারায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। আমরা সবাই চাই শিক্ষায় যুগান্তর ঘটুক এবং সরকার শিক্ষাকে আগামী দিনের মেগা প্রকল্প হিসেবেই গণ্য করুক।

advertisement
advertisement