advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

প্রতিকূলতা সামলে সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে

অতিমারীতে অর্থনীতি

১৪ জানুয়ারি ২০২২ ১২:০০ এএম
আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০২২ ১১:৩২ পিএম
advertisement

কোভিড-১৯ অতিমারী বিশ্ববাসীর জন্য নতুন বাস্তবতা তৈরি করায় প্রায় দুই বছর পর বিশ্ব অর্থনীতি একটু স্বাভাবিকতার দিকে ফিরছিল। কিন্তু এ রোগের নতুন ধরন ওমিক্রনের ব্যাপক সংক্রমণে আবারও পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের অভিমত হলো, ওমিক্রন বিস্তারের ফলে এই বছর বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির হার ৪ দশমিক ১ শতাংশের বেশি হবে না। আর এর জেরে ২০২৩ সালে তা নেমে যাবে ৩ দশমিক ৮ শতাংশে। এই পরিস্থিতি শিল্পোন্নত বিশ্ব সামলে নিতে পারলেও উন্নয়নশীল ও দরিদ্র দেশের ভোগান্তি বৃদ্ধি করবে। গত দুই বছরে বিশ্বে চাকরি ও রোজগার হারিয়েছে বহু মানুষ, নতুন দরিদ্র সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক হারে। বিপরীতে নতুন কর্মসংস্থান হয়নি, বরং অর্থনৈতিক কার্যক্রমের পরিসর সংকুচিত হয়েছে। ফলে বিশ্বের প্রেক্ষাপটে আগামী দিনগুলো মোটেও ভালো চলবে বলে মনে হয় না।

বাংলাদেশের অবস্থা এত খারাপ নয়। করোনা অতিমারীর মধ্যেও আমাদের অর্থনীতির চাকা কখনো থামেনি, এমনকি অল্পকিছু ক্ষেত্র ছাড়া তা কোথাও মন্থরও হয়নি। বিশ্বব্যাংক মনে করছে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের ওপরেই থাকবে। আশা করা যাচ্ছে, প্রতিকূলতার মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনীতির এই প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে।

দেশের অর্থনীতির মূল তিন বুনিয়াদি ভিত্তির মধ্যে কৃষি ও অভিবাসী শ্রমজীবীদের রেমিট্যান্স কখনো থামেনি। তৈরি পোশাক প্রথম পর্বে করোনার আঘাতে বিপর্যস্ত হলেও পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হতেই দ্রুত সামলে উঠেছে। বর্তমানে পর্যটন, বিমান চলাচল, হোটেল ও সেবা খাতের সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যবসাও চালু হয়েছে। তবে এ কথা ঠিক, এই কয়েক বছরে দেশে দরিদ্রের সংখ্যা বেড়েছে, বেকার বেড়েছে এবং নতুন চাকরি ও রোজগারের পথও খোলেনি। একই সঙ্গে সাংসারিক সহিংসতাসহ সামাজিক অপরাধও বেড়েছে ভয়াবহভাবে।

এ কথা ঠিক, বড় বড় প্রকল্প চালু থাকলে বাংলাদেশের অর্থনীতির সব সূচকের গড় হিসাব ভালোই থাকবে। কিন্তু ব্যক্তিপর্যায়ে নতুন বেকার ও নতুন দরিদ্র যে বাড়ছে এবং এর জেরে ধনী-দরিদ্র বৈষম্যও যে বেড়ে চলেছে, তা অস্বীকার করা যাবে না। একটি গণতান্ত্রিক কল্যাণরাষ্ট্রে এমনটা হওয়ার কথা নয়। এই সময়ে দেশে সামাজিক অপরাধও অনেক বেড়েছে। আর দেশের ঐতিহ্য বজায় রেখে একদিকে মামলার জট বাড়ছে, অন্যদিকে বিচার না পাওয়া মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে। পরিস্থিতি কতটা নাজুক ও নেতিবাচক, এর দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল এবারের স্থানীয় সরকারের নির্বাচন। এতে সংঘাত ও খুন-জখম অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। আমরা আশা করব, সরকার ও নাগরিক সমাজ এ ক্ষেত্রে একযোগে কাজ করে পরিস্থিতি সামলে নেবে। ফলে আমাদের অর্থনীতির সঙ্গে সামগ্রিক উন্নয়নও নিশ্চিত হবে।

advertisement
advertisement