advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

দেশে ফিরেই অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব হারালেন সৌদিপ্রবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক,বগুড়া
১৪ জানুয়ারি ২০২২ ১০:০৮ পিএম | আপডেট: ১৪ জানুয়ারি ২০২২ ১১:৩১ পিএম
শেরপুর থানা, বগুড়া
advertisement

বগুড়ার শেরপুরের জাহিদুল ইসলাম (৩০) নামের এক সৌদিপ্রবাসী দেশে ফিরেই অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন। ঢাকার উত্তরা থেকে শাহ ফতেহ আলী পরিবহন নামের একটি যাত্রীবাহী বাসে বাড়ি ফেরার পথেই অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়েন তিনি।

পরে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আজ শুক্রবার দুপুরে তার স্ত্রী জান্নাতি খাতুন শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার গাড়ীদহ ইউনিয়নের ভদ্রপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম। পাঁচ বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমান তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিমানযোগে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন তিনি।

বিমানবন্দর থেকেই ঢাকার উত্তরায় যান জাহিদুল। সেখানে অবস্থিত শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের কাউন্টার থেকে টিকিট নিয়ে বেলা সাড়ে এগারোটার বাসে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। কিন্তু বাসের মধ্যেই প্রবাসী জাহিদুল ইসলামকে অজ্ঞান করে তার কাছে থাকা ৫০ হাজার টাকা, হ্যান্ড ব্যাগে থাকা আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার, দুইটি মোবাইল ফোন, তিনটি বড় ব্যাগভর্তি মালামাল লুটে নেওয়া হয়। এছাড়া তার কাছে থাকা সৌদি রিয়াল ও ডলারের পরিমাণের বিষয়টি নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা হয়নি। এরপর অচেতন অবস্থায় গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে শেরপুর উপজেলার দশমাইল এলাকাস্থ পল্লী উন্নয়ন একাডেমির সামনে তাকে ফেলে রেখে বাস চলে যায়।

প্রবাসীর স্ত্রী জান্নাতি খাতুন বলেন, মহাসড়কের পাশে স্বামীকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তাকে খবর দেওয়া হয়। পরে তিনিসহ পরিবারের অন্যরা এসে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে এখনো তার জ্ঞান এখনও ফেরেনি।

তিনি আরও বলেন, শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের ওই বাসের চালক ও তার সহকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, যাত্রী জাহিদুল ইসলামের পাশে সিটের যাত্রীসহ দুইজন যাত্রী টাঙ্গাইলের নেমে গেছেন। এছাড়া কোথাও কোনো যাত্রী নেমে যায়নি। সম্ভবত তারাই অজ্ঞান পার্টির সদস্য। যাত্রীবেশে বাসে উঠে তার পাশের সিটে বসেন এবং কোনো কিছু খাইয়ে তাকে অচেতন করে ফেলেন। এরপর সব কিছু লুটে নিয়ে নেমে গেছেন বলে তাদের ধারণা।

এ প্রসঙ্গে শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেইসঙ্গে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং খোয়া যাওয়া মালামাল উদ্ধারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যেই সেটি করা সম্ভব হবে বলে আশাবাত ব্যক্ত করেন তিনি।

advertisement
advertisement