advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement

ঢাবির গণহত্যার স্মারক দেখলেন বিদেশি সেনারা

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ জানুয়ারি ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৪ জানুয়ারি ২০২২ ১০:৫২ পিএম
advertisement

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণহত্যার স্মারকসহ ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো নিয়ে গঠিত ‘চলমান জাদুঘর’ ঘুরে দেখলেন বিদেশি সেনা কর্মকর্তারা। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সিনিয়র ডিরেকটিং স্টাফ রিয়ার অ্যাডমিরাল এম ময়েনুল হকের নেতৃত্বে গতকাল শুক্রবার তারা হেঁটে এসব স্থান পরিদর্শন করেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নারকীয় গণহত্যার ঐতিহাসিক স্থানগুলোকে নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচয় করিয়ে দিতে ২০১৮ সাল থেকে ‘চলমান জাদুঘর’ কার্যক্রম শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর জেনোসাইড

স্টাডিজ (সিজিএস)।

সিজিএসের গবেষণা সহযোগী জিএম আরিফুজ্জামান জানান, ১৯৭১ সালে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর নারকীয় গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও মর্যাদা আদায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে যে গণহত্যা হয়েছিল, সেটা ২৫ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছিল। আমরা আজকে যে জায়গাগুলো ঘুরে দেখলাম, প্রত্যেকটা জায়গায় ১৯৭১ সালে গণহত্যার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঐতিহাসিক স্থানগুলোকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে আমাদের সেন্টারের যে ডিপ্লোমা কোর্স রয়েছে, সেখানে ‘ওয়াকিং মিউজিয়াম’ নামে এই কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

বিদেশি সেনা কর্মকর্তাদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা ঘটনা ও স্থান সম্পর্কে তুলে ধরেন মুক্তিযোদ্ধা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক অজয় দাশগুপ্ত।

সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ১৯৭১ সালের ২ মার্চ প্রথম স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলনের স্থান থেকে বিদেশি অতিথিদের পরিদর্শন শুরু হয়। একে একে একাত্তরের শহীদ ১৯৫ জন ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক ও কর্মচারীর তালিকাসংবলিত স্মৃতি চিরন্তন, ব্রিটিশ কাউন্সিল, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, জগন্নাথ হল, ঐতিহাসিক ৭ মার্চের জনসভাস্থল সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ডাকসু সংগ্রহশালা ঘুরে দেখার পর মধুর ক্যান্টিনে কিছুক্ষণ কাটান তারা।

অজয় দাশগুপ্ত বলেন, মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে এখানে ১৯৫ জন ছাত্র, শিক্ষক ও কর্মচারী আত্মাহুতি দিয়েছিলেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ধুলিকণায় মিশে আছে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের রক্ত। গণহত্যার এসব স্থান ও স্থাপনাগুলো আসলে জীবন্ত জাদুঘর, এগুলোকে আমরা চলমান জাদুঘর নাম দিয়েছি।

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, সিজিএসের উদ্যোগে তরুণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে হেঁটে এসব ঐতিহাসিক স্থান ঘুরে ঘুরে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাথা শোনানো হয়।

সম্প্রতি বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা জানতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন যে, একাত্তরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কী ঘটেছিল, কী ধরনের গণহত্যা পরিচালিত হয়েছিল। আজকে ১৯টি দেশের সেনাবাহিনীর প্রায় ৩০ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এসেছেন। মুক্তিযুদ্ধের একজন প্রত্যক্ষদর্শী ও যোদ্ধা হিসেবে আমি তাদের একাত্তরের ঐতিহাসিক ঘটনাবলি তুলে ধরেছি।

এর আগে ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট ডিকসন ও তার স্ত্রী টেরিজা আলবর, মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলার, জাতিসংঘ মিশনপ্রধান মিয়া সেপো, তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মুস্তাফা ওসমান তুরান এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) প্রধান জয়েন্দু ডি এই চলমান জাদুঘর ঘুরে দেখেন।