advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

করোনা ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীবহনে ৫০ শতাংশ পরিবহন শ্রমিক

তৈয়ব সুমন, চট্টগ্রাম
১৫ জানুয়ারি ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৪ জানুয়ারি ২০২২ ১০:৫২ পিএম
advertisement

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আসনের সমান সংখ্যক যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন চালানোর আদেশ এসেছে। সে সঙ্গে সব চালক ও সহযোগীকে করোনা টিকার সনদ রাখার বাধ্যবাধকতাও রাখা হয়েছে। অথচ এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম নগরীর শ্রমিকদের অর্ধেকের বেশিই করোনার টিকা পাননি। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য বলছে, তাদের অগ্রাধিকারভিত্তিক টিকা দেওয়ার জন্য সরকার থেকে কোনো নির্দেশনা নেই।

করোনা সংক্রমণের এই সময় চট্টগ্রামে প্রতিদিন শনাক্ত দিগুণ হচ্ছে। সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৯৬ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। সংক্রমণ হার ছিল ১৪.৫২ শতাংশ। অথচ তার আগের দিন চট্টগ্রামে এ হার ছিল মাত্র ১০ শতাংশের মধ্যে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের তথ্যমতে, চট্টগ্রাম অঞ্চলে ট্রাক, বাস, হিউম্যান হলার, সিএনজি, টেম্পু, পিকআপ ভ্যানসহ চালক ও সহযোগী শ্রমিক আছেন প্রায় এক লাখ। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বিআরটিএর রোড পারমিট অনুসারে নগরীতে ১ হাজার ১৮১টি গণপরিবহন রয়েছে। কিন্তু রোড পারমিট ছাড়া আরও প্রায় দেড় হাজার গাড়ি চলছে। সবমিলিয়ে নগরীর রাস্তায় প্রায় ২৭০০ গণপরিবহন চলাচল করছে। এসব গাড়িতে প্রায় ৫ হাজার ৩০০ শ্রমিক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

সংগঠনটির দেওয়া তথ্য থেকে জানা যায়, ১ লাখ পরিবহন শ্রমিকদের প্রায় অর্ধেকই নিজ উদ্যোগে করোনা টিকা নিয়েছেন। সংগঠন কিংবা প্রশাসনের বিশেষ ব্যবস্থায় তাদের টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এসব শ্রমিকরা কতজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ও মারা গেছেন তার পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। যদিও ফেডারেশন নেতাদের দাবি, করোনায় এখনো কোনো পরিবহন শ্রমিক মারা যাননি। নগরীর পাঁচটি

টার্মিনালে শ্রমিকদের করোনা টিকা দেওয়ার জন্য গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়, জেলা ও নগর পুলিশের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে পরিবহন শ্রমিক ও মালিকদের সংগঠন পরিবহন মালিক-শ্রমিক গ্রুপ। চিঠিতে নগরীর বহদ্দারহাট, অক্সিজেন, অলঙ্কার, কদমতলী ও মাদারবাড়ি বাস টার্মিনালে করোনা টিকা দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়।

চট্টগ্রাম মহানগর বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম বলেন, পরিবহন শ্রমিকদের অনেকেরই এনআইডি কার্ড নেই। এখন পর্যন্ত মাত্র অর্ধেক চালক-সহযোগী শ্রমিক টিকার আওতায় এসেছে। এখন ১১ দফা যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তাতে টিকা সনদ ছাড়া গাড়ি চালাতে পারবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী অর্ধেক শ্রমিক গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হতে পারবে না। এটা নিয়ে আমরা বেশ চিন্তায় আছি। আমরা এ বিষয়ে নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেছি। আগামী ১৭ জানুয়ারি বিষয়টি নিয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের কাছে একটি আবেদন জমা দেব।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পরিবহন মালিক গ্রুপের মহাসচিব বেলায়েত হোসেন বেলাল বলেন, সরকার যেভাবে স্কুল-কলেজ, তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের বিশেষভাবে টিকার আওতায় আনছে। সেভাবে পরিবহন শ্রমিকদেরও টিকা দিতে পারত। কিন্তু সেটা করা হয়নি। এখন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, টিকা সনদ ছাড়া গাড়ি চালাতে পারবে না। বিষয় নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। কারণ নির্দেশনা অনুযায়ী আমাদের চালক-সহযোগীরা আইনগত বাধার সম্মুখীন হবেন। তবে আশা করছি, শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যরা সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যাটির সমাধান করবেন।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের চট্টগ্রাম অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক অলি আহমদ আমাদের সময়কে বলেন, পরিবহন শ্রমিকরা নিজ উদ্যোগে নিজ এলাকায় করোনা টিকা নিয়েছেন। এখন আমরা পাঁচটি টার্মিনালে শ্রমিক ও নগরীর পরিবহন শ্রমিকদের জন্য আলাদা করে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে অনুরোধ করেছি।

এদিকে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী আমাদের সময়কে বলেন, পরিবহন শ্রমিকদের বিশেষ ব্যবস্থায় করোনা টিকা দেওয়ার কোনো নির্দেশনা সরকার থেকে আসেনি। তবে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া শেষ হলে তাদেরও দেওয়া হবে।

advertisement
advertisement